দুই জোড়া শখের কবুতর থেকে ৭০০ কবুতর, মাসে ৭০–৮০ হাজার টাকা
ক্লাস নাইনে ৫,০০০ টাকায় স্টেশনারি দোকান, ২০১৪ সালে শখে দুই জোড়া কবুতর। এখন ২০ জাতের প্রায় ৭০০ কবুতর, বাজারদরে ৮–৯ লাখ টাকা; পাখি আর দুই দোকান মিলিয়ে মাসে ৭০–৮০ হাজার টাকা।
বাবার মৃত্যুর পর ২০১২ সালে ক্লাস নাইনে পড়ার সময় পারিবারিক দোকানঘরের এক কামরায় ৫,০০০ টাকা পুঁজিতে স্টেশনারির দোকান দিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখার এই তরুণ। ২০১৪ সালে যৌথ পরিবারের আপত্তি আর বন্ধুদের হাসাহাসি উপেক্ষা করে শখ করে দুই জোড়া কবুতর কেনেন। কবুতর ডিম দেয়, সংখ্যা বাড়ে, আর তিনি সিলেট, বিয়ানীবাজার ও ঢাকা থেকে ভালো জাত সংগ্রহ করতে শুরু করেন; পরে যোগ হয় শৌখিন পাখি। লোকজন যখন দেখতে আসতে আর কিনতে চাইতে শুরু করল, তখনই এটা ব্যবসা হয়ে ওঠে — তাঁর ভাষায়, "কবুতর পোষার শখ ছিল। কিন্তু এখন এটা আমার আয়ের বড় উৎস।" ছাদের খামারে এখন ২০ জাতের প্রায় ৭০০ কবুতর, বর্তমান বাজারদরে যার দাম ৮–৯ লাখ টাকা; জাতভেদে এক জোড়ার দাম ১,৫০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত। সঙ্গে বাজরিগার, ককাটেল ও অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘুসহ আট প্রজাতির শৌখিন পাখি। কোনো প্রশিক্ষণ নেননি, পাখির স্বভাব আর পরিচর্যা শিখেছেন পুষতে পুষতে, আর গম, ভুট্টা, মুগ, সূর্যমুখী, ধান, চিনাবাদাম ও ছোলা মিশিয়ে নিজেই খাবার বানান। এই আয়ে নিজের পড়ার খরচ চালিয়েছেন, পরিবার দেখছেন, আর পাখির খাবার ও ওষুধের দ্বিতীয় একটি দোকান দিয়েছেন; পাখি আর দুই দোকান মিলিয়ে মাসে আসে ৭০,০০০–৮০,০০০ টাকা, যদিও করোনার আগে আয় আরও বেশি ছিল।
যা শেখার আছে
- ১.আয় নির্ভর করে কত পাখি আছে তার চেয়ে কোন জাত আছে তার ওপর — একই ঘরে এক জোড়ার দাম ১,৫০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে
- ২.খাবার আর ওষুধের দোকান দেওয়ায় যাঁরা তাঁকে দেখে কবুতর পুষতে শুরু করেছেন তাঁরাই নিয়মিত খদ্দের হয়েছেন, আর সেই দোকানের আয় পাখি বিক্রির পাশে যোগ হয়েছে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
