করোনায় ওষুধের দোকানের জোয়ার: ৬৯টি মডেল ফার্মেসি, দুই বছরে ৩০টির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি
করোনার সময় দেশে ফার্মেসি ব্যবসা দ্রুত বেড়েছে; লাজ ফার্মা তখন সারা দেশে ৬৯টি মডেল ফার্মেসি চালাত এবং দুই বছরে ৩০টির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি দোকান খোলে। তবে দোকান বাড়ায় পাড়ার কিছু ফার্মেসির বিক্রি পরে কমে গেছে।
প্রথম আলোর ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যে দেশে ফার্মেসি ব্যবসার জোয়ার এসেছে। লাজ ফার্মা লিমিটেড তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৬৯টি মডেল ফার্মেসি চালাত, যাকে প্রতিবেদনে দেশের ওষুধ খুচরা ব্যবসার সবচেয়ে বড় চেইন বলা হয়েছে। গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের নানা জায়গায় ৩০টির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি দোকান খোলে। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের কথায়, করোনায় ফার্মেসি ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, তাঁদের ব্যবসাও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মডেল ফার্মেসির যাত্রা তাঁদের হাত ধরেই শুরু, পরে অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। যেমন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ তাদের পাঁচটি বেস্ট বাই শোরুমে আলাদা ফার্মেসি কর্নার খুলেছে এবং ঢাকায় প্রায় ৫০টি বেস্ট বাই ফার্মেসি খোলার পরিকল্পনা করেছে। সরকারি হিসাবে অনুমোদিত ফার্মেসি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১,৩৩,৬২৯টি থেকে ২১,৯৬০টি বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১,৫৫,৫৮৯টিতে দাঁড়ায়; তখন মডেল ফার্মেসি ছিল ৭৩৯টি, যার অর্ধেক ঢাকায়। এর বাইরে লাইসেন্সহীন আরও প্রায় এক লাখ ফার্মেসি আছে। তবে জোয়ারের উল্টো দিকও আছে: ঢাকার ট্যানারি মোড়ের এক ফার্মেসিমালিক জানান, করোনার সময় কোনো কোনো দিন এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো, কিন্তু এলাকায় ফার্মেসি বেড়ে যাওয়ায় এখন বিক্রি কম। আবার নিউ ইস্কাটনের এক ব্যবসায়ী মিষ্টির দোকানে লোকসান হওয়ায় সেটি বন্ধ করে ফার্মেসি খুলেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ফার্মেসির চাহিদা বাড়লে নতুন দোকানও দ্রুত বাড়ে; জোয়ারের সময়ের বিক্রি ধরে হিসাব করবেন না, এলাকায় কতগুলো দোকান আছে তা আগে দেখুন।
- ২.একটি পরিচিত মডেল ফার্মেসি চেইনের ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়া নিজের দোকান খোলার আরেকটি পথ; এই চেইনটি দুই বছরে ৩০টির বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি দোকান খুলেছে।
- ৩.বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও এ ব্যবসায় আসছে; ছোট দোকানকে টিকে থাকতে লাইসেন্স ঠিক রেখে আলাদা মান দেখাতে হবে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
