১৩ লাখ টাকায় ১,২০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে শুরু; তিন-চার বছরে ২৫ হাজার মুরগি, দিনে ২৫ হাজার ডিম ঢাকায়
শরীয়তপুরের এক তরুণ টিউশনি ও চাকরির টাকা জমিয়ে ২০২২ সালে ঢাকার কাছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৩ লাখ টাকায় ‘আমার খামার’ শুরু করেন। বন্ধুকে নিয়ে ১,২০০ লেয়ার দিয়ে শুরু করা খামারে এখন ২৫ হাজার মুরগি, আর ডিম যায় নিজস্ব পরিবহনে ঢাকার আড়তে।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণ ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়ার সময় থেকেই নিজে কিছু করার জেদ নিয়ে টিউশনি ও একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে দুই লাখ টাকা জমান। ঢাকার কারওয়ান বাজারে ঘুরে ঘুরে কোন পণ্য কোথা থেকে আসে, পাইকারি দর কত, তা জেনে নেন। ২০১৮ সালে নিজের গ্রামে এক হাজার ব্রয়লার মুরগি আর একটি ছোট পুকুরে মাছ চাষ দিয়ে শুরু করেন। কিন্তু চেয়েছিলেন এমন জায়গায় খামার করতে, যেখান থেকে ঢাকা খুব কাছে; বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করে বেছে নেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল। ২০২২ সালে ১৩ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ১ হাজার ২০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে ‘আমার খামার’ শুরু হয়। আজ সেখানে ২৫ হাজার মুরগি, প্রতিদিন ২৫ হাজার ডিম নিজস্ব পরিবহনে ঢাকার বড় আড়ত ও দোকানে পৌঁছে যায়। এর বাইরে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ৮০০ পেঁপেগাছ ও সাড়ে চার হাজার সাগর কলার বাগান আছে, চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত আছে মৌসুমি ফসলের প্রকল্প। ৩২ জন কর্মী কাজ করেন। তিনি ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই ও বাজারদরের পরামর্শ দেওয়ার কথা বলেন এবং ২০২৬ সাল নাগাদ একটি অ্যাগ্রি রিসোর্ট চালু করার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিবেদনে খরচ বা মুনাফার হিসাব নেই।
যা শেখার আছে
- ১.বাজার বুঝে শুরু করুন: কারওয়ান বাজারে ঘুরে পণ্যের উৎস ও দর জানাই ছিল তাঁর প্রস্তুতি।
- ২.ঢাকার কাছে খামার করলে ডিম নিজস্ব পরিবহনে সরাসরি আড়তে পৌঁছানো যায়, মধ্যস্থতা ও সময় কমে।
- ৩.১,২০০ মুরগি দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে বড় হওয়া গেছে; একই সঙ্গে ফল ও কলার মতো আলাদা আয়ের পথও খোলা হয়েছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
