২০০ টাকার স্পনে শুরু, প্রথমবার ১০০ সিলিন্ডার নষ্ট; এখন মাসে ৬০–৭০ হাজার টাকা মুনাফা
রংপুরের এক তরুণ মায়ের চিকিৎসায় স্টুডিও ও সরঞ্জাম বিক্রি করে দেন। ইউটিউব দেখে ২০২২ সালে মাশরুম চাষ শুরু করে প্রথমে সব সিলিন্ডার নষ্ট হয়; প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার শুরু করে এখন কাঁচা মাশরুম, স্পন ও খাবার বিক্রি করে মাসে ৬০–৭০ হাজার টাকা মুনাফা করেন।
রংপুর পলিটেকনিক থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করা এক তরুণের শখ ছিল ভিডিওগ্রাফি, ড্রোন-ক্যামেরাসহ নিজের স্টুডিও ছিল। মায়ের ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার জন্য স্টুডিও, ড্রোনসহ সব সরঞ্জাম বিক্রি করে দেন; তবু মাকে বাঁচানো যায়নি। ২০২২ সালের অক্টোবরে মাত্র ২০০ টাকার স্পন (বীজ) নিয়ে একটি ড্রামে ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করেন, কিন্তু ১০০টি সিলিন্ডারের সবই নষ্ট হয়ে যায়। দমে না গিয়ে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে ১০ দিনের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নেন। আগের বছরের জানুয়ারিতে একটি প্রকল্প থেকে ৩ লাখ টাকা পেয়ে মাশরুম চাষের ঘর বানান এবং শ্বশুরবাড়িতে বীজ উৎপাদনের ল্যাব বসান। এখন কাঁচা মাশরুম, স্পন, স্যুপ মিক্স, শুকনা মাশরুম, পাউডার, আচার, চপ ও চিপস বিক্রি করে তাঁর মাসে ৬০–৭০ হাজার টাকা মুনাফা হয়। তাঁর দেখাদেখি এলাকার ৩৫ জন নারী প্রশিক্ষণ ও বীজ নিয়ে মাশরুম চাষ করছেন এবং উৎপাদিত মাশরুম তাঁর কাছেই বিক্রি করেন; এক চাষি মাসে ৫–৭ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। তাঁর স্বপ্ন মাশরুমকে বড় শিল্প পর্যায়ে নেওয়া।
যা শেখার আছে
- ১.শুধু ইউটিউব দেখে শুরু করলে প্রথম দফায় সবকিছু নষ্ট হতে পারে; আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ নিন।
- ২.শুধু কাঁচা মাশরুম নয়, স্পন ও শুকনা বা প্রক্রিয়াজাত পণ্য যোগ করলে আয়ের পথ বাড়ে।
- ৩.আশপাশের চাষিদের বীজ-প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের উৎপাদন কিনে নিলে বিক্রির সরবরাহ ও বাজার দুটোই নিশ্চিত হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
