বাজারদরের চেয়ে ১০০ টাকা কমে গরুর মাংস, কেজি ৫৮০ টাকা; দৈনিক ৪-৫টি গরু, শুক্রবার ৮-১০টি
বগুড়ার গাবতলীর এক মাংস ব্যবসায়ী প্রায় এক বছর ধরে বাজারের চেয়ে কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করে ভিড় টেনেছেন। তবে হাটের টোল নিয়ে বিরোধে পুরোনো দোকান ছাড়তে হয়েছে এবং ইজারাদারদের চাপ আছে।
রমজানের শুরু থেকে বগুড়া শহরে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭০০-৭২০ টাকার নিচে নামছিল না। এ সময় গাবতলীর কদমতলী সিএনজি স্ট্যান্ডের তিনমাথা মোড়ে এক ব্যবসায়ী (বয়স ৬০) প্রায় এক বছর ধরে ৫৮০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করছিলেন। প্রথমে দাম ছিল ৫০০ টাকা, চাহিদা বাড়ায় ৫৫০, পরে ইজারাদারদের চাপে ৫৮০ টাকা। পাশের বাগবাড়ি বাজারে একই মাংস ৬৮০ টাকা। তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে মাংস বিক্রি করছেন। আগে বাগবাড়ি বাজারে তাঁর দোকান ছিল; গত বছর টোল নিয়ে ইজারাদারের সঙ্গে বিরোধ বাধে, একটি গরু জবাইয়ে ৪ হাজার টাকা টোল চাওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি কদমতলী মোড়ে দোকান নেন। এখানে দৈনিক চার-পাঁচটি গরু বিক্রি হয়, শুক্রবার আট-দশটি। গরু কেনেন তরণীর হাট, মহাস্থানহাট, সোনাতলা কলেজ হাট, ডাকুমারা হাটসহ নানা হাট থেকে বেছে বেছে। দোকানে পাঁচজন সহকারী; কলেজপড়ুয়া ছেলে পড়ার ফাঁকে বসেন। কেউ পাইকারি কিনে অন্যত্র বেচলে খুচরা ক্রেতারা ফিরে যেতেন, তাই একজনকে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ও সর্বনিম্ন ১০০ গ্রাম বিক্রির নিয়ম করা হয়েছে। ছেলের ভাষ্য, ৭০০ টাকা কেজিতে নিম্ন আয়ের মানুষ মাংস খেতে পারে না, তাই কম দামে বিক্রি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, হাট এলাকার বাইরে কম লাভে বিক্রিতে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার ইজারাদারদের নেই। প্রতিবেদনে খরচ বা লাভের অঙ্ক নেই।
যা শেখার আছে
- ১.কম দামে বেশি ক্রেতা টানা যায়, কিন্তু বিক্রির সীমা (এখানে ১০০ গ্রাম থেকে ৩০ কেজি) না রাখলে পাইকারেরা মাল নিয়ে যায় আর খুচরা ক্রেতা বঞ্চিত হয়।
- ২.হাটের ইজারা ও টোলের নিয়ম আগে জেনে নিন; টোল-বিরোধে দোকানের জায়গা বদলাতে হতে পারে।
- ৩.ভিড় বাড়লে দামও ধাপে ধাপে বাড়াতে হয়েছে; খরচের তুলনায় দাম ঠিক রাখা জরুরি।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
