মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পেঁপে চাষ

ছয়-সাত মাসেই ফল আসে। বিঘায় খরচ প্রায় ৳৫০,০০০, পাইকারি দর কেজি ৳২০–৬৫, আর বিঘায় ২–আড়াই লাখ টাকার পেঁপে তোলা সম্ভব।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পেঁপে চাষ

পেঁপে চাষ

শুরুর পুঁজি
৳৫০,০০০ – ৳২,০০,০০০
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
১৮০ – ২৪০ দিন
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
খরচ উঠতে
৭ – ৯ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

জমিতে পেঁপের চারা লাগিয়ে কাঁচা ও পাকা পেঁপে বিক্রি। ফলের চাষগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে তাড়াতাড়ি টাকা ফেরত দেয় — চারা লাগানোর ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। আম বা মাল্টার মতো দুই-তিন বছর বসে থাকতে হয় না। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দরবেশপুর গ্রামের আবদুল হান্নান তিন বিঘা জমিতে ১,২০০ চারা লাগিয়ে রোপণ ও পরিচর্যায় খরচ করেছেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অর্থাৎ বিঘায় ৫০ হাজার। আট মাসের মাথায় ফলন শুরু হয়, আর প্রথম দুই মাসেই ২১০ মণ পেঁপে পাইকারি বিক্রি করে পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। দর ছিল কেজি ৳২০ থেকে ৳৬৫ — অর্থাৎ ওঠানামা অনেক। তাঁর নিজের হিসাবে বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে তোলা সম্ভব। তবে একটা কথা পরিষ্কার করে জেনে রাখুন। হান্নান যে ১০ লাখ টাকার কথা বলেছেন, তার সাড়ে পাঁচ লাখই আসে বীজ বিক্রি থেকে — ৮০ কেজি বীজ, কেজি গড়ে ৭ হাজার টাকা। বীজ উৎপাদন আলাদা কাজ, আলাদা দক্ষতা আর অনেক ছোট বাজার। শুধু ফল বেচলে তিন বিঘায় হাতে আসবে সাড়ে চার লাখের মতো, তার থেকে দেড় লাখ খরচ বাদ। সংখ্যাটা তাতেও ভালো, কিন্তু ১০ লাখের গল্প শুনে জমি নেবেন না।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১৫,০০০ – ৳৫০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳২০ – ৳৬৫ / কেজিঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
পরিবর্তনশীল খরচ৳৬ – ৳৯ / কেজিসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৫৫% – ৮৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১৮০ – ২৪০ দিনঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
খরচ উঠে আসার সময়৭ – ৯ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১২০ – ২১০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১০% – ২০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৪০০অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত

শুরু করতে যা লাগবে

  • সেচের পাম্প ও পাইপ, আর জমিতে পানি নিষ্কাশনের নালা।যন্ত্রপাতি
  • চারা বা বীজ — বিঘায় প্রায় ৪০০টি। চারার একক দাম যাচাই করা যায়নি; একটি সূত্রে প্রতিটি গাছের পিছনে খরচ ১৫০–২০০ টাকা বলা হয়েছে, তবে এর মধ্যে চারার দাম আলাদা করে দেওয়া নেই।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। খেত থেকে পাইকারের কাছে বিক্রি করলে দরকার নাও হতে পারে, কিন্তু বীজ বা চারার ব্যবসা করলে লাগবে।লাইসেন্স
  • গাছের গোড়ায় পানি জমতে না দেওয়া আর ঠিক সময়ে ফল কাটা। কাঁচা অবস্থায় কাটলে ওজন কম, বেশি পাকলে পথে নষ্ট হয়।দক্ষতা
  • স্থানীয় বাজারের পাইকার বা বেপারী; বীজ বিক্রি করতে চাইলে চারা-বীজের ব্যবসায়ী।সরবরাহকারী
  • উঁচু, পানি না জমা জমি, বিঘা (৩৩ শতক) হিসাবে। বিঘায় ৪০০টি গাছ ধরে জমির পরিমাণ ঠিক করুন।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জাত ঠিক করুন। কুমারখালীতে চলছে মানিকগঞ্জ শাহি দেশীয় জাত; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ভাষায় এই জাতে রোগবালাই কম হয় আর ফলনও ভালো হয়।
  2. 2উঁচু, পানি না জমা জমি নিন। পেঁপের গোড়ায় পানি জমলে গাছ পচে যায়, আর একবার পচলে সেই গাছ আর ফেরে না।
  3. 3বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকে চারা বা বীজ নিন। সফল চাষির বাগান থেকে বীজ নিলে জাত সম্পর্কে নিশ্চিত থাকা যায় — কুমারখালীতে চাষিরা একে অপরের কাছ থেকেই বীজ নিচ্ছেন।
  4. 4সারি করে বিঘায় ৪০০টির মতো চারা লাগান। খুব ঘন করে লাগালে গাছে আলো-বাতাস কম পায়, ফল ছোট হয়।
  5. 5সেচের ব্যবস্থা রাখুন এবং জমিতে পানি নিষ্কাশনের নালা কাটুন। শুকনো মৌসুমে পানি লাগে আর বর্ষায় পানি সরানোর ব্যবস্থা লাগে — দুটোই।
  6. 6প্রথম ছয়-সাত মাস কোনো আয় ধরবেন না। এই সময়ের সার, সেচ ও মজুরির টাকা আলাদা করে হাতে রাখুন।
  7. 7কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে বিক্রি করুন, পাকা পেঁপে ফল হিসেবে। কাঁচা পেঁপে সারা বছর চলে আর দ্রুত পচে না, তাই ঝুঁকি কম।
  8. 8একজন পাইকারের হাতে সব ছাড়বেন না। এক মাসেই দর ৳২০ থেকে ৳৬৫ পর্যন্ত ওঠানামা করে; দুই-তিনজন ক্রেতার দর জেনে তবেই কাটা শুরু করুন।
  9. 9বীজ উৎপাদনকে আলাদা ব্যবসা হিসেবে দেখুন, ফল চাষের বাড়তি নয়। বীজ কেজি গড়ে ৭ হাজার টাকায় যায়, কিন্তু বাজার ছোট আর ক্রেতা হাতে গোনা — আগে ক্রেতা ঠিক করুন, তারপর বীজের জন্য গাছ রাখুন।
  10. 10ছোট করে শুরু করুন। দরবেশপুরের অমল কুমার বিশ্বাস ১৫ শতক জমিতে ১০ হাজার টাকা খরচ করে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন — এভাবে শিখে নিয়ে তারপর জমি বাড়ান।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেবেশি
  6. জুনবেশি
  7. জুলাইবেশি
  8. আগস্টবেশি
  9. সেপ্টেবেশি
  10. অক্টোবেশি
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীকুষ্টিয়া · কুমারখালী উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে পেঁপের চাষ হয়েছে; মানিকগঞ্জ শাহি জাত এখানে ভালো চলছে আর চাষিরা একে অপরের কাছ থেকে বীজ নিচ্ছেন।
  • খুব উপযোগীমানিকগঞ্জ · যে জাত কুষ্টিয়ায় চলছে সেটির নামই মানিকগঞ্জ শাহি — জাতের উৎস এলাকা, তাই বীজ ও চারা এখানে সহজে মেলে।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের সবজির বাণিজ্যকেন্দ্র; মহাসড়ক ধরে ঢাকায় পাঠানো সহজ।
  • সম্ভবচুয়াডাঙ্গা · কুষ্টিয়ার পাশের জেলা, একই মাটি ও একই বাজার ব্যবস্থা।
  • সম্ভবযশোর · সবজির বড় সরবরাহ এলাকা, ঢাকায় পাঠানোর গাড়ি ও আড়ত দুটোই আছে।
  • সম্ভবনরসিংদী · সবজির বড় হাট আছে আর ঢাকার দূরত্ব কম — পচনশীল ফলের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।
  • সম্ভবরংপুর · উঁচু বেলে-দোআঁশ জমি বেশি, আর সবজির পাইকারি বাজার কাছাকাছি।
  • সম্ভবটাঙ্গাইল · ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় পাকা পেঁপে নষ্ট হওয়ার আগেই বাজারে পৌঁছে যায়।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: বীজের আয়ের উপর ভরসা করা বিপজ্জনক। এক চাষির ১০ লাখ টাকার হিসাবের সাড়ে পাঁচ লাখই বীজ থেকে, কিন্তু বীজের ক্রেতা হাতে গোনা কয়েকজন চারা-বীজ ব্যবসায়ী। সেই কয়েকজন না নিলে ৮০ কেজি বীজ বসে থাকবে, আর তখন পুরো হিসাবটাই বদলে যাবে।
  • বেশিচাহিদা: দরের ওঠানামা। একই দুই মাসের মধ্যে হান্নান কেজি ৳২০ থেকে ৳৬৫ পর্যন্ত দরে বিক্রি করেছেন — তিন গুণের পার্থক্য। কাঁচা পেঁপে সবজির বাজারের সবচেয়ে সস্তা পণ্যগুলোর একটি, তাই সব সবজির দাম পড়লে পেঁপের দাম আরও নিচে নামে। ভরা মৌসুমে একসঙ্গে ফল উঠলে খেতেই দাম ভেঙে যায়।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: পাকা পেঁপে কয়েক দিনের জিনিস। গাছে রেখে দিলে পাখিতে খায়, কেটে ফেললে দ্রুত নরম হয়ে যায়, আর নরম ফল পাইকার নেয় না বা অর্ধেক দামে নেয়। হিমাগার বা সংরক্ষণের ব্যবস্থা এই ফসলে নেই বললেই চলে।
  • বেশিঅন্যান্য: গাছের গোড়ায় পানি জমলে বা ভাইরাস লাগলে গাছ মরে যায়, আর মরা গাছ প্রতিস্থাপন করলে আবার ছয় মাস অপেক্ষা। বিঘায় ৪০০টি গাছের মধ্যে বড় অংশ মরলে সেই মৌসুমটাই যায়। রোগের হার বা ক্ষতির অঙ্ক কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: টাকা আগে, ফল পরে। বিঘায় ৫০ হাজার টাকা ঢালতে হয় ছয়-সাত মাস ধরে, অথচ প্রথম টাকা আসে তার পরে। জমি বর্গা নিলে সেই ভাড়াও এই সময়েই দিতে হয়।

ভিডিও ও সাক্ষাৎকার

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিদৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে রংপুরের পীরগঞ্জের পেঁপেচাষিরা, যাঁদের একজনের ৪০ শতক বাগান

বাম্পার ফলন, কিন্তু পেঁপে বিক্রি কেজি ৫–৬ টাকায়; তোলার খরচও ওঠে না

রংপুরের পীরগঞ্জে একসঙ্গে অনেক কৃষক পেঁপে চাষ করায় সরবরাহ বেড়ে দাম কেজি ৫–৬ টাকায় নেমেছে; ৪০ শতকের এক চাষিসহ অনেকে খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

কারণ
দাম পড়ে যাওয়া, নির্ভরশীলতা
যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একজন শিক্ষক ও পেঁপেচাষি

দেড় লাখ খরচে তিন বিঘা পেঁপে, প্রথম দুই মাসেই বিক্রি ১ লাখ ৭০ হাজার

স্কুলের চাকরির পাশাপাশি ২০২৫ সালে তিন বিঘায় ১,২০০ চারা, খরচ ১,৫০,০০০ টাকা। চার মাসে ফুল, পাঁচ মাসে ফল; প্রথম দুই মাসে ২১০ মণ বিক্রি করে ১,৭০,০০০ টাকা — খরচ উঠে গেছে।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ
চলেছে
৫ মাস
কারণ
চলতি মূলধন, চাহিদা কম

কোথায় কিনবেন

এই ব্যবসার জন্য এখনো কোনো সরবরাহকারী যুক্ত হয়নি।

এই ব্যবসায় মাল বা সেবা দেন? বিনা খরচে যুক্ত হোন

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

কৃষি ও খামার

হাঁস-মুরগির হ্যাচারি

ইনকিউবেটরে ডিম বসিয়ে এক দিনের বাচ্চা ফুটিয়ে খামারিদের কাছে বিক্রি। হাঁসের বাচ্চায় খরচ ৳৩০–৩৫ ও বিক্রি ৳৭২–৭৫, কিন্তু মুরগির বাচ্চার দাম দুই মাসে ৳২৫ থেকে ৳৮৫ আবার ৳৫-এ নেমে আসে।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৮ লাখ
জনবল
২ – ১৫ জন
প্রথম আয়
২৮ – ৬০ দিন
বাজারদর
কৃষি ও খামার

অ্যালোভেরা চাষ

ঘৃতকুমারীর পাতা কেটে কোম্পানির কাছে বিক্রি। বিঘায় খরচ প্রায় ৳৫০,০০০, পাতা বিক্রি ৳১.৫–২.৫ লাখ, কিন্তু ক্রেতা শুধু কয়েকটি ওষুধ ও জুস কোম্পানি।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳২ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৯০ – ১২০ দিন
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
কৃষি ও খামার

দুধ সংগ্রহ ও সরবরাহ

খামারির কাছ থেকে দুধ কিনে শীতলীকরণ কেন্দ্র ও দোকানে পৌঁছে দেওয়া। খামারি পান লিটারে ৳৩৫–৫০, কারখানা দেয় ৳৪৮–৫৮ — ফারাকটাই এই ব্যবসা।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৭ – ২১ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

কাজু বাদাম ও কফি চাষ

পাহাড়ের জমিতে কাজুবাদাম ও কফির বাগান। চাষি কাঁচা বাদামে কেজি ৳১৮০–২০০ আর কাঁচা কফিতে ৳৩৫০–৪০০ পান, কিন্তু চারা লাগানোর পর প্রথম ফল পেতে কফিতে ৩–৪ আর কাজুতে ৪–৫ বছর লাগে।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৫ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
১,০৯৫ – ১,৮২৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান