মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

কিন্ডারগার্টেন স্কুল

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিবন্ধন ফি ৳৮,০০০–১৫,০০০, সংরক্ষিত তহবিলে স্থায়ী আমানত ৳২৫,০০০–১,০০,০০০, নিবন্ধনের মেয়াদ ৫ বছর।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
কিন্ডারগার্টেন স্কুল

কিন্ডারগার্টেন স্কুল

শুরুর পুঁজি
৳২,০০,০০০ – ৳২০,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
৭ – ১৫ জন
প্রথম বিক্রি
৬০ – ১২০ দিন
সরকারি সূত্র
খরচ উঠতে
১২ – ৩৬ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

বাংলাদেশে নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন ও প্রিপারেটরি স্কুল — পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ায় এমন সবই — বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩-এর আওতায় পড়ে। বিদেশি কারিকুলামে চলা ইংরেজি মাধ্যম স্কুল এর বাইরে। কাজটা দুই ধাপে হয়। প্রথমে পাঠদান অনুমতি — ফরম ‘ক’-তে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে আবেদন, ফি মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে ৳৫,০০০, জেলা সদরে ৳৩,০০০, অন্য যে কোনো জায়গায় ৳২,০০০। সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে অনুমতি দেওয়া হয়, আর সেই অনুমতির মেয়াদ এক বছর। দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধন — মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে ফরম ‘গ’-তে আবেদন, ফি মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে ৳১৫,০০০, জেলা সদরে ৳১০,০০০, অন্যত্র ৳৮,০০০। নিবন্ধন দেন বিভাগীয় উপ-পরিচালক, মেয়াদ পাঁচ বছর, নবায়ন হয় নিবন্ধন ফির অর্ধেক দিয়ে, আর আবেদন করতে হয় মেয়াদ শেষের অন্তত ৬০ দিন আগে। জমির শর্ত ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির সংশোধনীতে শিথিল হয়েছে — মেট্রোপলিটন এলাকায় ০.০৩ একর, পৌরসভায় ০.০৫ একর, অন্যান্য এলাকায় ০.৩০ একর, অথবা নিজস্ব বা ভাড়ায় অন্যূন ৩,০০০ বর্গফুটের ভবন। ভাড়া হলে বিদ্যালয়ের নামে অন্তত তিন বছরের লিখিত চুক্তি ৳৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে থাকতে হবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য অন্যূন ছয়জন শিক্ষক লাগবে, তাঁদের যোগ্যতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান হতে হবে, আর ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ৩০:১। শিক্ষকের বেতন পুরোটাই বিদ্যালয়ের — আইনে স্পষ্ট লেখা, এই দায় সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে না।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৬০,০০০ – ৳৫,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৩৫০ – ৳২,৮০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
পরিবর্তনশীল খরচ৳২৩৩ – ৳২,২২২ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার২০% – ৩৩%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৬০ – ১২০ দিনসরকারি সূত্র
খরচ উঠে আসার সময়১২ – ৩৬ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ৪৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৩০ – ১৮০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • সংরক্ষিত তহবিল — বিধি ১২(২) অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র আকারে বা তফসিলি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে: মেট্রোপলিটন এলাকায় ৳১,০০,০০০, জেলা সদরে ৳৭৫,০০০, উপজেলা সদর ও পৌরসভায় ৳৫০,০০০, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৳২৫,০০০। ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্বানুমোদন ছাড়া তোলা বা ভাঙানো যাবে না। ব্যক্তির নামে বিদ্যালয় হলে বিধি ১৩ অনুযায়ী অতিরিক্ত ৳৫,০০,০০০ স্থায়ী আমানত, এবং কেবল লভ্যাংশ খরচযোগ্য।শুরুর মাল
