১৯৮৩ সালের আর্টের দোকান, ডিজিটাল প্রিন্টে হারিয়ে যাচ্ছে রং-তুলির কাজ
খুলনার কয়রায় ১৯৮৩ সালে গড়া হাতে লেখা সাইনবোর্ডের দোকানটি ৩৬ বছরের বেশি টিকে আছে, কিন্তু ডিজিটাল সেন্টার আসার পর রং-তুলিতে ব্যানার লেখার বাজার প্রায় শেষ।
খুলনার কয়রার এই সাইনবোর্ড শিল্পী ১৯৮৩ সালে উপজেলা পরিষদের সামনে নিজের আর্টের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, তখন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের নামফলক লেখাতে কয়রা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে খুলনা শহরে যেতে হতো। কাছাকাছি আর্ট শেখার সুযোগ ছিল না বলে প্রায় ৪২ বছর আগে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গিয়ে একজন শিল্পীর কাছে কাজ শেখেন। এরপর উপজেলার প্রায় প্রতিটি দপ্তরের নামফলক তাঁর হাতেই লেখা হয়েছে — স্থানীয় বাজারে কেউ ছিল না বলেই কাজের একটা স্থায়ী উৎস তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ডিজিটাল যুগে মফস্বল থেকে শহর পর্যন্ত আর্টের দোকানের জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল প্রিন্টিং সেন্টার, আর রং-তুলিতে ব্যানার লেখার চর্চা বিলুপ্তির পথে। তিন যুগ পরও তিনি কাজটা ধরে রেখেছেন এবং ২০১৩ সাল থেকে উপজেলার স্কুল-মাদ্রাসায় কখনো সামান্য পারিশ্রমিকে, কখনো বিনা পারিশ্রমিকে হাতের লেখা আর অঙ্কন শেখাতে শুরু করেন, যা করোনায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেদনের সময় তাঁর বয়স ৬৩ বছর; আয় বা পুঁজির কোনো হিসাব প্রতিবেদনে নেই।
যা শেখার আছে
- ১.স্থানীয় বাজারে যে কাজটা আর কেউ করে না, সেই শূন্যতা পূরণ করলেই দীর্ঘদিনের কাজের উৎস তৈরি হয়
- ২.প্রযুক্তি বদলে গেলে হাতের দক্ষতার বাজারটাই ছোট হয়ে আসে — দোকান টিকে থাকলেও কাজ আর আগের মতো আসে না
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
