মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
আরও গল্প
যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাজশাহীর মোহনপুরের একজন পেঁয়াজবীজ উৎপাদক

১৪ জেলার ৩৫০ চাষিকে দিয়ে বছরে ২৯ টন পেঁয়াজবীজ

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেড়ে হাল ধরা এই চাষি ৩২ বছর ধরে বীজে আছেন; নিজের নামকরা ছয় জাতের হাইব্রিড পেঁয়াজবীজ, গত বছর উৎপাদন ২৯ মেট্রিক টন, লক্ষ্য ৪০ টন।

রাজশাহীর মোহনপুরের মেলান্দি গ্রামের ৫৭ বছর বয়সী এই চাষিকে বড় ভাই সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছাড়িয়ে হালের পেছনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। তখন শুধু ধানই করতেন; পাশের এক বীজচাষির কাছ থেকে সাড়ে সাত কেজি পেঁয়াজের কন্দ চেয়ে এনে বসতভিটায় লাগিয়ে বীজ বিক্রি করেন কেজি ৭৫০ টাকায়। প্রথম বড় ধাক্কাটা আসে যখন চটের বস্তায় রাখা ৪ মণ বীজ আর গজাল না — তাঁর ভাষায়, "সেই বীজ থেকে আর চারা গজাল না।" যাঁদের বীজ দিয়েছিলেন তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারেননি; বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বলে, বীজ রাখতে হয় টিন বা ড্রামে, বাতাস ঢোকে না এমনভাবে। বছর পঁচিশেক আগে এক প্রতিবেশী তাঁর কিছু বীজ পাবনায় নিয়ে গেলে সেখানকার চাষিরা কেজি ২,৫০০ টাকা দেন — স্থানীয়ভাবে তিনি তখন ৫ মণ বিক্রি করেছিলেন কেজি ৫০০ টাকায়। এখন তাঁর নিজের নামকরা ছয় জাতের হাইব্রিড পেঁয়াজবীজ আছে, উৎপাদন হয় ১৪ জেলায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩৫০ জন চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে — ইচ্ছে করেই ছড়ানো, যাতে এক শিলাবৃষ্টিতে পুরো ফসল না যায়; আর জাতের উৎস গোপন রাখতে প্রতিটি খেতকে দেওয়া হয় কেবল একটি সাংকেতিক নম্বর। তিনি চাষিদের কন্দ দেন, বিনা সুদে টাকা দেন আর পুরো ফসল নগদে কিনে নেন। গত বছর উৎপাদন হয়েছে ২৯ মেট্রিক টন, লক্ষ্য ছিল ৪০ টন; গত বছর পেঁয়াজবীজ পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে কেজি ৩,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকায়। ১ কেজি বীজে চারা হয় ৩৩–৪৫ শতক জমির, আর বিঘায় পেঁয়াজ হয় ৭০–৮০ মণ; দেশে পেঁয়াজবীজের চাহিদা বড়জোর ১,৫০০ মেট্রিক টন।

যা শেখার আছে

  1. ১.বীজের ব্যবসায় সংরক্ষণই আসল ব্যবসা — চটের বস্তায় ৪ মণ নষ্ট হয়ে তিনি শিখেছেন বীজ রাখতে হয় বায়ুরোধী পাত্রে; ক্রেতা আসলে অঙ্কুরোদ্‌গমের টাকাই দেন
  2. ২.১৪ জেলায় ৩৫০টি চুক্তিবদ্ধ খেত ছড়িয়ে রাখা ইচ্ছাকৃত বিমা — শিলাবৃষ্টি কখনো সব জায়গায় একসঙ্গে পড়ে না, এক অঞ্চলের ফসল আরেক অঞ্চলের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।