১৯৪৮ সালে পাটুয়াটুলীতে শুরু, চার প্রজন্ম পরেও টিকে থাকা চশমার দোকান; লকডাউনে দিনে ৩০-৪০টি অনলাইন ডেলিভারি
১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে শুরু হওয়া মেহবুব অপটিকস ন্যায্য দাম আর সততার জোরে যুগ যুগ ধরে ক্রেতা ধরে রেখেছে; ১৯৭৭ সালে গ্রিন রোডে শাখা খোলে। মহামারিতে অনলাইন বিক্রি জোরদার করে লকডাউনের মধ্যেও দিনে ৩০-৪০টি অর্ডার পৌঁছেছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে আসা মাকসুদ আহমেদ ও তাঁর ছেলে জমির আহমেদ ১৯৪৮ সালে ঢাকার পাটুয়াটুলীতে একটি দোকান খোলেন, যা পরে মেহবুব অপটিকস নামে পরিচিত হয়। প্রায় ৭,০০০ বর্গফুটের সেই দোকানের সামনে ছিল খুচরা কাউন্টার; সিঙ্গাপুর থেকে যন্ত্র কিনে সেখানে কারখানাও বসানো হয়। ১৯৭৭ সালে গ্রিন রোডে শাখা খোলে। বর্তমান মালিক প্রতিষ্ঠাতার চতুর্থ প্রজন্ম। তাঁর মতে, দোকানটি রাতারাতি নামকরা হয়নি; ক্রেতাদের সম্মান ও সততার সঙ্গে সেবা দেওয়াই মূল কথা, ৩০০ টাকার জিনিস তাঁরা ৩,০০০ টাকায় বেচেন না। ১৯৮০ সাল থেকে আসা ক্রেতাও আছেন, অনেকে ঢাকা ছেড়ে বা বিদেশে গিয়েও তাঁদের কাছ থেকেই চশমা নেন। বেশির ভাগ কর্মী বহু বছর ধরে আছেন, কেউ কেউ ৪০ বছরেরও বেশি। মহামারিতে তিনি অনলাইন সেবা জোরদার করেন; শাটডাউনের সময় দিনে ৩০ থেকে ৪০টি ডেলিভারি হয়েছে, এখন এর জন্য আলাদা একজন লোক আছেন। দোকানে ২০০ টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকার সোনার প্রলেপ দেওয়া ফ্রেম আছে, তবে বেশির ভাগ ক্রেতা ১,০০০ টাকার মধ্যে প্যাকেজ চান। তিনি বলেন, এ দেশে চশমার দোকান খুলতে চোখের মাপ বা লেন্সের পাওয়ার বোঝার জ্ঞান লাগে না, অথচ কাঁচামাল থেকে লেন্স সবই চীন ও কোরিয়া থেকে আমদানি করতে হয়। তাই তিনি অপটোমেট্রিতে ডিপ্লোমা নিয়েছেন, নিজস্ব ব্র্যান্ডের চশমা চালু করেছেন এবং ভবিষ্যতে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ন্যায্য দাম আর সৎ ব্যবহারে ক্রেতা বছরের পর বছর ফিরে আসেন, এমনকি দূরে চলে গেলেও।
- ২.চোখের মাপ ও লেন্সের পাওয়ার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিন; শুধু ফ্রেম বিক্রি নয়, সঠিক সেবাই চশমার দোকানকে আলাদা করে।
- ৩.বেশির ভাগ ক্রেতা ১,০০০ টাকার মধ্যে চশমা চান; সেই দামে নানা নকশার ফ্রেম রাখুন, আর অনলাইনে অর্ডার নেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
