ইউটিউব দেখে ৬৫ শতকে ১৮৫টি কমলাগাছ; আড়াই বছরে ৩–৪ লাখ টাকার কমলা বিক্রি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক প্রবাসফেরত ব্যক্তি ইজারা নেওয়া ৬৫ শতক জমিতে কমলা চাষ করে বাগানেই কেজি ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। চার লাখ টাকার বেশি খরচের বিপরীতে এখন পর্যন্ত তিন-চার লাখ টাকার কমলা বিক্রি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার এক প্রবাসফেরত ব্যক্তি প্রায় ১৯ বছর সৌদি আরব, সাইপ্রাস ও দুবাইয়ে কাটিয়ে ২০১৯ সালের শেষে দেশে ফেরেন। ইউটিউবে চুয়াডাঙ্গার এক চাষির কমলা বাগান দেখে তিনি সেখানে গিয়ে বাগান ঘুরে আসেন এবং ১৭৫ টাকা দরে ২০০টি চারা কেনেন, খরচ হয় ৩৫ হাজার টাকা। এক আত্মীয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকায় ১৬ বছরের জন্য ৬৫ শতক জমি ইজারা নিয়ে চাষ শুরু করেন। গ্রামের লোকেরা বলেছিল এখানে কমলা হবে না, হলেও টক হবে; ঠাট্টাও করেছে। প্রথম বছর গাছে হালকা মুকুল এলে চাষির পরামর্শে তা ফেলে দেন। আড়াই বছরের মধ্যে ১৮৫টি গাছ টিকে থাকে এবং গাছে কমলা আসে। এখন প্রতি শুক্র ও শনিবার ১৫০ থেকে ২০০ কেজি কমলা বাগানেই কেজি ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। বাগানের পেছনে চার লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে, এ পর্যন্ত তিন থেকে চার লাখ টাকার কমলা বিক্রি হয়েছে, আরও এক থেকে দেড় লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা আছে। গাছপ্রতি এখন পর্যন্ত ৪২ থেকে ৫০ কেজি বিক্রি হয়েছে; তাঁর হিসাবে পরের বছর খরচ বেশি হবে না। জাতটি চীনা, আকারে ছোট কিন্তু বেশ মিষ্টি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, জেলায় তিনিই প্রথম এ চাষে সফল।
যা শেখার আছে
- ১.ইজারা নেওয়া জমিতে বাগান করলে চুক্তির মেয়াদ গাছের ফল দেওয়ার সময়ের চেয়ে বেশি রাখুন; এখানে ১৬ বছরের ইজারা নেওয়া হয়েছে।
- ২.নতুন ফসলে নামার আগে সফল চাষির বাগান নিজে দেখে আসুন এবং প্রথম বছরের মুকুল ফেলে দেওয়ার মতো পরামর্শ মানুন।
- ৩.বাগানে বসেই খুচরা বিক্রি করলে মধ্যস্বত্বভোগী লাগে না; দর্শনার্থীরাই ক্রেতা হয়ে ওঠেন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
