মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পনির ও ছানা তৈরি

দুধ কেটে ছানা, চেপে পনির। ৮–১০ কেজি দুধে ১ কেজি পনির, বিক্রি ৳৯০০–১,২০০ কেজি — পুরো ব্যবসাটাই দুধ আর পনিরের দামের ব্যবধান।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পনির ও ছানা তৈরি

পনির ও ছানা তৈরি

শুরুর পুঁজি
৳৫০,০০০ – ৳২০,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ১০ জন
প্রথম বিক্রি
৭ – ১৩৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
২ – ১৮ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

এই ব্যবসার হিসাবটা একটাই অঙ্ক: দুধ কত দিয়ে কেনা হলো আর পনির কত দরে গেল। প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে শীতকালে ৮ কেজি গরুর দুধে ১ কেজি পনির হয়, গ্রীষ্মে ৯ কেজিতে, আর মহিষের দুধে ৭ কেজিতেই। অষ্টগ্রামের কারিগররা বলেন ১০ কেজি গরুর দুধে ১ কেজি। মিল্কভিটা ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে খামারির কাছ থেকে ৪ শতাংশ চর্বির দুধ কিনছে লিটারে ৳৫৩ দরে, আর চর্বি বাড়লে ৪.৭ শতাংশে ৳৬০-এর উপরে। সিরাজগঞ্জে অবশ্য খামারিরা ৪৫–৫০ টাকায় বেচতে বাধ্য হন, ঘোষরা কেনেন ৪৮–৫৪ টাকায়। ধরা যাক দুধ ৳৫৫, তাহলে এক কেজি পনিরে দুধই লাগল ৳৪৪০–৫৫০। অষ্টগ্রামের পনির কারিগরের কাছ থেকেই বিক্রি হয় ৳৯০০–১,২০০ কেজি; চালডালে আড়ং ডেইরির পনির ২০০ গ্রাম ৳২০০, অর্থাৎ কেজি ৳১,০০০। ব্যবধানটা আছে, কিন্তু সরু — দুধের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়লে পনিরের কেজিতে খরচ বাড়ে ৪০–৫০ টাকা। আর একটা কথা: ছানা এক দিনের জিনিস। ফ্রিজ না থাকলে পরদিন তা টক হয়ে যায়, তাই অষ্টগ্রামে পনির বাঁশের ঝুড়িতে চেপে লবণ দিয়ে রাখা হয় — লবণই ওদের ফ্রিজ। ঠাকুরগাঁওয়ে আবার ৩৩টি কারখানা মাসে প্রায় ৯৬ টন মোজারেলা চিজ বানায়, বিক্রি ৳৫০০–৬৫০ কেজি। আইনের দিকটাও হালকা নয়: নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১ এর ৩ নম্বরে 'সকল প্রকার আইসক্রিম ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ' আছে, আর ছানা বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকার ৪৩ নম্বর (BDS 1180:2016)।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৬০,০০০ – ৳৫,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৫০০ – ৳১,২০০ / কেজিবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৪২০ – ৳৬৬০ / কেজিসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার১৫% – ৪৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৭ – ১৩৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়২ – ১৮ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১ – ৪৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৩% – ২০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৫ – ১২০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • দুধ ঠান্ডা রাখার চিলার বা চেস্ট ফ্রিজ (১২৫–২৫০ লিটার ৳২৭,৯০০–৫১,৪০০, দারাজ ২১-০৯-২০২৬), দুধ জ্বাল দেওয়ার বড় হাঁড়ি ও চুলা, ছাঁকনি ও মসলিন কাপড়, পনির প্রেস (ইস্পাত ৳১,১১৯–১,১৪৬) বা অষ্টগ্রামের মতো বাঁশের ঝুড়ি, ওজনের যন্ত্র ও খাদ্যমানের পাত্র। ক্রিম সেপারেটর ৳৩৫,০০০–৪০,০০০। দুধের চর্বি মাপার যন্ত্র ও ছোট পাস্তুরাইজারের দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
  • বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স — মোড়কে নিজের নামে বিক্রি করলে লাগে। বাধ্যতামূলক তালিকায় ছানা ক্রমিক ৪৩ (BDS 1180:2016, ১ম সংশোধিত), চিজ ক্রমিক ১০৭ (BDS CXS 283:2022), ক্রিম চিজ ১০৪, এক্সট্রা হার্ড গ্রেটিং চিজ ১০৫, হোয়ে চিজ ১০৮, বাটার ১১১। নমুনা পরীক্ষার ফি ১৪ কর্মদিবসে: ছানা ৳৪,০০০ (জরুরি ৫ দিনে ৳৮,০০০), চিজ ৳৩,০০০ (৳৬,০০০), ক্রিম চিজ ৳৭,০০০, হোয়ে চিজ ৳১,৩০০ — সব ফি-র সঙ্গে ১৫% ভ্যাট। নতুন সিএম আবেদন ফি ৳১,০০০, বাৎসরিক সিএম ফি উৎপাদনমূল্যের ০.১০%, সর্বনিম্ন ৳৩,৫০০। সময় ১৯–৯৪ কর্মদিবস। 'পনির' নামে আলাদা কোনো ঘর তালিকায় নেই — ছানা ও চিজের ঘর দুটোই প্রযোজ্য হতে পারে, এটি নিশ্চিত করে নিতে হবে।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশনের আদর্শ কর তফসিল ২০১৬-এ ক্রমিক ১৬৩ 'ডেয়ারী জাত দ্রব্যাদি প্রস্তুত' ৳১,০০০, ক্রমিক ৬৭ 'টক দই/মালাই/মাওয়া' ৳৫০০, ক্রমিক ১৮০ 'দই প্রস্তুত' ৳১,০০০; সাইনবোর্ড কর প্রতি বর্গফুট ৳৮০। পৌরসভায় খামার ও কারখানা মূলধনভিত্তিক — ৩–১০ লক্ষ ৳৬০০, ১০–২৫ লক্ষ ৳১,০০০। অর্থবছরভিত্তিক, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নবায়ন।লাইসেন্স
  • পৌরসভা এলাকায় খাদ্য প্রাঙ্গনের নিবন্ধন — পৌরসভা আদর্শ কর তফসিলের দফা ১৮, পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৯ এর ২১ ধারার আওতায়: দুগ্ধজাত খাদ্যবস্তু তৈরীর কারখানা বাৎসরিক ৳৫০০, খাদ্যবস্তু মাড়াই/চূর্ণ/প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রাঙ্গন ৳৫০০, বিক্রয়ের দোকান বড় ৳৪০০ ছোট ৳২০০। বিএসটিআই সিএম লাইসেন্সের শর্তেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে 'প্রিমিসেস লাইসেন্স' চাওয়া হয়।লাইসেন্স
  • অগ্নি নিরাপত্তা সনদ — আয়তনের কোনো ছাড় নেই। ঘি ও মাখনসহ প্রাণিজ চর্বি এবং এলপিজি গ্রুপ-৩ এর তালিকাভুক্ত: ১৫০ বর্গফুট পর্যন্ত ৳২,০০০, ১৫১–৫০০ ৳২,৪০০, ৫০১–১,০০০ ৳৪,০০০, ১,০০১–৩,০০০ ৳৬,০০০, ৩,০০১–৬,০০০ ৳৮,০০০। আবেদন ফরম ৳১০০, ট্রেজারি চালানে। মেয়াদ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত; পরের ছয় মাসে মাসে ৫% বিলম্ব ফি, তারপর বাতিল। পৌরসভায় ৫% ও ইউনিয়ন পরিষদে ১০% রেয়াত। লাইসেন্স ছাড়া কারখানা চালালে আইনের ১৭ ধারায় সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ড।লাইসেন্স
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র — আকারের উপর নির্ভর করে। পরিবার চালানো, বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা: কুটির শিল্প, ছাড়পত্র লাগে না। এর উপরে 'দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ' পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ এর তফসিল-১ এর কমলা শ্রেণির ক্রমিক ১০৬ — আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা (IEE), অনুমোদনে অনধিক ২১ কার্যদিবস, প্রসেসিং ফি ৳৫,০০০, ছাড়পত্র ফি বিনিয়োগভেদে ৳৩,০০০ (১–৫ লক্ষ) / ৳৬,০০০ (৫–১০ লক্ষ) / ৳১০,০০০ (১০–৫০ লক্ষ) / ৳২০,০০০ (৫০ লক্ষ–১ কোটি), মেয়াদ ১ বছর, নবায়ন অর্ধেক ফিতে। ছাড়পত্র ছাড়া ধরা পড়লে বিধি ২৩ অনুযায়ী কারণ দর্শানো, শুনানি, তারপর বন্ধের আদেশ এবং বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ।লাইসেন্স
  • নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে খাদ্য ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন — কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১ এর ক্রমিক ৩: 'সকল প্রকার আইসক্রিম ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ'। মেয়াদ ৩ বছর, মেয়াদ শেষের অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের আবেদন। ফি নিয়ে দুই সূত্রে দুই কথা — কর্তৃপক্ষের খসড়া তফসিল-১০ বলছে নতুন রেজিস্ট্রেশন বিনা মূল্যে ও নবায়ন ৳১০০, সংবাদ প্রতিবেদন বলছে ৳১,০০০ ও ৳৫০০।লাইসেন্স
  • দুধ কোন তাপে কাটাতে হয় এবং কতটা অ্যাসিড বা পুরনো ছানার পানি দিতে হয় তা বোঝা, কতক্ষণ চাপতে হবে তা ধরতে পারা, আর দুধে পানি বা ভেজাল আছে কি না তা চিনতে পারা। অষ্টগ্রামে পুরনো ছানা স্টার্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, ছেঁকে বাঁশের ছাঁচে চেপে লবণ দেওয়া হয় যাতে অনেক দিন থাকে।দক্ষতা
  • দিনের নিশ্চিত দুধ, এবং চর্বির ভিত্তিতে দাম। মিল্কভিটা ০১-০৮-২০২৬ থেকে ৪% চর্বির দুধে লিটারে ৳৫৩, ৪.১%-এ ৳৫৪.১০, ৪.২%-এ ৳৫৫.৩০, ৪.৭%-এ ৳৬০-এর উপরে। সিরাজগঞ্জে খামারিরা বাধ্য হয়ে ৳৪৫–৫০-এ বেচেন, ঘোষরা ৳৪৮–৫৪-এ কেনেন। জাতীয় গড়ে তরল গরুর দুধ পাইকারী ৳৭২.৫৪ ও খুচরা ৳৮০ লিটার (কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, আগস্ট ২০২৬)।সরবরাহকারী
  • পরিষ্কার, নিষ্কাশনসহ ও পানির ব্যবস্থাযুক্ত কর্মকক্ষ, বিদ্যুতের বাণিজ্যিক সংযোগ (ডিপিডিসি এলটি-ই ফ্ল্যাট ৳১৫.৩৬ প্রতি ইউনিট, ডিমান্ড চার্জ ৳৯০ প্রতি কিলোওয়াট প্রতি মাসে, জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর) এবং ছানার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। প্রতি ৪০ কেজি দুধে ৩৫–৩৬ লিটার ছানার পানি বের হয়, আর সেটাই কমলা শ্রেণির ছাড়পত্রের কারণ।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1দুধের জোগান আগে ঠিক করুন, কারখানা পরে। দিনে কত লিটার, কার কাছ থেকে, কত দরে আর দাম কবে মেটাতে হবে — এই চারটি ঠিক না হলে বাকিটা অর্থহীন, কারণ বিক্রয়মূল্যের অর্ধেকের বেশিই দুধের দাম।
  2. 2দুধ যাচাই করার ব্যবস্থা রাখুন — চর্বির মাত্রা ও ঘনত্ব। মিল্কভিটা চর্বি অনুযায়ী দাম দেয়: ৪% চর্বিতে লিটারে ৳৫৩, ৪.৭%-এ ৳৬০-এর উপরে। আপনি যদি না মাপেন, তাহলে পানি মেশানো দুধের দাম আপনাকেই দিতে হবে আর ফলনও কম হবে।
  3. 3ট্রেড লাইসেন্স নিন — সিটি কর্পোরেশনে 'ডেয়ারী জাত দ্রব্যাদি প্রস্তুত' ক্রমিক ১৬৩, ফি ৳১,০০০; পৌরসভায় দুগ্ধজাত খাদ্যবস্তু তৈরির কারখানার প্রাঙ্গন নিবন্ধন আলাদা ৳৫০০।
  4. 4নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে নিবন্ধন করুন। কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১ এর ৩ নম্বরে 'সকল প্রকার আইসক্রিম ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ' আছে, মেয়াদ ৩ বছর।
