তিন বছরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আসেনি, ঋণ করে খোলা স্কুল — পরের ধাপ ভিটে বিক্রি
করোনার আগে স্কুলটি সুনামের সঙ্গে লাভেই চলছিল। দীর্ঘ বন্ধের পর টানা তিন বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আসেনি; ঋণ করে স্কুল খোলা রাখা হয়েছে, আর ঋণ শোধে ভিটেমাটি বিক্রির আশঙ্কা।
খুলনার খানজাহান আলী থানার গিলাতলার এই স্কুলটি করোনার আগে ভালোই চলছিল; পরিচালকের ভাষায়, "সুনামের সঙ্গে ও লাভজনকভাবেই প্রতিষ্ঠানটি চলছিল।" দীর্ঘ বন্ধের পর টানা তিন বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন আদায় হয়নি, অথচ স্কুল খোলা রাখার খরচ থামেনি — তাই ঋণ করে চালাতে হয়েছে। তিনি বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে ঋণ শোধ করতে ভিটেমাটি বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। আশপাশের কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন এর মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। খুলনা মহানগর, জেলা ও উপজেলা মিলিয়ে ৭৫৬টি কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কাজ করতেন, তাঁদের ওপর নির্ভরশীল ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষ — অনেকেই এখন ঋণ করে বা পারিবারিক সম্পত্তি বিক্রি করে চলছেন। লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানও নগদের টানে পড়ে যেতে পারে, আর ঋণটা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার নয়, মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ঘাড়ে চাপে।
যা শেখার আছে
- ১.লাভজনক স্কুলও নগদের অভাবে পড়ে যায় — বেতন বন্ধ হলে মালিক ঋণ করেন, আর সেই ঋণ ব্যবসার নয়, ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর গিয়ে বসে
- ২.ভিটে বন্ধক রেখে স্কুল টিকিয়ে রাখার চেয়ে আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়ার খরচ কম হতে পারে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
