বাম্পার ফলন, কিন্তু পেঁপে বিক্রি কেজি ৫–৬ টাকায়; তোলার খরচও ওঠে না
রংপুরের পীরগঞ্জে একসঙ্গে অনেক কৃষক পেঁপে চাষ করায় সরবরাহ বেড়ে দাম কেজি ৫–৬ টাকায় নেমেছে; ৪০ শতকের এক চাষিসহ অনেকে খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় এ মৌসুমে পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নের বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি ও কৃষিজমিতে অনেকে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে বাগান করেছেন। ফলন খুব ভালো, কিন্তু একসঙ্গে সবার পেঁপে বাজারে ওঠায় দাম পড়ে গেছে; কোথাও কেজি মাত্র ৫–৬ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। সোনাতলা গ্রামের এক চাষি জানান, জমি তৈরি, চারা, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যায় খরচ হয়; এই দামে খরচ কোনোরকমে উঠলেও নিজের শ্রমের দাম থাকে না। একই এলাকার আরেক চাষি ৪০ শতক জমিতে পেঁপে করে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল পেয়েছেন, কিন্তু পাইকার ও ব্যবসায়ীরা কম দামে কিনছেন, বাধ্য হয়ে তাঁকেও কম দামে বেচতে হচ্ছে। আরেক কৃষক বলেন, দাম এত কম যে পেঁপে তুলে বাজারে নেওয়ার খরচও অনেক সময় উঠছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ব্যাখ্যা: এ মৌসুমে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জমিতে পেঁপে হয়েছে, আর একই সময়ে অনেকের পেঁপে বাজারে এসেছে। কৃষকদের মতে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বড় বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমত।
যা শেখার আছে
- ১.এলাকায় সবাই একই ফসলে ঝুঁকলে দাম পড়ে যেতে পারে; রোপণের আগে আশপাশে কতজন একই চাষ করছে খোঁজ নিন।
- ২.রোপণের সময় আগে-পরে করে বা আগাম জাত নিয়ে ভরা মৌসুমের বাইরে বিক্রির চেষ্টা করুন।
- ৩.স্থানীয় পাইকারের বাইরে দূরের বড় বাজারে বিক্রির পথ আগে থেকে তৈরি রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
