৩২ লাখ খরচে মাল্টা-কমলার বাগান, প্রথম ফলনে ২২ লাখ টাকার ফল বিক্রি; বন্যায় ক্ষতি ১০ লাখ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক সাবেক প্রবাসী ইউটিউব দেখে চার একরে মিশ্র ফলের বাগান করেন। প্রথম ফলনেই ২২ লাখ টাকার ফল বেচেন, কিন্তু পরের বছরের জুলাইয়ের বন্যায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
কক্সবাজারের পেকুয়ার এক ব্যক্তি প্রায় ১৩ বছর সৌদি আরব ও কাতারে কাটিয়ে দেশে ফেরেন। প্রসাধনীর দোকান, ভাড়ার সিএনজি অটোরিকশা ও পেঁপে বাগান কোনোটিতে থিতু হতে পারেননি; কলাগাছ লাগিয়ে প্রায় আট লাখ টাকা লাভ করেও পরের মৌসুমে ফলন কমে যায়। ২০২৩ সালে বাড়ির কাছে চার একর জমি লাগিয়ত নিয়ে তিনি মিশ্র ফলের বাগান শুরু করেন। এখন সেখানে ১,৪০০ পেয়ারা, ৭৮০ বারি-১ মাল্টা, ২০টি বারোমাসি মাল্টা, ২৫০ জাম্বুরা ও ২৫০ দার্জিলিং কমলার গাছ। কৃষির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই; শেখেন ইউটিউব দেখে, আর সমস্যায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। জমি লাগিয়ত, উন্নয়ন, চারা, শ্রমিক, সেচ, সার, বেড়া ও প্যাকেটজাত করা মিলিয়ে দুই বছরে খরচ প্রায় ৩২ লাখ টাকা। প্রথম ফলনেই স্থানীয় বাজারে ২২ লাখ টাকার ফল বিক্রি হয়। এবার জুলাইয়ের বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাগান টানা ছয় দিন ডুবে থাকে, প্রায় ৩৫ হাজার পেয়ারা ও ১০ হাজার মাল্টা ঝরে যায়, অন্তত ৭০০ গাছ মারা যায়; ক্ষতি প্রায় ১০ লাখ টাকা। তবু এই মৌসুমে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন। মাল্টা কেজি ১২০–১৫০ টাকা, পেয়ারা ৮০–১০০ টাকা। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, একসঙ্গে অনেক ফল থাকায় এক ফলের দাম পড়লে অন্যটি দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যায়।
যা শেখার আছে
- ১.জমি লাগিয়ত নিয়ে শুরু করলে জমি কেনার বিশাল খরচ এড়ানো যায়, তবু দুই বছরে এই বাগানে খরচ হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। পুঁজির হিসাব আগে করুন।
- ২.পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় গাছ মরে যায়; একসঙ্গে কয়েক ধরনের ফল লাগালে একটির দাম বা ক্ষতি অন্যটি দিয়ে সামাল দেওয়া সহজ হয়।
- ৩.কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন; ইউটিউব শেখায়, কিন্তু রোগবালাইয়ে স্থানীয় পরামর্শ কাজে লাগে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