  5. 5চিলার বা অন্তত একটা ডিপ ফ্রিজ কিনুন — এটাই এই ব্যবসার প্রথম যন্ত্র। ছানা ফ্রিজ ছাড়া পরদিন টক হয়ে যায়, আর একদিনের উৎপাদন নষ্ট হওয়া মানে ওই দিনের দুধের পুরো টাকাটা যাওয়া। ১৫০ লিটারের চেস্ট ফ্রিজ ৳২৭,৯০০ থেকে (দারাজ, ২১-০৯-২০২৬)।
  6. 6দুধ জ্বাল দেওয়ার হাঁড়ি, ছাঁকনি, মসলিন কাপড় ও চাপার ছাঁচ জোগাড় করুন। অষ্টগ্রামে বাঁশের ঝুড়িতে চেপে লবণ দেওয়া হয়; ইস্পাতের পনির প্রেস দারাজে ৳১,১১৯–১,১৪৬।
  7. 7অগ্নি নিরাপত্তা সনদ নিন। আয়তনের কোনো ছাড় নেই — রান্নার জ্বালানি বা এলপিজি সিলিন্ডার থাকলে গ্রুপ-৩/৪: ১৫০ বর্গফুট পর্যন্ত ৳২,০০০, ১৫১–৫০০ ৳২,৪০০, ৫০১–১,০০০ ৳৪,০০০, ১,০০১–৩,০০০ ৳৬,০০০। মেয়াদ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।
  8. 8কারখানার আকার ঠিক করার আগে পরিবেশগত ছাড়পত্রের হিসাব কষুন। পরিবার চালালে এবং বিনিয়োগ ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকলে কুটির শিল্প হিসেবে ছাড়পত্র লাগে না। কিন্তু 'দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ' পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ এর কমলা শ্রেণির ক্রমিক ১০৬ — তাতে অবস্থানগত ছাড়পত্র, প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা, ২১ কর্মদিবস, প্রসেসিং ফি ৳৫,০০০, ছাড়পত্র ফি ৳১০,০০০ (১০–৫০ লক্ষ বিনিয়োগে), আর মেয়াদ মাত্র এক বছর।
  9. 9খোলা বেচবেন নাকি নিজের মোড়কে, তা আগে ঠিক করুন। অষ্টগ্রামের কারিগররা খোলা বেচেন ৳৯০০–১,২০০ কেজি; মোড়কে নিজের নামে বেচতে চাইলে ছানা বাধ্যতামূলক মান সনদের ৪৩ নম্বর (BDS 1180:2016), নমুনা পরীক্ষার ফি ৳৪,০০০ ও চিজের ৳৩,০০০, দুটোতেই ১৫% ভ্যাট আলাদা।
  10. 10ক্রেতা আগে বাঁধুন, উৎপাদন পরে বাড়ান। মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ ও পিৎজার দোকান নিয়মিত নেয়, কিন্তু টাকা দেয় দেরিতে; বাজারে খুচরা বেচলে নগদ পাওয়া যায় কিন্তু পরিমাণ কম। দুটোর মিশেল না থাকলে হয় মাল পড়ে থাকে, নয় টাকা আটকে থাকে।
  11. 11প্রতিদিন কত দুধ ঢুকল, কত পনির বেরোল তা লিখে রাখুন। ৮ কেজিতে ১ কেজি হওয়ার কথা; হঠাৎ ১০ বা ১১ কেজি লাগতে শুরু করলে হয় দুধে পানি, নয় চর্বি কম — লেখা খাতাটাই সেটা ধরিয়ে দেয়।
  12. 12ছানার পানি ফেলবেন না — প্রতি ৪০ কেজি দুধে ৩৫–৩৬ লিটার হয়। গবাদি পশুর খাবার বা পানীয় হিসেবে এর ব্যবহার আছে, তবে এর বাজারদর এখানে যাচাই করা যায়নি।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেকম
  6. জুনকম
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীকিশোরগঞ্জ · অষ্টগ্রামের পনিরের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ৩০-০৪-২০২৫ তারিখে দেওয়া হয়েছে; কারিগররা ৳৯০০–১,২০০ কেজি দরে বেচেন। হাওরের মহিষ ও গরুর দুধ এখানকার ভিত্তি, আর মহিষের দুধে ফলন সবচেয়ে ভালো — ৭ কেজিতে ১ কেজি। তবে উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত পনির কারিগর টিকে আছেন মাত্র ১৪ জন।
  • খুব উপযোগীপাবনা · সিরাজগঞ্জের সঙ্গে লাগোয়া বাঘাবাড়ি দুগ্ধাঞ্চলের অংশ; দুধ সংগ্রহের কাঠামো ও শীতলীকরণ কেন্দ্র এখানে আগে থেকেই আছে।
