মাসে ১৮–২২ ট্রিপ নেমে ৭–৮টিতে, ১ লাখের লাভ দাঁড়াল ২০–২৫ হাজারে
সাত ট্রাকের এই মালিকের গাড়িগুলো আগে মাসে গড়ে ১৮–২২টি ট্রিপ পেত আর লাভ থাকত এক লাখ টাকার বেশি; মন্দায় ট্রিপ নেমে আসে ৭–৮টিতে, খরচ বাদে থাকে ২০–২৫ হাজার টাকা, যাতে কিস্তির টাকাই ওঠে না।
মেহেরপুরের এই ট্রাক মালিকের সাতটি ট্রাক করোনা মহামারির শুরু থেকে অলস পড়ে ছিল। আগে তাঁর গাড়িগুলো মাসে গড়ে ১৮ থেকে ২২টি ট্রিপ পেত আর এক লাখ টাকার বেশি লাভ থাকত; তাঁর ভাষায়, "এখন মাসে আমার ট্রাক সর্বোচ্চ সাত থেকে আটটি ট্রিপ পায়। সব খরচ বাদ দিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা থাকে," যা দিয়ে কিস্তির টাকাই ওঠে না। মন্দার সঙ্গে যোগ হয়েছিল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জট — যাত্রীবাহী বাস আর জরুরি পণ্যবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাককে আধা ঘণ্টার নৌপথ পার হতে তিন-চার দিন বা তারও বেশি অপেক্ষা করতে হতো, অথচ চালক আর সহকারীর দৈনিক খরচ ততদিন দিয়েই যেতে হয়। ওই পথে দিনে ২ থেকে আড়াই হাজার যানবাহন পার হয়, যার প্রায় অর্ধেক পণ্যবাহী ট্রাক। সাতক্ষীরার আরেক ট্রাক মালিক জানান, যন্ত্রপাতি আর স্টাফের খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় ভাড়া বাড়ছে না, আর ঘাটের ভোগান্তি না কমলে মালিকদের ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। ট্রিপ কমায় চালকদের আয়ও কমে যায়, কারণ তাঁরা প্রতি ট্রিপের নির্ধারিত ভাড়ার ১০ শতাংশ পান।
যা শেখার আছে
- ১.কিস্তিতে কেনা ট্রাকের ব্যবসায় স্থায়ী খরচ ট্রিপ কমলেও কমে না — ট্রিপের সংখ্যাই এই ব্যবসার প্রাণ
- ২.ঘাট বা রাস্তার মতো বাইরের অবকাঠামো লাভের বড় অংশ খেয়ে ফেলতে পারে, আর সেটা মালিকের হাতে নেই
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
