২০১৭ সালে ৬০০ টাকায় অনলাইনে আম বিক্রি, এখন মাসে প্রায় কোটি টাকার কৃষিপণ্য
নাটোরের এক তরুণ ২০১৭ সালে মাত্র ৬০০ টাকায় অনলাইনে আম বেচে শুরু করে এখন তিন শতাধিক পণ্য, চারটি আউটলেট ও ৪৭ জন কর্মী নিয়ে মাসে প্রায় এক কোটি টাকার বিক্রি করেন। করোনায় একটি আউটলেট বন্ধ করতে হয়েছিল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাটোরের বড়াইগ্রামের এক যুবক ঢাকা পলিটেকনিকে পড়ার সময় শহুরে খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না, তাই বাড়ি থেকে মসলা আনতেন। তখনই তিনি বুঝলেন ঢাকায় নিরাপদ খাবারের বড় বাজার আছে। ২০১৭ সালে বন্ধুদের চাহিদায় এলাকা থেকে আম কিনে মাত্র ৬০০ টাকায় অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। শীতে যোগ করেন নাটোরের খেজুরের গুড়। বাড্ডার এক কৃষিপণ্যের আউটলেটে চাহিদা দেখে ২০১৭ সালেই মিরপুরে আউটলেট খোলেন, কিন্তু করোনার সময় সেটি বন্ধ করতে হয়; পরে বনশ্রীতে আবার শুরু করেন। এখন চাল, ডাল, মসলা, ঘি, মাংস, দুধ, মৌসুমি ফলসহ তিন শতাধিক পণ্য মাসে প্রায় কোটি টাকার বিক্রি হয়; বার্ষিক বিক্রি ২০ কোটি টাকার বেশি। বনশ্রীতে দুটি, উত্তরা ও বগুড়ায় একটি করে মোট চারটি আউটলেট আছে। প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজ করেন ৪৭ জন, চুক্তিভিত্তিক চাষি ১৫০ জন, আর ৫০০ কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ হয়। নিজের আউটলেটের চেয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও সুপারশপে বিক্রিই এখন বেশি। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চার কোটি টাকার বেশি। তিনি পাঁচ বছরে দেশে ৩০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা করছেন, তবে অর্থায়নকে বড় সমস্যা মনে করেন।
যা শেখার আছে
- ১.খুব ছোট পুঁজিতে একটি মৌসুমি পণ্য দিয়ে অনলাইনে শুরু করে ধীরে ধীরে পণ্যের তালিকা বাড়ানো যায়।
- ২.চুক্তিভিত্তিক চাষি ও সরাসরি সংগ্রহে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে, কিন্তু অগ্রিম অর্থের জন্য পুঁজি লাগে।
- ৩.আউটলেট নিজের হলেও করোনার মতো সময়ে বন্ধ করতে হতে পারে; ব্র্যান্ড ও সুপারশপে পাইকারি বিক্রি ঝুঁকি কমায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