  • খুব উপযোগীসিরাজগঞ্জ · দেশের প্রধান দুগ্ধাঞ্চল, মিল্কভিটার সংগ্রহ এলাকা। এখানে দুধ সবচেয়ে সহজে ও সবচেয়ে কম দামে মেলে — ০৮-০৪-২০২৬ তারিখে খামারিরা ৳৪৫–৫০ লিটারে বেচতে বাধ্য হচ্ছিলেন। কাঁচামালের দিক থেকে এটাই সেরা জায়গা, তবে প্রতিযোগিতাও সবচেয়ে বেশি।
  • খুব উপযোগীটাঙ্গাইল · মির্জাপুরের উফুল্কি গ্রামের ঘোষপাড়ায় দুধ ভাঙিয়ে ঘি, ছানা ও টক দই তৈরির পুরনো কারবার। ২১-০৮-২০২৬ তারিখে সেখানে এক মণ দুধ কেনা হচ্ছিল কেজি ৳৬০ দরে, আর এক মণ দুধ থেকে মিষ্টির জন্য ৭–৮ কেজি ছানা পাওয়া যাচ্ছিল।
  • খুব উপযোগীঠাকুরগাঁও · মোজারেলা চিজের কেন্দ্র — ১৫-০১-২০২৬ তারিখে ৩৩টি কারখানা মাসে প্রায় ৯৬ টন উৎপাদন করছিল, স্থানীয় বাজারমূল্য মাসে প্রায় ৬০ কোটি টাকা; প্রতিটি মাঝারি কারখানায় ১০–৩৫ জন কর্মী। দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রগুলো দিনে ৬০০–৭০০ লিটার তোলে। চিজ বিক্রি ৳৫০০–৬৫০ কেজি।
  • সম্ভববাগেরহাট · খুলনা অঞ্চলের মহিষের দুধের এলাকা; মহিষের দুধে ফলন সবচেয়ে ভালো — ৭ কেজিতে ১ কেজি পনির। তবে এই জেলার দুধ সংগ্রহের হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবঢাকা · কাঁচামাল নয়, বাজার — মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ, পিৎজার দোকান ও সুপারশপ সবই এখানে, আর খুচরা দাম সবচেয়ে বেশি (আড়ং ডেইরি পনির ২০০ গ্রাম ৳২০০)। তবে দুধ আনতে হয় বাইরে থেকে এবং শহরে কারখানার জায়গা ও ভাড়া দুটোই বেশি।
  • সম্ভবমানিকগঞ্জ · ঢাকার কাছের দুগ্ধ এলাকা — রাজধানীর মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় একদিনের মধ্যে পৌঁছানো যায়, যা ছানার মতো পচনশীল পণ্যের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা। এখানকার আলাদা উৎপাদনের হিসাব যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · দুগ্ধ উৎপাদনের এলাকা এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুগ্ধপ্রযুক্তি শিক্ষার কেন্দ্র। তবে সতর্কতা: ১৯-০৯-২০২৬ তারিখে এই জোনেই লোডশেড ছিল দেশের সর্বোচ্চ ৩১.২%, আর ছানার ব্যবসা ঠান্ডা ছাড়া চলে না।
  • সম্ভবরংপুর · ঠাকুরগাঁওয়ের চিজ কারখানার কাছাকাছি উত্তরের দুগ্ধ এলাকা। তবে ১৯-০৯-২০২৬ তারিখে রাজশাহী জোনে লোডশেড ছিল ১৪.৫% — ঠান্ডা ধরে রাখা এখানে বাড়তি সমস্যা।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: মার্জিনটাই দুধ ও পনিরের দামের ব্যবধান, আর ব্যবধানটা সরু। এক কেজি পনিরে ৮–১০ কেজি দুধ লাগে, তাই দুধের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়লে কেজিতে খরচ বাড়ে ৪০–৫০ টাকা — অথচ মিষ্টির দোকান বা সুপারশপ সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়াতে দেয় না। ২০২৬ সালের আগস্টে মিল্কভিটা খামারির দাম লিটারে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৫৩ করেছে আর ভোক্তার দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ১১০ করেছে; ১৪-০৯-২০২৬ এর মধ্যে আড়ং, আকিজসহ বেসরকারি ডেইরিগুলোও লিটারে ৳১১০–১১৫ করেছে, অর্থাৎ দুধের দাম পুরো বাজারেই উঠেছে। ছোট কারিগর মাঝখানে পড়েন — কিনতে হয় বেশি দামে, বেচতে হয় পুরনো দামে।