  • নিবন্ধন — একই বিধিমালার বিধি ৫। আবেদন ফরম ‘গ’-তে, পাঠদান অনুমতির মেয়াদ শেষের ৩০ দিন আগে। ফি: মেট্রোপলিটন সিটি ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৳১৫,০০০, জেলা সদরে ৳১০,০০০, অন্যত্র ৳৮,০০০। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ৩০ দিনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৩০ দিনে সুপারিশ করেন, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (বিভাগীয় উপ-পরিচালক) ৩০ দিনে ফরম ‘ঙ’ অনুযায়ী সনদ দেন। মেয়াদ ৫ বছর; নবায়ন নিবন্ধন ফির ৫০ শতাংশ দিয়ে, আবেদন মেয়াদ শেষের অন্যূন ৬০ দিন আগে।লাইসেন্স
  • ব্যবস্থাপনা কমিটি — প্রধান শিক্ষক পদাধিকারবলে সদস্য-সচিব, ১ জন শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবকদের নির্বাচিত ২ জন প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতাদের ২ জন প্রতিনিধি। ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী কমিটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে ৩ বছর; প্রতি ২ মাসে অন্তত ১টি সভা; কোরামের জন্য সদস্য-সচিবসহ অন্যূন ৩ জন।লাইসেন্স
  • পাঠদান অনুমতি — বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধি ৪। আবেদন ফরম ‘ক’-তে, উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে। ফি: মেট্রোপলিটন সিটি ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৳৫,০০০, জেলা সদরে ৳৩,০০০, উপজেলা সদরসহ অন্য যে কোনো স্থানে ৳২,০০০, ট্রেজারি চালানে নির্ধারিত কোডে। আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সনদ, মেয়াদ ১ বছর।লাইসেন্স
  • শিক্ষক — প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য অন্যূন ৬ জন। তাঁদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সমান হতে হবে। নিয়োগের আগে অন্যূন একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি, আর নিয়োগ বোর্ডে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মনোনীত একজন প্রতিনিধি বাধ্যতামূলক। শিক্ষাবর্ষ শেষের ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বার্ষিক রিপোর্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে দিতে হবে।দক্ষতা
  • পাঠ্যপুস্তক — জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বই আবশ্যিকভাবে পাঠ্যপুস্তক তালিকায় রাখতে হবে এবং এনসিটিবি প্রণীত বা সরকার নির্ধারিত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে।সরবরাহকারী
  • জমি ও ভবন — বিধি ১৯(১), ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর সংশোধনী অনুযায়ী: নিজস্ব মালিকানায় বা ভাড়ায় মেট্রোপলিটন এলাকায় অন্যূন ০.০৩ একর, পৌরসভা এলাকায় ০.০৫ একর, অন্যান্য এলাকায় ০.৩০ একর; অথবা নিজস্ব বা ভাড়ায় অন্যূন ৩,০০০ বর্গফুটের ভবন। ভাড়ার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের নামে অন্তত ৩ বছরের লিখিত চুক্তি ৳৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। সঙ্গে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের কক্ষ, বিশুদ্ধ পানি, পর্যাপ্ত আলাদা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, খেলার জায়গা, গ্রন্থাগার ও ফার্স্ট এইড বক্স।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জমি বা ভবনের শর্ত আগে মিলিয়ে নিন। নিজস্ব মালিকানায় বা ভাড়ায় মেট্রোপলিটন এলাকায় অন্যূন ০.০৩ একর (তিন শতাংশ), পৌরসভা এলাকায় ০.০৫ একর (পাঁচ শতাংশ), অন্যান্য এলাকায় ০.৩০ একর (ত্রিশ শতাংশ) — অথবা অন্যূন ৩,০০০ বর্গফুটের ভবন।
  2. 2ভাড়ায় নিলে বিদ্যালয়ের নামে অন্তত তিন বছরের লিখিত ভাড়া চুক্তি ৳৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করুন। এই কাগজ না থাকলে আবেদন এগোয় না।
