২৭ লিটার দুধে শুরু, এখন দিনে ২,২০০ লিটারের পনির; মাসে লাভ ৬০–৭০ হাজার টাকা
ঠাকুরগাঁওয়ের এক গৃহবধূ ২০১২ সালে ঋণ নিয়ে ২৭ লিটার দুধে পনির তৈরি শুরু করেন। এখন একটি কারখানায় দিনে ২,২০০ লিটার দুধের পনির হয়, আরও দুটি কারখানায় ২,৫০০ লিটারের, আর কাজ করেন একশর বেশি মানুষ।
ঠাকুরগাঁও শহরের নিশ্চিন্তপুরে এক বেসরকারি সংস্থার পনির কারখানা লোকসানে বন্ধ হলে সেখানকার নারী শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েন। তখন এক গৃহবধূর বড় ছেলে তাঁকে ওই কারখানায় পনির উৎপাদনের পরামর্শ দেন। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ২০১২ সালে ২৭ লিটার দুধ দিয়ে পনির বানানো শুরু করেন, যদিও ঠাকুরগাঁওয়ে গরুর দুধের পনিরের কোনো ঐতিহ্য ছিল না। এর আগে তিনি পুরোনো কাপড় ও পুরোনো লোহার ব্যবসা করেছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর পনিরের সুনাম ছড়ায়, আয় ও ব্যবসা বাড়ে। এখন নিশ্চিন্তপুরের কারখানায় দিনে প্রায় ২,২০০ লিটার দুধের পনির হয়, সব খরচ বাদে মাসে লাভ ৬০–৭০ হাজার টাকা। আরও দুটি কারখানায় আড়াই হাজার লিটার দুধের পনির তৈরি হয়। ঢাকাসহ নানা এলাকার হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে এর চাহিদা আছে; ঢাকায় বাজারজাত করার কাজ করেন তাঁর বড় ছেলে। প্রতিষ্ঠানে একশর বেশি লোক কাজ করেন, বেশির ভাগ অসহায় নারী, তাঁদের মাসিক আয় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এলাকার অনেক দুগ্ধ খামারি তাঁর কারখানায় দুধ দিয়ে সচ্ছল হয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি সিটি ফাউন্ডেশনের শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পান।
যা শেখার আছে
- ১.বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার জায়গা ও দক্ষ শ্রমিক পেয়ে ছোট ঋণে দ্রুত শুরু করা গেছে।
- ২.পনির ঢাকার হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে যায়; শহরের বাজারে বিক্রির লোক থাকলে দাম ও চাহিদা ধরে রাখা সহজ।
- ৩.কারখানার জন্য নিয়মিত দুধ লাগে, তাই স্থানীয় দুগ্ধ খামারিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা জরুরি।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