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: ছানা এক দিনের জিনিস। চিলার না থাকলে যা বিক্রি হলো না তা পরদিন টক হয়ে যায়, আর তখন ওই দিনের দুধের পুরো টাকাটাই নষ্ট — ৫০ কেজি দুধ মানে ৳২,৭৫০। গরমে ফলনও কমে: বিএলআরআই-এর হিসাবে শীতে ৮ কেজি দুধে ১ কেজি পনির হলেও গ্রীষ্মে লাগে ৯ কেজি। অর্থাৎ যে মাসে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, সেই মাসেই খরচও সবচেয়ে বেশি।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: ঠান্ডার উপর পুরো ব্যবসা দাঁড়ানো, আর ঠান্ডা মানে বিদ্যুৎ। ১৯-০৯-২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় দেশে ১,৬৮৬ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল; ১১ আগস্ট ২০২৬-এ তা ৩,১৪২ মেগাওয়াট। ঢাকায় সেদিন লোডশেড ১.৪% হলেও ময়মনসিংহ জোনে ৩১.২%, সিলেটে ১৯.৫%, খুলনায় ১৫.৯%, রাজশাহীতে ১৪.৫% — অর্থাৎ যে জেলাগুলোতে দুধ বেশি, সেখানেই বিদ্যুৎ কম। জেনারেটর কোনো সমাধান নয়: ২১-০৯-২০২৬ থেকে ডিজেল ৳১৩৫ লিটার, ইউনিটপ্রতি প্রায় ০.৪ লিটার ধরলে ব্যাকআপ বিদ্যুতের জ্বালানি খরচই ইউনিটে প্রায় ৳৫৪ — গ্রিডের ৳১৫.৩৬-এর সাড়ে তিন গুণ। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেই আছে, ছোট ব্যবসায়ীরা জেনারেটর চালানোর সামর্থ্য রাখেন না।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: দুগ্ধজাত পণ্য এই চারটি ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাগজ চায়। নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন (খসড়ার তফসিল-১, ক্রমিক ৩), ট্রেড লাইসেন্স, পৌরসভায় খাদ্য প্রাঙ্গনের আলাদা নিবন্ধন, অগ্নি নিরাপত্তা সনদ, আর ৫ লক্ষ টাকার উপরে বিনিয়োগ হলে কমলা শ্রেণির পরিবেশগত ছাড়পত্র — যাতে আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা লাগে আর মেয়াদ মাত্র এক বছর। মোড়কে বিক্রি করতে চাইলে এর উপরে বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স, ১৯–৯৪ কর্মদিবস। নিবন্ধন ছাড়া চালালে নিরাপদ খাদ্য আইনের ৩৮ ধারায় প্রথমবার ৬ মাস–১ বছর কারাদণ্ড বা ৳১,০০,০০০–২,০০,০০০ জরিমানা; অগ্নি লাইসেন্স ছাড়া কারখানা চালালে সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ড।
  • মাঝারিবাকিতে বিক্রি: দুধের দাম নগদে বা সপ্তাহে দিতে হয়, কিন্তু মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ ও সুপারশপ টাকা দেয় দেরিতে। অর্থাৎ যত বেশি সরবরাহ, তত বেশি টাকা বাইরে আটকে, অথচ খামারি অপেক্ষা করবেন না। এই কারণেই ছোট কারিগর বড় ক্রেতা পেয়েও উৎপাদন বাড়াতে পারেন না — পুঁজি বাড়ে না, শুধু বকেয়া বাড়ে। কত দিন পরে টাকা আসে তা এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • মাঝারিঅন্যান্য: দুধে ভেজাল দিলে ক্ষতিটা দুবার হয়। পানি মেশানো দুধে ফলন কমে — ৮ কেজির বদলে ১০-১১ কেজি লাগে, অর্থাৎ কেজিপ্রতি খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। আর ভেজাল দুধে বানানো পনির বিএসটিআই বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায় ফেল করলে চালান আটকায় ও লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়ে। চর্বি মাপার যন্ত্র ছাড়া এই দুটোই ধরা পড়ে অনেক দেরিতে।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঠাকুরগাঁওয়ের একজন পনির উৎপাদক

দিনে ২৭ লিটার দুধ থেকে ২,২০০ লিটার, কর্মী ১০০-র বেশি

২০১২ সালে দিনে ২৭ লিটার দুধ দিয়ে পনির বানানো শুরু; এখন মূল কারখানায় দিনে ২,২০০ লিটার, আরও দুই কারখানায় ২,৫০০ লিটার। ১০০-র বেশি কর্মীর বেতন ৪,৫০০–৫,০০০ টাকা, মালিকের হাতে থাকে মাসে ৬০,০০০–৭০,০০০ টাকা।

কারণ
চাহিদা কম, চলতি মূলধন

একই রকম আরও ব্যবসা

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

তুলসীমালা সুগন্ধি চাল

শেরপুরের জিআই স্বীকৃত সুগন্ধি ধান ফলিয়ে ও ছাঁটিয়ে বিক্রি। ধান ৳২,২০০–২,৪০০ মণ, চাল অনলাইনে ৳১৪৫–১৫০ কেজি — জিআই থাকা সত্ত্বেও সাধারণ সুগন্ধি চালের চেয়ে দাম বেশি নয়।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৩ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
১২০ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

সৌর শুঁটকি — মাচা ও সোলার ড্রায়ারে শুকানো

মাটিতে নয়, মাচায় বা সোলার ড্রায়ারে মাছ শুকিয়ে কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি বানানো। ৩ জুন ২০২৬-এ চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জে ভালো ছুরি শুঁটকি ৳২,০০০–২,৫০০ আর লইট্টা ৳৬০০–১,৫০০ কেজি।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৬ লাখ
জনবল
২ – ২০ জন
প্রথম আয়
২০ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত

কাঁচা মাছ কিনে তিন-চার দিন রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বিক্রি। ডিসেম্বর ২০২৫-এ দর ছিল পোয়া ৳৫০০–৮০০ থেকে রূপচাঁদা ৳১৮০০–২৫০০ কেজি; কীটনাশক ছাড়া শুকানোই রপ্তানির শর্ত।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৫ লাখ
জনবল
৩ – ৩০ জন
প্রথম আয়
৪ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

কর্পোরেট খাবার সরবরাহ

অফিসে প্রতিদিন রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা। ঢাকায় সকালের নাশতা ৳৪০ থেকে আর দুপুরের প্যাকেজ ৳৮৫–১৫০ টাকায় বিক্রি হয়, কিন্তু অফিস বিল দেয় মাস শেষে।

পুঁজি
৳৪৫ হাজার – ৳১.৮ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান