১ হাজার টাকার স্পন দিয়ে শুরু, নিজে স্পন বানিয়ে বছরে ৭–৮ লাখ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের এক সাবেক রিকশাচালক ২০২০ সালে এক হাজার টাকার স্পন কিনে মাশরুম চাষ শুরু করেন; কেনা স্পনে লাভ থাকত না, তাই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই স্পন বানান।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও গ্রামের ২৬ বছরের এক যুবক বাবার মৃত্যুর পর এসএসসির পরই রিকশা চালানো শুরু করেন। ২০২০ সালে এক বন্ধুর পরামর্শে মাত্র এক হাজার টাকার মাশরুমের স্পন কিনে চাষ শুরু করেন। প্রথমে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বিনা পয়সায় খেতে দিয়ে মাশরুম চেনান, তারপর অল্প অল্প বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে স্পন এনে চাষ করলে তাঁর কোনো লাভ থাকত না। তাই সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই স্পন বানানো শুরু করেন; প্রথম চেষ্টায় সব স্পন নষ্ট হয়, কয়েকবারের চেষ্টায় শেখেন। এখন তিনি দিনে ৮–১০ কেজি মাশরুম বিক্রি করেন। তাঁর হিসাবে কাঁচা মাশরুমে কেজিপ্রতি খরচ ৮০–৯০ টাকা, বিক্রি ২৫০–৩০০ টাকা; শুকনা মাশরুম ১,০০০–১,৫০০ টাকা কেজি। ৩২ টাকা খরচের একটি স্পন প্যাকেট বিক্রি করেন ৪০ টাকায়। বছরে আয় ৭–৮ লাখ টাকা বলে বাসসকে জানান। নিজের জমি নেই; দুই কক্ষের ভাড়া টিনশেডের একটিকে ল্যাব বানিয়েছেন, আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় পাশের জমি ইজারা নিয়ে দুটি টিনের ঘরে চাষ করেন। মৌসুমে দিনমজুর রাখেন, বাকি সময় পরিবার মিলে কাজ করে।
যা শেখার আছে
- ১.কাঁচামাল (স্পন) কিনে চাষ করলে লাভ কমে যেতে পারে; নিজে বানাতে শিখলে খরচ কমে এবং বাড়তি পণ্য হিসেবে বিক্রিও করা যায়।
- ২.নতুন পণ্যের বাজার তৈরিতে শুরুতে বিনা পয়সায় খাওয়ানো কাজে দেয়।
- ৩.প্রথম ব্যর্থতায় থামবেন না, তবে প্রশিক্ষণ নিয়ে কারণ খুঁজে বের করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
