বর্গা ও রিকশা ছেড়ে ঔষধি গাছে মাসে ২৫ হাজার; বছরে ১৫ লাখের চারা ও গাছ বিক্রি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এক ভূমিহীনপ্রায় কৃষক ২০০৭ সালে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ঔষধি গাছ লাগান। এখন চার বিঘা বর্গা জমি ও নার্সারিতে বছরে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার বিক্রি, খরচ বাদে আয় প্রায় তিন লাখ।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের কেত্তারপাড়া গ্রামের ৫৬ বছর বয়সী এক কৃষকের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দুই শতকের বসতবাড়ি ছাড়া কোনো জমি ছিল না। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান-পাট চাষ করতেন, সংসার না চললে মাঝেমধ্যে রিকশাও চালাতেন। ২০০৭ সালে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ঘরের আশপাশে কালোমেঘ, বাসক, অর্জুন ও তুলসী লাগান। প্রথমে এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বাসক, অর্জুন ও তুলসী চাষে লাভ হয়, পরে আরও তিন বিঘা বর্গা নেন; এখন ধান ছেড়ে চার বিঘায় ঔষধি গাছ চাষ করেন। নিজেই কম্পোস্ট সার বানিয়ে জমিতে দেন। বাড়ির উঠানে নার্সারি আছে, যেখানে ১০ হাজার ঔষধি চারা, আর বাড়ির পাশে একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পাতা, ডালপালা ও চারা বিক্রি হয়। বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পাতা ও ডালপালা কিনে নিয়ে যায়; গাইবান্ধার বাইরে রংপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরেও চারা পাঠান। তাঁর হিসাবে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চারা ও ঔষধি গাছ বিক্রি হয়, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদে বার্ষিক আয় প্রায় তিন লাখ, অর্থাৎ মাসে ২৫ হাজার টাকা। আগামী বছর আট বিঘায় চাষের পরিকল্পনা আছে। তাঁর দেখাদেখি গ্রামের প্রায় ৩০ জন কৃষক ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন; একজন ১ বিঘায় বাসক, তুলসী ও অর্জুন চাষ করে মাসে ৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে প্রতি বিঘায় কালোমেঘ চাষে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, ফলন ২০–২২ মণ, আর প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
যা শেখার আছে
- ১.জমি না থাকলেও বর্গা নিয়ে ধীরে ধীরে ঔষধি গাছের আবাদ বাড়ানো যায়; প্রথমে ছোট পরিসরে লাভ দেখে বাড়ানো নিরাপদ।
- ২.শুধু পাতা-ডালপালা না, চারাও বিক্রি করলে আয় অনেক বাড়ে; বড় ওষুধ কোম্পানির ক্রেতা থাকা দাম নিয়ে নিশ্চয়তা দেয়।
- ৩.কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রতিটি গাছের সময়সীমা (কালোমেঘ ছয় মাস, তুলসী ৯০ দিন, বাসক ৮–১০ বছর) জেনে ফসলের চক্র সাজান।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
