৩০০ টাকায় শুরু, গরুর মাংসের আচারে মাসে ১০০ কেজি বিক্রি; আয় মাসে ৩-৪ লাখ
বগুড়ার এক নারী করোনায় স্বামীর চাকরি যাওয়ার পর মেয়ের মাটির ব্যাংকের ৩০০ টাকায় ব্যবসা শুরু করেন। অনলাইনে বিক্রি করে এখন গরুর মাংসের আচার ও ঘিয়ে মাসে ৩-৪ লাখ টাকা আয়ের কথা জানিয়েছেন।
২০২০ সালে করোনার কারণে হোটেলের চাকরি হারান বগুড়া শহরের এক নারীর স্বামী। ঘরে দুই সন্তান, আয় নেই। ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তাদের একটি গ্রুপ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মেয়ের মাটির ব্যাংক ভেঙে পাওয়া ৩০০ টাকায় আলুর চিপস বানিয়ে অনলাইনে ছবি দিয়ে বিক্রি শুরু করেন। অল্প সময়ে লাভ আসায় সাহস বাড়ে; এরপর চানাচুর ও শাড়িও বিক্রি করেন। বড় সাফল্য আসে গরুর মাংসের আচারে। ইউটিউবে রেসিপি দেখে বাড়িতে বানিয়ে অনলাইনে ছবি দিতেই ব্যাপক সাড়া মেলে। শুরুতে আম, জলপাই, বরই, আমলকী, রসুন ও মরিচের আচার বানাতেন; পরে ঘি, দই, লাচ্ছা সেমাই ও সরিষার তেলও যোগ হয়। এখন প্রতি মাসে প্রায় ১০০ কেজি গরুর মাংসের আচার বিক্রি হয়, কেজি এক হাজার টাকা। এ ছাড়া মাসে প্রায় ৫০ কেজি রসুনের আচার ও ১০০ কেজি ঘি বিক্রি হয়। বিক্রি হয় প্রধানত নারী ও ই-কমার্স ফোরামসহ অনলাইন গ্রুপে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী পণ্য দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৪৭টি দেশে পৌঁছেছে। মাসে আয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা, ১৫ জন কর্মচারী কাজ করেন, ৩০০ টাকার ব্যবসার মূলধন এখন ২০ লাখ টাকা। তিনি দেশীয় পণ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড গড়তে চান। প্রতিবেদনে খরচের হিসাব নেই।
যা শেখার আছে
- ১.খুব ছোট পুঁজিতে অনলাইনে ছবি দিয়ে বিক্রি শুরু করে বাজার যাচাই করা যায়।
- ২.যে পণ্যে সাড়া বেশি (এখানে গরুর মাংসের আচার) সেটিকে মূল পণ্য করে বাকিগুলো সঙ্গে চালানো যায়।
- ৩.আয়ের হিসাবের পাশাপাশি কাঁচামাল ও প্যাকেজিংয়ের খরচ আলাদা রাখুন, না হলে লাভ বোঝা যায় না।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
