ফেরিঘাটে রাতের চিতই পিঠা: ১০ কেজি চালের গুঁড়ায় ৩ হাজার টাকা বিক্রি, লাভ ৮০০–১,০০০
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার চরখালী ফেরিঘাটে এক জেলে দিনে মাছ ধরে রাতে ট্রাকচালকদের কাছে ৫ টাকায় চিতই পিঠা বেচেন। দিনে ১০ কেজি চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি করে খরচ বাদে তাঁর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা থাকে।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় পিরোজপুর-পাথরঘাটা সড়কের চরখালী ফেরিঘাটে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক রাতে অস্থায়ী পিঠার দোকান চালান। তিনি দিনে নদীতে মাছ ধরেন, বাড়তি আয়ের জন্য রাতে তিনটি মাটির চুলায় চিতই পিঠা বানান। সন্ধ্যায় কাজ শুরু করে বেচাকেনা চলে রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি রাতে তিনি ১০ কেজি চালের গুঁড়ার পিঠা বানান, এতে প্রায় তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়। খরচ বাদে লাভ থাকে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। একটি পিঠার দাম পাঁচ টাকা, সঙ্গে বিনা মূল্যে কাঁচা মরিচ ও চিংড়ির ভর্তা। বিকেলে মেশিনে চাল গুঁড়া করেন, গরম পানি বাড়ি থেকে আনেন। তাঁর ক্রেতাদের বেশির ভাগ রাতে চলাচলকারী ট্রাকের চালক ও সহকারী, যাঁরা পাথরঘাটা থেকে মাছ নিয়ে যান এবং ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকেন। তখন আর কোনো দোকান খোলা থাকে না। তিনি চালের গুঁড়ার সঙ্গে আটা বা ময়দা মেশান না। একজন ক্রেতা একসঙ্গে ৮–১০টির কম খান না। কুয়াশায় ফেরি বন্ধ থাকলে পিঠা আগেই বিক্রি হয়ে যায়, ফেরি স্বাভাবিক চললে একটু দেরিতে শেষ হয়। তাঁর ঘরভাড়া নেই, সহকারী নেই, সব কাজ নিজে করেন। রাতের এই আয় তাঁর সংসারে বাড়তি সহায়তা।
যা শেখার আছে
- ১.যে জায়গায় রাতে আর কোনো দোকান খোলা থাকে না, সেখানে ছোট পুঁজির দোকানও নিয়মিত ক্রেতা পায়।
- ২.খাঁটি চালের গুঁড়া ব্যবহার আর বিনা মূল্যে ভর্তা দেওয়া ক্রেতাকে ফিরে আসতে উৎসাহ দেয়।
- ৩.ঘরভাড়া ও সহকারী না থাকায় বিক্রির বড় অংশ লাভ হিসেবে থাকে, তবে ফেরি বন্ধ বা কুয়াশার দিনে বিক্রির সময় বদলে যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
