নিজের চাহিদাপত্র থাকলেও তালিকার বাইরে: মালয়েশিয়ায় প্রতি কর্মীতে ১.৫২–১.৬৫ লাখ টাকা দিতে হতো সিন্ডিকেটের এজেন্সিকে
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিন ব্যবসা করা তিন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানান, কোম্পানির চাহিদাপত্র তাঁদের কাছে এলেও তালিকাভুক্ত এজেন্সির নাম ব্যবহার করতে কর্মীপ্রতি ১,৫২,০০০–১,৬৫,০০০ টাকা দিতে হতো। ৩১ মে ২০২৪-এর পর বাজারটিতে নতুন কর্মী ঢোকাও বন্ধ হয়ে যায়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আগে সমঝোতা স্মারকে এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব মালয়েশিয়াকে দেওয়া হয়। শুরুতে ২৫টি, পরে ধাপে ধাপে ১০০টি বেসরকারি এজেন্সি ও সরকারি বোয়েসেল তালিকায় আসে। মালয়েশিয়ার কোনো কোম্পানির চাহিদাপত্র চূড়ান্ত হলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টন হতো। তালিকার বাইরের তিন এজেন্সির মালিক প্রথম আলোকে বলেন, মালয়েশিয়ায় তাঁদের পুরোনো ব্যবসা, তাই কোম্পানিগুলো তাঁদের কাছেই চাহিদাপত্র পাঠায়; কিন্তু সফটওয়্যারে নাম না থাকায় চাহিদা চলে যায় তালিকার কোনো এজেন্সির কাছে। তখন সেই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মীপ্রতি ১,৫২,০০০ থেকে ১,৬৫,০০০ টাকা দিয়ে তাদের নামে কর্মী পাঠাতে হতো। দায় এড়াতে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো এই সাব-এজেন্সিদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নিত যে কর্মী কাজ না পেলে সব দায় তাদের; অথচ সরকারি কাগজে সাব-এজেন্সির নামই থাকে না। বায়রার কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, লেনদেন হতো নগদে, রসিদ ছাড়া। সরকার কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ ফি ঠিক করেছিল ৭৮,৯৯০ টাকা, কিন্তু একটি গবেষণায় দেখা গেছে একজন কর্মীর গড়ে খরচ হয় ৫,৪৪,০০০ টাকা। তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো অবশ্য বাড়তি খরচের দায় বাইরের এজেন্সিগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও ভিসা-বাণিজ্যের ওপর চাপিয়েছে। এর আগে ২০০৯, ২০১৬ ও ২০১৮ সালেও এ বাজার বন্ধ হয়েছিল; এবার অনুমোদন ও ভিসা পাওয়া কর্মীদের ৩১ মে ২০২৪-এর মধ্যে ঢুকতে বলা হয়, এরপর আর নতুন কর্মী নেওয়া হচ্ছে না। নরসিংদীর এক কর্মী সুদে ঋণ নিয়ে ৫,২০,০০০ টাকা খরচ করে গিয়েও কাজ না পেয়ে ফেরত এসেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.একটি দেশের শ্রমবাজারের ওপর পুরো ব্যবসা দাঁড় করানো ঝুঁকিপূর্ণ; এই বাজার বারবার বন্ধ হয়েছে, তাই একাধিক দেশে কাজ রাখুন।
- ২.রসিদ ছাড়া নগদ লেনদেন আর অন্যের নামে কর্মী পাঠানো আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়ায়; অঙ্গীকারনামায় সব দায় আপনার ঘাড়েই পড়তে পারে।
- ৩.কর্মীর খরচ সরকার-নির্ধারিত ফির কাছাকাছি রাখুন; অতিরিক্ত খরচে গিয়ে কাজ না পেলে কর্মী ও এজেন্সি দুজনেরই ক্ষতি।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
