সারাইয়ের কারিগর থেকে গ্যারেজ মালিক, রিকশাপ্রতি মাসে ১ হাজার টাকার টোকেন
ব্যাটারিচালিত রিকশায় দৈনিক জমা ৩০০ টাকা, সাধারণ রিকশায় ১০০ — এই ফারাক দেখে সারাইয়ের কারিগর গ্যারেজ খোলেন; কিন্তু চলার জন্য প্রতিটি রিকশার মাসিক ১ হাজার টাকার টোকেন কিনতে হয়।
মিরপুরের বাউনিয়াবাদের এই ব্যক্তি আগে রিকশা সারাইয়ের কারিগর ছিলেন; ব্যাটারিচালিত রিকশায় আয়ের সুযোগ বেশি দেখে ২০১৬ সালের দিকে তিনি নিজেই ডি ব্লকে একটি গ্যারেজ খোলেন। তাঁর হিসাবে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক জমা আসে ৩০০ টাকা, আর সাধারণ রিকশায় জমা মাত্র ১০০ টাকা; ব্যাটারি চার্জের বিদ্যুৎ খরচ তেমন নয় বলে ফারাকটা প্রায় পুরোটাই লাভ। একই এলাকায় আরেকজন ১০ কাঠা জমিতে গ্যারেজ করে ৬০টি রিকশা রেখেছেন, যার ২০টি ব্যাটারিচালিত, আর বাইরের রিকশা চার্জ করে দিলে প্রতিটির জন্য নেন ২০ টাকা। কিন্তু ২০১৪ সালের হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই রিকশা প্রধান সড়কে উঠতে পারে না, আর চলার জন্য প্রতিটির মাসিক ১ হাজার টাকার টোকেন কিনতে হয় — সেই ‘টোকেন ব্যবসা’ চালান স্থানীয় প্রভাবশালীরা। রাস্তা আর খালি জায়গা দখল করে বাউনিয়াবাদেই কমপক্ষে ৭০টি গ্যারেজ গড়ে উঠেছে, এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় হাজার। আয় বাড়লেও পুরো পুঁজিটা এখানে অনুমোদনহীন ব্যবসার ঝুঁকির ওপর বসানো।
যা শেখার আছে
- ১.মেরামতের কারিগর থেকে গ্যারেজ মালিক হওয়া মানে দক্ষতা বেচা ছেড়ে সম্পদ ভাড়া দেওয়া — আয় বাড়ে, পুঁজি আর ঝুঁকিও বাড়ে
- ২.অনুমোদনহীন ব্যবসায় লাভের একটা স্থায়ী অংশ টোকেন বা চাঁদা হয়ে বেরিয়ে যায়, আর একটা অভিযানেই পুরো পুঁজি ঝুঁকিতে পড়ে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
