১০ হাজার টাকা পুঁজি আর ৫০ সিলিন্ডারে শুরু; এখন ৪০০ সিলিন্ডার, মাসে আয় ২৫–৩০ হাজার টাকা
নওগাঁর আত্রাইয়ের এক গৃহবধূ ইউটিউব দেখে ২০২৩ সালে বাড়ির পাশের ঘরে মাশরুম চাষ শুরু করেন। এখন প্রতিদিন ৫–৬ কেজি বিক্রি হয়, তবে গরমে তিন-চার মাস চাষ বন্ধ রাখতে হয়।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এক গৃহবধূর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন; একার আয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল না। হাঁস-মুরগি পালন ও বাড়ির সামনে সবজি চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় তিনি ইউটিউবে মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হন। স্বামী পরিচিত এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বগুড়া থেকে উপকরণ আনেন, আর তিনি ইউটিউব দেখে পদ্ধতি শিখে ২০২৩ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন। বাড়ির পাশের একটি আধা পাকা ঘর ও একটি মাটির ঘর মাশরুম চাষের উপযোগী করে নেন। শুরুতে ছিল ৫০টি সিলিন্ডার, এখন ৪০০টি। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কেজি মাশরুম বিক্রি হয়; কাঁচা মাশরুম পাইকারি কেজি ৩০০ টাকা, শুকনা ২ হাজার টাকা। মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি হয়, খরচ বাদে আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ৩০ থেকে ৩৪ দিনে মাশরুম বিক্রির উপযোগী হয়। বর্ষা ও শীত চাষের জন্য ভালো, কিন্তু গরমে তাপমাত্রা বেশি থাকায় তিন-চার মাস চাষ বন্ধ রাখতে হয়। নির্দিষ্ট কয়েকজন ক্রেতা আছেন, তবু চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে পারছেন না। আত্রাই কৃষি অফিস তাঁকে চাষের সব আনুষঙ্গিক বিষয় শিখিয়ে দিয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.মাশরুম চাষ ছোট থেকে শুরু করা যায়; ৫০ সিলিন্ডার দিয়ে শিখে ধীরে ৪০০-তে পৌঁছানো ঝুঁকি কম রাখে।
- ২.গরমের কয়েক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকবে, তাই বছরের আয়ের হিসাবে ওই মাসগুলো বাদ দিন।
- ৩.কাঁচা ও শুকনা দুই রূপেই বিক্রি করলে দামের সুযোগ বাড়ে; শুকনার দাম কেজি ২ হাজার টাকা।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
