মণে ঘি-ছানায় লাভ ৩০০ টাকা, টক দইয়ে প্রায় ১,৮০০ — তাই দইয়ে ঝুঁকছে ঘোষপাড়া
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক ঘোষপাড়ায় শতাধিক পরিবার যন্ত্রে দুধ ভাঙিয়ে ঘি, ছানা ও টক দই বানায়; এক কারিগরের হিসাবে এক মণ দুধে ঘি-ছানায় লাভ ৩০০ টাকার কিছু বেশি, টক দইয়ে প্রায় ১,৮০০ টাকা।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উফুল্কী গ্রামের ঘোষপাড়ায় পূর্বপুরুষের আমল থেকে দুধ থেকে ঘি, ছানা ও টক দই তৈরি হয়। হিন্দু-মুসলমান মিলিয়ে শতাধিক পরিবার এ কাজে যুক্ত। 'দুধ ভাঙানোর মেশিনে' দুধ ঢাললে এক পাশ দিয়ে মাখন বা ক্রিম বের হয়, যা থেকে ঘি হয়; অন্য পাশের পাতলা দুধ থেকে ছানা ও টক দই। হাতে চালালে ঘণ্টায় প্রায় আট মণ দুধ ভাঙানো যায়। দিনে গড়ে ৭০–৮০ মণ দুধ প্রক্রিয়া হয়, পণ্য যায় মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকার কেরানীগঞ্জ-চকবাজার ও নারায়ণগঞ্জে।
একজন কারিগর প্রথম আলোকে পুরো হিসাব দেন। এক মণ দুধ থেকে গড়ে সোয়া কেজি ঘি আর সাত-আট কেজি ছানা মেলে। কেজি ৬০ টাকা দরে এক মণ দুধ কিনতে লাগে ২,৪০০ টাকা; মজুরি ও জ্বালানি মিলিয়ে খরচ প্রায় ২,৯০০ টাকা। ঘি আর ছানা বেচে আসে ৩,০৪০ থেকে ৩,২৬০ টাকা — লাভ ৩০০ টাকার কিছু বেশি। টক দই বানালে আয় প্রায় ৩,২০০ টাকা, লাভ প্রায় ১,৮০০ টাকা। তাই তাঁরা দইয়ের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
অর্ডার বুঝে দুধ কেনা হয় — বেশি হলে ১২–১৪ মণ, কম হলে ৮–১০ মণ। এলাকার একজন বলেন, শীতে মানুষ ঘি বেশি খায়, তখন দামও একটু ভালো থাকে। অনেকে পৈতৃক পেশা ছেড়েছেন; বাকিরা সরকারি সহযোগিতা চান।
যা শেখার আছে
- ১.এক মণ দুধের পুরো হিসাব (দুধ, মজুরি, জ্বালানি বনাম প্রতিটি পণ্যের বিক্রি) করে দেখুন কোন পণ্যে আসল লাভ — এখানে ঘির চেয়ে দইয়ে অনেক বেশি।
- ২.অর্ডার বুঝে দুধ কিনলে পচনশীল কাঁচামাল নষ্ট কম হয়।
- ৩.ঘির চাহিদা ও দাম শীতে বাড়ে; মৌসুম বুঝে উৎপাদন বাড়ান-কমান।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
