প্রবাস থেকে ফিরে ইজারার পুকুরে পাঙাশ, ১২ পুকুরে বছরে ৫ কোটির মাছ বিক্রি
সিঙ্গাপুরে ১৩ বছর কাটিয়ে ফেরা টাঙ্গাইলের সখীপুরের এক চাষি ইজারার পাঁচটি পুকুরে পাঙাশ দিয়ে শুরু করে এখন ৪০ একরে ১২টি পুকুরে মাছ চাষ করেন। ২০২১ সালে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাছ বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় কোটি টাকা আয় হয়।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের এই চাষি ১৯৯৬ সালে জীবিকার সন্ধানে সিঙ্গাপুরে যান। ১৩ বছর প্রবাসে কাটিয়ে কয়েক লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০৯ সালে দেশে ফেরেন। গ্রামের কয়েকটি পুকুর ইজারা নেন, স্থানীয় মৎস্য কার্যালয় থেকে পরামর্শ নেন, তারপর পাঙাশের পোনা এনে ছোট পাঁচটি পুকুরে চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে পুকুর বাড়ান।
প্রথম আলোর ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নিজ গ্রাম ও আশপাশের ৪০ একর জমিতে ১২টি পুকুরে পাঙাশসহ দেশি মাছ চাষ করেন, খামারে কাজ করেন ১৪ জন কর্মচারী। ২০২১ সালে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাছ বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় কোটি টাকা আয় করেন, সে বছর জেলার সেরা মৎস্যচাষিও নির্বাচিত হন।
তবে তিনি নিজেই সতর্ক করেছেন: মাছের খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন তেমন লাভ হচ্ছে না। পাঙাশের পোনা আগে জেলার হ্যাচারিতে মিলত, এখন আনতে হয় বগুড়া ও সান্তাহার থেকে। করোনার দুই বছর পাঙাশ বিদেশে পাঠানো যায়নি, খাদ্যের দামও বেড়েছে, এতে অনেক চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.নিজের জমি না থাকলেও পুকুর ইজারা নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা যায়, প্রথম বছরের ফল দেখে তারপর বাড়ানো নিরাপদ।
- ২.পাঙাশের দাম কম, লাভ নির্ভর করে খাদ্যের দামের ওপর; খাদ্যের দাম বাড়লে বড় বিক্রিতেও লাভ কমে যায়।
- ৩.শুরুতে স্থানীয় মৎস্য কার্যালয়ের পরামর্শ নেওয়া কাজে দিয়েছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
