সবজির বীজ উৎপাদন
সবজি নয়, সবজির বীজ বেচার কাজ। বিএডিসির ২০২৬-২৭ দরে লাউয়ের বীজ কেজি ৳১,০৫০, টমেটো ৳২,৬০০, হাইব্রিড টমেটো ৳২৬,০০০ — আর বেচতে হলে ৳২,০০০ ফি দিয়ে বীজ ডিলার নিবন্ধন লাগে।
- শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

সবজির বীজ উৎপাদন
- শুরুর পুঁজি
- ৳৫০,০০০ – ৳৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ১০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১৫০ – ৩০০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৫ – ১৮ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- খামার · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
এখানে ফসল সবজি নয়, সবজির বীজ। গাছ থেকে সবজি না তুলে পাকতে দিতে হয়, তারপর বীজ ছাড়িয়ে শুকিয়ে বেচতে হয়। দাম সবজির চেয়ে বহুগুণ বেশি। বিএডিসির ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬-২৭ বিতরণবর্ষের দর দেওয়া আছে — কৃষক পর্যায়ে মানঘোষিত বীজের কেজি: টমেটো ৳২,৬০০, শশা ৳২,৩০০, করলা ৳১,৮৫০, মিষ্টিকুমড়া ৳১,৪০০, লাউ ৳৯৪০, চিচিঙ্গা ৳৮৮০, পুঁইশাক ৳৫৮০, ঢেঁড়স ৳৩৫০, পালংশাক ৳৩১৫, মটরশুঁটি ৳২৯০। হাইব্রিড আলাদা জগৎ: বারি হাইব্রিড টমেটো৮ কৃষক পর্যায়ে কেজি ৳২৬,০০০, হাইব্রিড করলা ও মিষ্টিকুমড়া ৳১৪,০০০–১৪,৩০০। কিন্তু এটা মুক্ত ব্যবসা নয়। বীজ বিধিমালা ২০২০-এর ১০ নম্বর বিধি অনুযায়ী বীজ উৎপাদন বা বিক্রির জন্য বীজ ডিলার নিবন্ধন লাগে — ফরম-৮, ট্রেজারি চালানে ৳২,০০০ (কোড ১-৪৩৩৮-০০০০-২৬৮১), সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স আর জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসারের সুপারিশ। নবায়নে আবার ৳২,০০০, মেয়াদ শেষের তিন মাসের মধ্যে না পারলে বিলম্ব ফি ৳৫০০। একটা সুবিধা আছে: বীজ আইনের নিয়ন্ত্রিত ফসল মাত্র পাঁচটি — ধান, গম, পাট, আলু ও আখ। সবজি এর বাইরে, তাই সবজির বীজে প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক নয়, মানঘোষিত বীজ হিসেবেই বেচা যায়। তবু প্রত্যয়ন নিলে বীজ পরীক্ষার ফি নমুনাপ্রতি বিশুদ্ধতা ৳২৫, অঙ্কুরোদগম ৳৫০, আর্দ্রতা ৳২৫, ফল আসে ৩২–৩৫ কর্মদিবসে, আর প্রত্যয়ন ট্যাগ প্রতিটি ৳২, দিতে লাগে ৪০–৬০ কর্মদিবস।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১০,০০০ – ৳১,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳২৫০ – ৳২,৬০০ / কেজি | সরকারি সূত্র | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৬৬ – ৳১,৫৬০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৪০% – ৭৪% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১৫০ – ৩০০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৫ – ১৮ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ১০০ – ১৮০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ২৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১ – ১২০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র, বীজ ঝাড়াই-বাছাইয়ের চালনি বা ব্লোয়ার, ওজন মাপার নিক্তি, আর মোড়কজাত করার পাত্র ও লেবেল। প্রত্যয়িত বীজ হলে প্রতি প্যাকেট বা বস্তায় ৳২ দামের প্রত্যয়ন ট্যাগ।যন্ত্রপাতি
- ভিত্তি বীজ — বিএডিসির ২০২৬-২৭ দরে কৃষক/প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কেজি: টমেটো ৳২,৬০০, শশা ৳২,৪০০, চালকুমড়া ৳২,০০০, করলা ৳১,৯৫০, মিষ্টিকুমড়া ৳১,৬৮০, লাউ ৳১,০৫০, চিচিঙ্গা ৳১,১০০, ডাঁটা ৳৬৫০, পুঁইশাক ৳৬৪০, বরবটি ৳৫৯০, ঢেঁড়স ৳৪১০, পালংশাক ৳৩৫০, মটরশুঁটি ৳২৯০।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, আদর্শ কর ৳৩০, লাইসেন্স বই ৳৫০, প্রয়োজনে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ৩–৫ কর্মদিবসে। বীজ ডিলার নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক সংযুক্তি, তাই আগে এটি লাগবে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসায় প্রথমবার ৳৫,০০০ ও পরে দৈনিক ৳৫০০ জরিমানা।লাইসেন্স
- বীজ ডিলার নিবন্ধন — ফরম-৮, বীজ বিধিমালা ২০২০-এর বিধি ১০-এর উপ-বিধি (১)। আবেদন যায় মহাপরিচালক, বীজ অনুবিভাগ / সচিব, জাতীয় বীজ বোর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয় বরাবর। ফি ট্রেজারি চালানে ৳২,০০০ (কোড ১-৪৩৩৮-০০০০-২৬৮১)। কাজের ধরনে 'বীজ উৎপাদন' ঘর টিক দিতে হয়।লাইসেন্স
- নিবন্ধন নবায়ন — ফরম-৯, বিধি ১০-এর দফা (৬)। ট্রেজারি চালানে ৳২,০০০; মেয়াদ উত্তীর্ণের ৩ মাসের মধ্যে আবেদন না করলে অতিরিক্ত ৳৫০০ বিলম্ব ফি। সঙ্গে নিবন্ধন সনদের মূল কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।লাইসেন্স
- রোগিং করতে জানা — অর্থাৎ জাতের বৈশিষ্ট্য চেনা এবং ফুল আসার আগে বেমানান গাছ তুলে ফেলা; পোকার পরাগায়ন ঠেকাতে দূরত্বের নিয়ম জানা; আর বীজের আর্দ্রতা ও অঙ্কুরোদগমের হিসাব বোঝা। এই তিনটি না জানলে লট বাদ পড়ে।দক্ষতা
- জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসারের সুপারিশ — বীজ ডিলার নিবন্ধনের আবেদনের বাধ্যতামূলক সংযুক্তি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলে বাংলাদেশ সিড এসোসিয়েশনের সদস্য সনদের কপিও দিতে হয়।সরবরাহকারী
- বীজ ফসলের জন্য আলাদা জমি, আশপাশের একই ফসলের খেত থেকে দূরত্ব রেখে; বীজ ছাড়ানো ও ধোয়ার জায়গা; ছায়ায় শুকানোর পাকা মেঝে; আর শুকনো, বাতাস চলাচলের গুদাম যেখানে বীজ আর্দ্রতা টানবে না।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1ঠিক করুন কোন পথে যাবেন। তিনটি পথ আছে: বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষি হয়ে ভিত্তি বীজ নিয়ে বীজ বর্ধন করা, কোনো বেসরকারি বীজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা, অথবা নিজের নামে মানঘোষিত বীজ বেচা। তিনটির কাগজপত্র, ঝুঁকি আর দাম আলাদা।
- 2আগে ট্রেড লাইসেন্স নিন। বীজ ডিলার নিবন্ধনের ফরম-৮-এ হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের কপি বাধ্যতামূলক সংযুক্তি; লাইসেন্স ছাড়া আবেদনই জমা নেওয়া হবে না।
- 3জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসারের কাছে যান এবং বীজ ডিলার হিসেবে নিবন্ধনের সুপারিশ নিন। এটিও ফরম-৮-এর বাধ্যতামূলক সংযুক্তি, আর এখান থেকেই মাঠ পরিদর্শনের সম্পর্কটা শুরু হয়।
- 4ট্রেজারি চালানে ৳২,০০০ জমা দিন, কোড ১-৪৩৩৮-০০০০-২৬৮১। মূল চালান কপি ফরম-৮-এর সঙ্গে দিতে হবে। আবেদন যায় মহাপরিচালক, বীজ অনুবিভাগ / সচিব, জাতীয় বীজ বোর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয় বরাবর। ফরমে কাজের ধরনে 'বীজ উৎপাদন' ঘরে টিক দিন।
- 5জাত বাছুন এবং ভিত্তি বীজ কিনুন। বিএডিসির ২০২৬-২৭ দরে ভিত্তি সবজিবীজ কৃষক পর্যায়ে — টমেটো ৳২,৬০০, শশা ৳২,৪০০, করলা ৳১,৯৫০, লাউ ৳১,০৫০। ভিত্তি বীজ থেকেই প্রত্যায়িত বা মানঘোষিত বীজ বর্ধন করা যায়; বাজার থেকে কেনা বীজ দিয়ে বীজ বানানো চলে না।
- 6বীজ ফসলের জমি আলাদা করে রাখুন এবং আশপাশের একই ফসলের খেত থেকে দূরত্ব রাখুন। কুমড়া, শশা, করলা, লাউ — এরা পোকার মাধ্যমে পরাগায়িত হয়, পাশের জাতের সঙ্গে মিশে গেলে বীজের বিশুদ্ধতা যায় আর লট বাদ পড়ে।
- 7রোগিং করুন — অর্থাৎ যে গাছগুলো জাতের চেহারার সঙ্গে মেলে না সেগুলো ফুল আসার আগেই তুলে ফেলুন। প্রত্যয়ন নিলে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস মাঠ পরিদর্শনে এসে এটিই দেখে; মাঠের প্রত্যয়নপত্র না পেলে পরে নমুনা পরীক্ষারও সুযোগ নেই।
- 8ফল গাছেই পুরোপুরি পাকতে দিন, তারপর বীজ ছাড়িয়ে ধুয়ে ছায়ায় শুকান। এটিই সবজি চাষ আর বীজ চাষের মূল পার্থক্য — সবজি হিসেবে বেচার সময়টা পার করে দিতে হয়, তাই ওই ফলের সবজির আয়টা হারাতে হয়।
- 9আর্দ্রতা মেপে তবেই বস্তায় ভরুন। বেশি আর্দ্রতার বীজ কয়েক মাসেই অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হারায়, আর তখন সেটা আর বীজ নয়। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীর পরীক্ষাগারে আর্দ্রতা পরীক্ষার ফি নমুনাপ্রতি ৳২৫।
- 10প্রত্যয়ন নিতে চাইলে লট অফার করুন। জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগারে পাঠাবেন; ফি নমুনাপ্রতি বিশুদ্ধতা ৳২৫, অঙ্কুরোদগম ৳৫০, আর্দ্রতা ৳২৫, ট্রেজারি চালানে। ফল আসে ৩২–৩৫ কর্মদিবসে। বাদ পড়লে পুন:পরীক্ষা ৳৫০০।
- 11ট্যাগের চাহিদাপত্র দিন। প্রতিটি প্রত্যয়ন ট্যাগ ৳২, ট্রেজারি চালানে, আর সরবরাহ পেতে ৪০–৬০ কর্মদিবস। ট্যাগ লাগানোর আগে মাঠ পরিদর্শন ও পরীক্ষাগারের ফল দুটোই লাগে — এই সময়টা হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।
- 12প্রতি অর্থবছর নিবন্ধন নবায়ন করুন — ফরম-৯, আবার ৳২,০০০ ট্রেজারি চালান। মেয়াদ শেষের তিন মাসের মধ্যে আবেদন না করলে অতিরিক্ত ৳৫০০ বিলম্ব ফি দিতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলে বাংলাদেশ সিড এসোসিয়েশনের সদস্য সনদও লাগবে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেবেশি
- অক্টোবেশি
- নভেবেশি
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবগুড়া · জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস আছে, আর সবজি চাষের ঘন এলাকা বলে বীজের চাহিদা ও সরবরাহ দুটোই কাছাকাছি।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীর সদর দপ্তর এখানে — কেন্দ্রীয় বীজ পরীক্ষাগার, জাত পরীক্ষাগার ও ১২ একরের কন্ট্রোল ফার্ম। নমুনা পরীক্ষা, ডিইউএস ও গ্রো আউট টেস্টের কাজ এখান থেকেই হয়।
- খুব উপযোগীযশোর · বিএডিসির বীজ বিপণনের ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি যশোরে; দর নির্ধারণের বিজ্ঞপ্তি এখান থেকেই ডিলারদের কাছে যায়, আর বীজের ব্যবসাও এখানে পুরোনো।
- খুব উপযোগীরাজশাহী · বিএডিসির বীজ বিপণনের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং বীজ ডিলার লাইসেন্স নবায়নের বিজ্ঞপ্তি এখান থেকেই জারি হয়; ডিলার ও চুক্তিবদ্ধ চাষির সংখ্যা বেশি।
- খুব উপযোগীঠাকুরগাঁও · বিএডিসির বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এখানে; ভিত্তি বীজ ও চুক্তিবদ্ধ বীজ বর্ধনের কাজ বহু বছরের।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · বিএডিসির বীজ বিপণনের আঞ্চলিক কার্যালয় ও আঞ্চলিক বীজ পরীক্ষাগার — গ্রীষ্মকালীন সবজিবীজের জন্য সুবিধাজনক।
- সম্ভবঢাকা · বিএডিসির প্রধান কার্যালয় ও বীজ বিপণনের আঞ্চলিক কার্যালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়ে বীজ ডিলার নিবন্ধনের আবেদনও এখানেই যায়।
- সম্ভবদিনাজপুর · বিএডিসির বীজ কার্যক্রমের পুরোনো এলাকা এবং শীতের সবজির বড় বলয়, তাই বীজ ফসলের জমি পাওয়া সহজ।
- সম্ভবকুড়িগ্রাম · বিএডিসির জেলা বীজ বিপণন কার্যালয় আছে এবং তারাই বছরের বীজের মূল্য তালিকা প্রকাশ করে, তাই দর ও বরাদ্দের খবর হাতের কাছে।
- সম্ভবপাবনা · জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস আছে, তাই লট অফার ও ট্যাগের কাজে দূরে যেতে হয় না।
- সম্ভবসিলেট · বিএডিসির বীজ বিপণনের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে, তবে সবজিবীজের চাষ তুলনায় কম।
- কম উপযোগীবরিশাল · বিএডিসির আঞ্চলিক কার্যালয় ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস আছে, কিন্তু ভেজা আবহাওয়ায় বীজ শুকানো ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধন ছাড়া বীজ বেচা যায় না, আর নিবন্ধন প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী মার্কেট মনিটরিং করে এবং মোবাইল কোর্ট চালিয়ে বীজ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। নবায়নে তিন মাস দেরি হলেই ৳৫০০ বিলম্ব ফি, আর নিবন্ধন না থাকলে ব্যবসাটাই অবৈধ।
- বেশিঅন্যান্য: একটা লট বাদ পড়লে গোটা মৌসুমের দাম চলে যায়। অঙ্কুরোদগম বা বিশুদ্ধতার মান না মিললে ওই বীজ আর বীজের দামে বেচা যায় না, সাধারণ পণ্য হিসেবে বেচতে হয় — টমেটোর বীজ ৳২,৬০০ কেজির বদলে তখন কিছুই না। কারণ সাধারণত একটাই: পাশের খেতের অন্য জাতের সঙ্গে পরাগায়ন, বা রোগিং ঠিকমতো না করা।
- বেশিবাকিতে বিক্রি: প্রত্যয়নের পথে টাকা আটকে থাকে মাসের পর মাস। লট অফার করার পর পরীক্ষার ফল আসতে ৩২–৩৫ কর্মদিবস, তারপর ট্যাগ পেতে ৪০–৬০ কর্মদিবস — ট্যাগ না পাওয়া পর্যন্ত প্রত্যয়িত বীজ হিসেবে বেচা যায় না, অথচ বীজ গুদামে বসে থাকে আর তার অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা দিনে দিনে কমে।
- বেশিনির্ভরশীলতা: হাইব্রিড বীজের বাজারটা কার্যত বন্ধ। বারি হাইব্রিড টমেটো৮-এর বীজ কেজি ৳২৬,০০০, কিন্তু হাইব্রিড বীজ বানাতে দুই মাতৃসারি লাগে আর সেগুলো কোম্পানির হাতে থাকে। ছোট উদ্যোক্তার পক্ষে নিজের হাইব্রিড বানানো সম্ভব নয়, আর নিজের জাত ছাড়াতে চাইলে ভিসিইউ ট্রায়ালেই ১০ স্থানে ৳৪,৭০,০০০ খরচ ও ৩৬৫ দিন লাগে।
- মাঝারিচলতি মূলধন: বীজ ফসলে ওই ফলের সবজি বিক্রির আয় ছেড়ে দিতে হয়। লাউ বা শশা বীজের জন্য গাছে পাকতে দেওয়া মানে ওই ফল সবজি হিসেবে আর বেচা যাবে না, আর বীজের টাকা আসবে আরও এক-দেড় মাস পরে। অর্থাৎ মৌসুমের মাঝপথে আয়ের একটা ফাঁক তৈরি হয়।
- মাঝারিচাহিদা: সবজি নিয়ন্ত্রিত ফসল নয় বলে যে কেউ মানঘোষিত বীজ বেচতে পারে, তাই বাজারে নিম্নমানের বীজও থাকে এবং ক্রেতা চাষি একবার ঠকলে আর ফেরেন না। নামটাই এখানে পুঁজি, আর সেটা এক মৌসুমের খারাপ অঙ্কুরোদগমেই শেষ হয়ে যায়।
সূত্র
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: risks · বাংলাদেশ
নোটিশ — 2026-27 সবজি বীজের মূল্য তালিকা, বিএডিসি, কুড়িগ্রাম (প্রকাশ ০৭-০৯-২০২৬)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · কুড়িগ্রাম ও বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, বিক্রয় মূল্য · বাংলাদেশ
বীজ ডিলার নিবন্ধনের সনদ নবায়নের আবেদন — ফরম-৯ [বীজ বিধিমালা, ২০২০-এর বিধি ১০ এর দফা (৬)]
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
বীজ ডিলার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন — ফরম-৮ [বীজ বিধিমালা, ২০২০ এর বিধি ১০ এর উপ-বিধি (১)]
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, requirements · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ — ফি, কাগজপত্র, সময় ও জরিমানা
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, requirements · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, নগদ চক্র, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
১৪ জেলার ৩৫০ চাষিকে দিয়ে বছরে ২৯ টন পেঁয়াজবীজ
সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেড়ে হাল ধরা এই চাষি ৩২ বছর ধরে বীজে আছেন; নিজের নামকরা ছয় জাতের হাইব্রিড পেঁয়াজবীজ, গত বছর উৎপাদন ২৯ মেট্রিক টন, লক্ষ্য ৪০ টন।
- কারণ
- ভালো যোগাযোগ, ভালো মান
একই রকম আরও ব্যবসা
কৃষি ও খামারহাঁস-মুরগির হ্যাচারি
ইনকিউবেটরে ডিম বসিয়ে এক দিনের বাচ্চা ফুটিয়ে খামারিদের কাছে বিক্রি। হাঁসের বাচ্চায় খরচ ৳৩০–৩৫ ও বিক্রি ৳৭২–৭৫, কিন্তু মুরগির বাচ্চার দাম দুই মাসে ৳২৫ থেকে ৳৮৫ আবার ৳৫-এ নেমে আসে।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৮ লাখ
- জনবল
- ২ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ২৮ – ৬০ দিন
কৃষি ও খামারঅ্যালোভেরা চাষ
ঘৃতকুমারীর পাতা কেটে কোম্পানির কাছে বিক্রি। বিঘায় খরচ প্রায় ৳৫০,০০০, পাতা বিক্রি ৳১.৫–২.৫ লাখ, কিন্তু ক্রেতা শুধু কয়েকটি ওষুধ ও জুস কোম্পানি।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳২ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ১২০ দিন
কৃষি ও খামারদুধ সংগ্রহ ও সরবরাহ
খামারির কাছ থেকে দুধ কিনে শীতলীকরণ কেন্দ্র ও দোকানে পৌঁছে দেওয়া। খামারি পান লিটারে ৳৩৫–৫০, কারখানা দেয় ৳৪৮–৫৮ — ফারাকটাই এই ব্যবসা।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ২১ দিন
কৃষি ও খামারকাজু বাদাম ও কফি চাষ
পাহাড়ের জমিতে কাজুবাদাম ও কফির বাগান। চাষি কাঁচা বাদামে কেজি ৳১৮০–২০০ আর কাঁচা কফিতে ৳৩৫০–৪০০ পান, কিন্তু চারা লাগানোর পর প্রথম ফল পেতে কফিতে ৩–৪ আর কাজুতে ৪–৫ বছর লাগে।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ১,০৯৫ – ১,৮২৫ দিন