  3. 3ফরম ‘ক’-তে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠদান অনুমতির আবেদন করুন। ফি নির্ধারিত কোডে ট্রেজারি চালানে জমা দিতে হয় — মেট্রোপলিটন ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৳৫,০০০, জেলা সদরে ৳৩,০০০, উপজেলা সদরসহ অন্য যে কোনো জায়গায় ৳২,০০০।
  4. 4সরেজমিন পরিদর্শনের অপেক্ষা করুন। সন্তুষ্ট হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফরম ‘খ’ অনুযায়ী পাঠদান অনুমতি সনদ দেন, আর তার মেয়াদ এক বছর।
  5. 5পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত, সম্ভব না হলে অন্তত তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করে পাঠদান শুরু করুন। শুধু নার্সারি-কেজি নিয়ে শুরু করার সুযোগ বিধিমালায় নেই।
  6. 6অন্যূন ছয়জন শিক্ষক নিয়োগ দিন। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান হতে হবে, নিয়োগের আগে অন্যূন একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে, আর নিয়োগ বোর্ডে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মনোনীত একজন প্রতিনিধি রাখতে হবে।
  7. 7প্রতি শ্রেণিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ৩০:১ রাখুন। এর বেশি হলে আলাদা শাখা খুলতে হবে, আর তার জন্য নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি লাগবে।
  8. 8ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করুন — প্রধান শিক্ষক (সদস্য-সচিব), একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবকদের নির্বাচিত দুইজন প্রতিনিধি আর উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতাদের দুইজন প্রতিনিধি। ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী কমিটি উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন নিতে হবে। কমিটির মেয়াদ তিন বছর, আর প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সভা করতে হবে।
  9. 9সংরক্ষিত তহবিল খুলুন এবং সঞ্চয়পত্র আকারে বা তফসিলি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে টাকা জমা রাখুন — মেট্রোপলিটন এলাকায় ৳১,০০,০০০, জেলা সদরে ৳৭৫,০০০, উপজেলা সদর ও পৌরসভায় ৳৫০,০০০, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৳২৫,০০০। ব্যবস্থাপনা কমিটির পূর্বানুমোদন ছাড়া এই টাকা তোলা বা ভাঙানো যাবে না।
  10. 10ব্যক্তির নামে বিদ্যালয়ের নামকরণ করতে চাইলে উদ্যোক্তাকে ৳৫,০০,০০০ স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষিত তহবিলে জমা রাখতে হবে, আর কেবল ওই টাকার লভ্যাংশ উন্নয়ন কাজে খরচ করা যাবে। আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত এমন বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
  11. 11পাঠদান অনুমতির এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে ফরম ‘গ’-তে নিবন্ধনের আবেদন করুন — ফি মেট্রোপলিটন ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৳১৫,০০০, জেলা সদরে ৳১০,০০০, অন্যত্র ৳৮,০০০। এই ৩০ দিনের আগে কাজ শুরু না করলে পাঠদান অনুমতি বাতিল হয়ে যায়।
  12. 12জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বই পাঠ্যতালিকায় রাখুন এবং এনসিটিবির শিক্ষাক্রম অনুসরণ করুন। নিবন্ধন পাঁচ বছর পরপর নবায়ন করতে হয়, নিবন্ধন ফির অর্ধেক দিয়ে, আর আবেদন করতে হয় মেয়াদ শেষের অন্তত ৬০ দিন আগে।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনকম
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বিভাগীয় শহর, তাই পাঠদান অনুমতি ৳৫,০০০ ও নিবন্ধন ৳১৫,০০০ — ফি বেশি, কিন্তু জমির শর্ত সবচেয়ে কম আর ছাত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা বেশি।
  • খুব উপযোগীঢাকা · জমির শর্ত এখানেই সবচেয়ে সহজ — মেট্রোপলিটন এলাকায় ০.০৩ একর বা ৩,০০০ বর্গফুটের ভবনেই চলে, অথচ শহরের বাইরে লাগে ০.৩০ একর। সঙ্গে অভিভাবকের সামর্থ্য ও চাহিদা দুটোই বেশি।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক কারখানার শ্রমিক পরিবারের ঘন বসতি ও দ্রুত বাড়ন্ত পৌর এলাকা — পৌরসভায় জমির শর্ত ০.০৫ একর, যা গ্রামের তুলনায় অনেক সহজ।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · শিল্পাঞ্চল ঘিরে ভাড়াটে পরিবারের সংখ্যা বেশি, আর মেট্রোপলিটন ও পৌর এলাকা হওয়ায় ভবন ভাড়া নিয়েই শর্ত পূরণ করা যায়।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরাঞ্চলের বড় জেলা শহর — সদরে ভবন ভাড়া করে শর্ত মেটানো যায়, তবে উপজেলা পর্যায়ে গেলেই ০.৩০ একর জমির শর্ত এসে পড়ে।
  • সম্ভবকুমিল্লা · প্রবাসী পরিবার বেশি বলে ফি দেওয়ার সামর্থ্য আছে, আর জেলা সদরে ফি মাঝারি — পাঠদান অনুমতি ৳৩,০০০, নিবন্ধন ৳১০,০০০।
  • সম্ভবখুলনা · বিভাগীয় শহর ও আশপাশের পৌর এলাকা — শর্ত মেটানো সহজ, তবে শহরে ইতিমধ্যে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনেক স্কুল আছে।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · বিভাগীয় শহর ও বড় গ্রামীণ পশ্চাদভূমি; সদরে ভবন ভাড়া করে শুরু করা যায়, আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কাছেই।
  • সম্ভবরংপুর · বিভাগীয় শহর হওয়ায় জমির শর্ত সহজ, কিন্তু অভিভাবকের ফি দেওয়ার সামর্থ্য ঢাকার তুলনায় কম, তাই ছাত্রসংখ্যা বাড়াতে সময় লাগে।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবার বেশি, আর ইংরেজি পড়ানোর চাহিদা এখানে তুলনামূলক বেশি।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: ছয়জন শিক্ষকের বেতন পুরোপুরি বিদ্যালয়ের দায়। বিধিমালায় স্পষ্ট লেখা — এই বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার দায় কোনোক্রমেই সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে না। ছাত্র কম হলেও ছয়জন রাখতেই হবে, কারণ সংখ্যাটা নিবন্ধনের শর্ত। আর ভর্তি বা পুনঃভর্তির নামে অনুদান আদায় বিধি ১৬(২)-তে নিষিদ্ধ, তাই ঘাটতি পোষানোর সেই চেনা পথটিও বন্ধ।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: সময়ের শর্তগুলোই এখানে সবচেয়ে বেশি ফাঁদ। পাঠদান অনুমতির এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে নিবন্ধনের কাজ শুরু না করলে অনুমতিই বাতিল হয়ে যায়। আবার নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর, আর নবায়নের আবেদন করতে হয় মেয়াদ শেষের অন্যূন ৬০ দিন আগে। একটা তারিখ ফসকে গেলে স্কুল চলতে থাকে ঠিকই, কিন্তু কাগজে অনিবন্ধিত হয়ে যায়।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: পুরো আবেদন দাঁড়িয়ে আছে জমি বা ভবনের কাগজের উপর। ভাড়া হলে বিদ্যালয়ের নামে অন্তত তিন বছরের লিখিত চুক্তি ৳৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লাগবেই — বাড়িওয়ালা তিন বছরের চুক্তিতে সই না করলে সেখানেই সব থেমে যায়। আর মেট্রোপলিটনের বাইরে শর্ত অনেক কঠিন: শহরে ০.০৩ একর হলেই চলে, কিন্তু অন্যান্য এলাকায় লাগে ০.৩০ একর — দশ গুণ।
  • মাঝারিচাহিদা: টিউশন ফি আপনি একা ঠিক করতে পারেন না। বিধি ১৬(১) অনুযায়ী শিক্ষার গুণগত মান ও অবকাঠামো বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনা কমিটি উপজেলা, থানা বা মহানগর শিক্ষা কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ফি নির্ধারণ করে। অর্থাৎ খরচ বাড়লেই ফি বাড়ানোর সুযোগ নেই, অথচ শিক্ষকের বেতন ও ভাড়া প্রতি বছর বাড়ে।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: পরিদর্শন যে কোনো সময় হতে পারে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা শিক্ষার মান, পরিবেশ ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক পরিদর্শন করতে পারেন, আর সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। নিবন্ধন সনদ বাতিল বা স্থগিত হলে আবার আবেদন করা যায়, কিন্তু ততদিনে ভর্তি মৌসুম চলে যায়।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাখুলনা গেজেটের প্রতিবেদনে খুলনার একজন কিন্ডারগার্টেন মালিক

