অনুমতি ছাড়া মাটি-বালু কাটায় ১ লাখ টাকা জরিমানা, তবু রাতে গাড়িপ্রতি ৭৫০ টাকায় বিক্রি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মাপাড়ের বাঁধের পাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি-বালু কেটে বিক্রি করায় এক স্থানীয় নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এরপর দিনে কাজ বন্ধ রেখে রাতে কাটা চলছিল, আর ইউএনও বলছেন নিজের জমি হলেও অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার সুযোগ নেই।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ৫০০ মিটার লম্বা হাসিমপুর বাঁধ ২০ বছর আগে সরকারিভাবে তৈরি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেখানে আগে কখনো মাটি-বালু কাটা হয়নি। এবার ইউনিয়ন পর্যায়ের এক সাবেক রাজনৈতিক নেতা খননযন্ত্র দিয়ে মাটি-বালু কাটা শুরু করেন। তিনি বলেন, নিজের জমিতে পুকুর খননের জন্য বৈধভাবে মাটি কাটছেন, কাজ চলছে প্রায় এক মাস। স্থানীয় লোকজনের হিসাবে প্রতি গাড়ি মাটি-বালু বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়, আর ভেকু ভাড়া ১৩০ টাকা; প্রতি রাতে শতাধিক গাড়ি মাটি-বালু নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। ১৯ এপ্রিল অবৈধভাবে মাটি ও বালু কাটার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তিনি দাবি করেন, এসি ল্যান্ড ভুল করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার পর দিনে কাজ বন্ধ থাকে, কিন্তু সন্ধ্যা থেকে সারা রাত কাটা চলে; তাঁর যুক্তি, দিনে গাড়ি চললে সড়কে চলাচল ব্যাহত হয়। এতে বাঁধ, গ্রামীণ সড়ক আর আশপাশের কয়েক হাজার বিঘা জমি হুমকিতে পড়েছে বলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নিজস্ব মালিকানার জমি হলেও অনুমতি ছাড়া মাটি ও বালু কাটার কোনো সুযোগ নেই, এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যা শেখার আছে
- ১.নিজের জমি হলেও মাটি-বালু কাটা ও বিক্রির আগে প্রশাসনের অনুমতি নিন; অনুমতি ছাড়া কাটলে জরিমানা ও অভিযানের ঝুঁকি থাকে।
- ২.বাঁধ, সড়ক বা ফসলি জমির পাশে খনন করলে এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও অভিযোগ ব্যবসা থামিয়ে দিতে পারে; জায়গা বাছাইয়ে সতর্ক থাকুন।
- ৩.জরিমানার পর রাতে কাজ চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকি কমায় না, বরং পরের অভিযানের সম্ভাবনা বাড়ায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