তিন বছরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আসেনি, ঋণ করে খোলা স্কুল — পরের ধাপ ভিটে বিক্রি

করোনার আগে স্কুলটি সুনামের সঙ্গে লাভেই চলছিল। দীর্ঘ বন্ধের পর টানা তিন বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আসেনি; ঋণ করে স্কুল খোলা রাখা হয়েছে, আর ঋণ শোধে ভিটেমাটি বিক্রির আশঙ্কা।

কারণ
চলতি মূলধন, চাহিদা কম
মিশ্র অভিজ্ঞতাপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঢাকার একজন কিন্ডারগার্টেন পরিচালক

২৩৫ শিক্ষার্থী থেকে নেমে দেড়শ, স্কুলের পাশে বসেছে ফলের দোকান

করোনার আগে স্কুলে শিক্ষার্থী ছিল ২৩৫ জন; দীর্ঘ বন্ধের পর নতুন ভর্তি হয়েছে প্রায় ৬০ জন, খাতায় আছে প্রায় ১৫০। স্কুল টিকিয়ে রাখতে পাশে ফলের দোকান আর একটি শ্রেণিকক্ষে পোশাকের অনলাইন বিক্রি।

কারণ
চাহিদা কম, চলতি মূলধন
যা শিখেছিপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে পাবনার একজন কিন্ডারগার্টেন পরিচালক

ভাড়া মেটাতে বিক্রি হলো স্কুলের আসবাব, তবু বন্ধ — কাজ হারালেন ১৬ জন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পরও প্রায় এক বছর স্কুলটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলে। শিক্ষার্থীদের বেতন না আসায় ভবনভাড়া মেটাতে আসবাব বিক্রি করতে হয়; শেষে স্কুল বন্ধ, ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী কাজহারা।

কারণ
চলতি মূলধন, আইনি জটিলতা

একই রকম আরও ব্যবসা

ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

আইপিএস ও ব্যাটারি বিক্রি ও সার্ভিসিং

আইপিএস বসানো আর ব্যাটারি বদলানোর দোকান। মেশিন একবার বিক্রি হয়, ব্যাটারি প্রতি ১৮–৩০ মাসে আবার — আর পুরো সেটের দামের বেশির ভাগটাই ব্যাটারির।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳৬ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

জেনারেটর ভাড়া

ডিজেল জেনারেটর কিনে ঘণ্টা, দিন বা মাস হিসেবে ভাড়া দেওয়া। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ১০০ কেভিএ সেটের দাম ৳৭,৯৫,০০০, আর ডিজেল ৳১৩৫ লিটার হওয়ায় শুধু জ্বালানিতেই ইউনিটপ্রতি প্রায় ৳৪২ পড়ে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳৯ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৭ – ৪৫ দিন
বাজারদর
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

কম্পিউটারের ছোট কোর্স শেখানোর কেন্দ্র। কোর্স ফি ছাত্রপ্রতি ৳৩,০০০–১০,০০০, কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ দিতে হলে বোর্ডের অধিভুক্তি লাগে আর ছাত্রপ্রতি ৳৪৫০ বোর্ডকে দিতে হয়।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳১২ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৫ – ৪০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

বিয়ে ও অনুষ্ঠানের ডেকোরেশন

বিয়ে ও অনুষ্ঠানের গেট, মঞ্চ, আলো ও ঘর সাজানোর ব্যবসা। ৫০–৭০ শতাংশ অগ্রিমে বুকিং হয়, তাই টাকা আসে কাজের আগেই।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান