মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পিঠার দোকান

শীতে ফুটপাতে চুলা বসিয়ে ভাপা, চিতই ও পাটিসাপটা বিক্রি। চিতই ৳৫–১০, ভাপা ৳১০–২০; একটি দোকানে দিনে ২৫০–৮০০ পিঠা বিক্রি হয়, কিন্তু বছরে কাজ মাত্র তিন-চার মাস।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পিঠার দোকান

পিঠার দোকান

শুরুর পুঁজি
৳৫,০০০ – ৳৬০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
৩ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
১ – ৩ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

শীতের সন্ধ্যায় ফুটপাতে মাটির চুলা বসিয়ে গরম পিঠা বিক্রি। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বাসসের হিসাবে শুধু খুলনা মহানগরীতেই শতাধিক অস্থায়ী পিঠার দোকান বসেছিল — রূপসা ঘাট, পিটিআই মোড়, দোলখোলা মোড়, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, খালিশপুর আর দৌলতপুরে। জিনিসটা সোজা: চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড়, নারকেল, কিছু লাকড়ি আর একটা চুলা। কিন্তু হিসাবটা সোজা নয়, কারণ এই ব্যবসা বছরের বারো মাসের নয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে মৌসুম শীতের তিন-চার মাস, মূলত জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ যা আয় হবে তা ওই কয় মাসেই হতে হবে, আর বাকি আট মাস এই চুলা থেকে এক টাকাও আসবে না। বিক্রির ধরনটাও আলাদা — খুলনার মর্জিনা বেগম দিনে ২৫০–৩০০ পিঠা বেচে খরচ বাদে প্রায় ৳৮০০ রাখেন, আবার একই শহরে মঞ্জুর রহমানের দোকানে দিনে ৳৫,০০০–৬,০০০ বিক্রি হয়। পার্থক্যটা জায়গার — ভিড় যেখানে বেশি, সন্ধ্যার পর মানুষ যেখানে দাঁড়ায়। দাম অল্প: চিতই ৳৫, ভাপা ১০ থেকে ২০ টাকা। আর একটা নতুন হিসাব যোগ হয়েছে — ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই গেজেটে প্রকাশিত নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালায় রাস্তার পিঠা বিক্রেতাকেও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হয়েছে; কর্তৃপক্ষের নিজের খসড়ার তফসিল-১ এর এক নম্বর ঘরে 'পিঠা, পুলি, পুরি, পেঁয়াজু' নাম ধরেই লেখা ছিল।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১৫,০০০ – ৳৭০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৫ – ৳৫০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩ – ৳১৫ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৫৫% – ৭০%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৩ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়১ – ৩ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ২০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা২৫০ – ৮০০অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত

শুরু করতে যা লাগবে

  • মাটির চুলা (মাদারীপুরের দোকানে ৪–১০টি একসঙ্গে), চিতইয়ের মাটির খোলা ও ঢাকনা, ভাপার হাঁড়ি ও কাপড়, চালের গুঁড়া গোলার গামলা, নারকেল কুরুনি, ঠোঙা ও কাগজ, বসার টুল আর একটা টিনের বা ত্রিপলের ছাউনি। দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
  • চালের গুঁড়া বা মোটা চাল (গুটি স্বর্ণা পাইকারী ৳৪৩–৪৫ কেজি), আটা (খোলা খুচরা ৳৪৮–৫০, প্যাকেট ৳৬০–৬৫ কেজি), চিনি (খুচরা ৳১০৮–১১২ কেজি) — কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, ১৭-০৯-২০২৬। খেজুরের গুড়, নারকেল, শুঁটকি ও ভর্তার উপকরণের দর এখানে যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
  • নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে খাদ্য ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন — নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, গেজেট ১৬ জুলাই ২০২৬। কর্তৃপক্ষের খসড়ার তফসিল-১ এর ১ নম্বরে 'পিঠা, পুলি, পুরি, পেঁয়াজু' নাম ধরে লেখা, আর চূড়ান্ত গেজেট নিয়ে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেও রাস্তার পিঠা বিক্রেতাকে নিবন্ধনের আওতায় বলা হয়েছে; চূড়ান্ত গেজেটের পূর্ণ পাঠ অনলাইনে পাওয়া যায়নি। মেয়াদ ৩ বছর, মেয়াদ শেষের অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করতে হয়। ফি নিয়ে দুই সূত্রে দুই কথা — দেখুন নিচের ঝুঁকি।লাইসেন্স
  • বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স এখানে লাগে না। বাধ্যতামূলক মান সনদের ৩১৫ পণ্যের তালিকায় পিঠা বা চালের পিঠাজাতীয় কোনো পণ্য নেই, আর সিএম লাইসেন্স দরকার হয় পণ্যের গায়ে বা মোড়কে মান চিহ্ন বসাতে চাইলে। খোলা পিঠা হাতে বিক্রি করলে মোড়কও নেই, চিহ্নও নেই। তবে কেউ যদি পিঠা প্যাকেট করে ব্র্যান্ড নামে বিক্রি শুরু করেন, তখন মোড়কজাত খাদ্য উৎপাদনকারী হিসেবে আলাদা হিসাব শুরু হয়।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স। পৌরসভায় ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান সরাসরি ধরা আছে — পৌরসভা আদর্শ কর তফসিলের দফা ৬(২): তফসিলে নাম নেই এমন যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী ব্যবসার জন্য বাৎসরিক সর্বনিম্ন ৳৩০০ ফিতে লাইসেন্স দেওয়া যাবে; চা/আইসক্রীম/পান/সিগারেটের দোকান ৳৩০০ ('ক' শ্রেণি) বা ৳২০০ ('খ'-'গ' শ্রেণি); সঙ্গে আবেদন ফি ৳৫০ ও সাইনবোর্ড কর প্রতি বর্গফুট ৳১০০। সিটি কর্পোরেশনে পিঠার দোকানের আলাদা ঘর নেই, তাই আদর্শ কর তফসিল ২০১৬-এর ক্রমিক ২৯৫ (অবশিষ্ট) অনুযায়ী ৳১,০০০ (আয়কর দিলে) বা ৳৫০০ (না দিলে), অথবা ক্রমিক ৯৫ চা-পান দোকান ৳৫০০; সাইনবোর্ড কর প্রতি বর্গফুট ৳৮০। অর্থবছরভিত্তিক, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নবায়ন না করলে সিটি কর্পোরেশনে মাসে ৳১০০ বা ফি-র ১০% (যেটি বেশি) সারচার্জ, পৌরসভায় ৫% এবং বকেয়ায় বার্ষিক ১০%। ইস্যু ৩ কর্মদিবস (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ), নবায়ন ১–২ কর্মদিবস।লাইসেন্স
  • অগ্নি নিরাপত্তা সনদ (ফায়ার লাইসেন্স) — অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এর ৪(১) ধারা। আয়তনের কোনো ছাড় নেই: সবচেয়ে ছোট ধাপই 'অনূর্ধ্ব ১৫০ বর্গফুট'। চাল, চিনি ও কাগজ রাখলে গ্রুপ-১ — ১৫০ বর্গফুট পর্যন্ত ৳৯০০, ১৫১–৩০০ ৳১,০০০, ৩০১–৫০০ ৳২,০০০। রান্নার তেল, ঘি বা এলপিজি সিলিন্ডার থাকলে গ্রুপ-৩/৪ — ১৫০ পর্যন্ত ৳২,০০০, ১৫১–৫০০ ৳২,৪০০। আবেদন ফরম ৳১০০, শুধু ট্রেজারি চালানে। মেয়াদ যে তারিখেই দেওয়া হোক ওই অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত; পরের ছয় মাসে মাসে ৫% বিলম্ব ফি, তারপর লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য। পৌরসভায় ৫% ও ইউনিয়ন পরিষদে ১০% রেয়াত। ফায়ার সার্ভিসের ই-লাইসেন্স পোর্টালে 'চা-পান দোকান' ব্যবসার ধরন হিসেবেই আছে।লাইসেন্স
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র এখানে লাগে না। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ এর তফসিল-১ এর টিকা: পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত এবং সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ — এমন কুটির শিল্প, সেবামূলক কর্মকাণ্ড সহ, পরিবেশগত ছাড়পত্রের চাহিদার বাইরে থাকবে। একটি ফুটপাতের পিঠার দোকানের পুঁজি এর অনেক নিচে। তুলনার জন্য: ৩০ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে পুঁজির রেস্টুরেন্ট সবুজ শ্রেণিতে পড়ে — ছাড়পত্র ৭ কর্মদিবসে, মেয়াদ ৫ বছর।লাইসেন্স
  • চালের গোলার ঘনত্ব ধরতে পারা, খোলা কতটা গরম হলে চিতই ছাড়তে হয় তা বোঝা, ভাপা যেন শক্ত না হয় সেটুকু সময় মেপে রাখা, আর ভিড়ের দুই ঘণ্টায় হাত না থামানো। রেসিপি সবাই জানে, গতিটা জানে না।দক্ষতা
  • শীতের আগেই খেজুরের গুড়ের একজন বাঁধা সরবরাহকারী এবং নারকেলের নিয়মিত জোগান ঠিক করে রাখা। মৌসুমে দর বাড়ে আর চাহিদা একসঙ্গে ওঠে।সরবরাহকারী
  • ফুটপাত বা রাস্তার ধারে সন্ধ্যার ভিড়ের জায়গা, বিদ্যুতের একটা বাতি আর পানি পাওয়ার ব্যবস্থা। হকারের জায়গার অনুমতি শহরভেদে আলাদা এবং এর নিয়ম ও খরচ এখানে যাচাই করা যায়নি।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জায়গা ঠিক করুন আগে, রেসিপি পরে। বাসস্ট্যান্ড, ঘাট, কলেজের গেট বা কারখানার ফটক — সন্ধ্যার পর যেখানে মানুষ দাঁড়ায়। খুলনায় দোকানগুলো বসে রূপসা ঘাট, পিটিআই মোড়, দোলখোলা মোড়, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড আর খালিশপুরে; এই একই জায়গার জন্য একই শীতে আরও দশজন দাঁড়াবেন।
  2. 2ফুটপাত বা রাস্তার ধারে বসার অনুমতির খোঁজ নিন সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার রাজস্ব শাখায়। হকারের জায়গা কীভাবে বরাদ্দ হয় তা শহরভেদে আলাদা, আর এই অনুমতির নিয়ম ও খরচ এখানে যাচাই করা যায়নি — স্থানীয় অফিসে জেনে নিতে হবে।
  3. 3ট্রেড লাইসেন্স নিন — ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে দেয়।
  4. 4নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে খাদ্য ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করুন। কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১ এ 'পিঠা, পুলি, পুরি, পেঁয়াজু' নাম ধরে লেখা, আর চূড়ান্ত গেজেট নিয়ে প্রতিবেদনেও রাস্তার পিঠা বিক্রেতার কথা আছে — তাই ফুটপাতের দোকান বলে ছাড় নেই। আবেদন অনলাইনে, মেয়াদ ৩ বছর।
  5. 5চুলা ঠিক করুন। মাদারীপুরের দোকানগুলোতে ৪ থেকে ১০টি মাটির চুলা পাশাপাশি বসানো হয় — একসঙ্গে অনেক পিঠা নামাতে না পারলে সন্ধ্যার ভিড়টাই হাতছাড়া হয়, আর ওই দুই ঘণ্টাতেই দিনের বেশিরভাগ বিক্রি।
  6. 6চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড় ও নারকেলের সরবরাহ ঠিক করুন মৌসুম শুরুর আগেই। শীত পড়ার পর খেজুরের গুড়ের চাহিদা একসঙ্গে বাড়ে, আর তখন দর হাঁকে বিক্রেতা।
  7. 7চিতইয়ের সঙ্গে ভর্তা দিন। শুঁটকি, ধনেপাতা, সরিষা, বাদাম, কালোজিরা, মরিচ — মাদারীপুরের দোকানে এগুলোই সঙ্গে যায়। ভর্তা বিনা পয়সায় দিলেও ক্রেতা ওই দোকানেই ফেরে।
  8. 8দিনের বাজার দিনে করুন। রাতে যা বিক্রি হয় না তা পরদিন চলে না, আর গোলা গুঁড়া টক হয়ে যায়। কত বিক্রি হয় তা দু-তিন সন্ধ্যা দেখে তবেই গোলার পরিমাণ ঠিক করুন।
  9. 9ভিড়ের সময়টা ধরতে একজন বাড়তি হাত রাখুন — একজন পিঠা নামাবেন, একজন টাকা নেবেন আর ঠোঙায় ভরবেন। লাইন লম্বা হলে ক্রেতা পাশের দোকানে চলে যান।
  10. 10রোজ হিসাব লিখুন — কত পিঠা গেল, কত টাকা উঠল, কত খরচ হলো। তিন-চার মাসের ব্যবসায় কোন সন্ধ্যায় কত যায় তা না জানলে পরের শীতে একই ভুল হবে।
  11. 11মৌসুমের শেষে চুলা, তাওয়া ও ছাউনি গুছিয়ে রাখুন এবং আট মাসের জন্য অন্য আয়ের পথ ঠিক করুন। এই ব্যবসা একা চললে বছরের বড় অংশ আয় থাকে না।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চকম
  4. এপ্রিলকম
  5. মেকম
  6. জুনকম
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেকম
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · ফুটপাতের পিঠার ব্যবসার পুরনো কেন্দ্র; নবাবগঞ্জ চৌরাস্তা ও বারুয়াখালী বাজারে একজন বিক্রেতা দিনে প্রায় ৫০০ পিঠা বেচেন বলে সমকালের প্রতিবেদনে এসেছে। শহরের সন্ধ্যার ভিড় আর এক দোকানে ১২ রকম পিঠা রাখার মতো ক্রেতা দুটোই এখানে আছে।
  • খুব উপযোগীদিনাজপুর · ০২-০১-২০২৬ তারিখে নিমতলায় ভাপা ও চিতই দুটোই ৳১০, আর হান্নানের দোকানে দিনে ৳৮,০০০–১০,০০০ বিক্রি হয়েছে, দুই-তিনজন কর্মচারী নিয়ে। উত্তরের শীত ও শহরের ভিড় দুটোই আছে।
  • খুব উপযোগীখুলনা · বাসসের হিসাবে ২৩-১১-২০২৫ তারিখে খুলনা মহানগরীতে শতাধিক অস্থায়ী পিঠার দোকান — রূপসা ঘাট, পিটিআই মোড়, দোলখোলা মোড়, শিশু হাসপাতাল রোড, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, খালিশপুর ও দৌলতপুরে।
  • খুব উপযোগীলালমনিরহাট · উত্তরের জেলা, শীত এখানে দীর্ঘ। ২৫-১১-২০২৫ তারিখে চিতই ৳১০ আর মানভেদে অন্যান্য পিঠা ৳১০ থেকে ৳৫০; একটি দোকানে ছয় কর্মচারী নিয়ে দিনে ৳১০,০০০–২০,০০০ বিক্রি। দেশের মধ্যে এখানেই দোকান সবচেয়ে বড় আকার নিতে দেখা গেছে।
  • খুব উপযোগীমাদারীপুর · ১৫-১১-২০২৫ তারিখে এখানে চিতই ৳১০, ভাপা ৳১৫, পাটিসাপটা ৳১৫ দরে বিক্রি হচ্ছিল আর বিক্রেতার দৈনিক আয় ছিল ৳২,০০০–৫,০০০। শহরের দোকানে ৪–১০টি মাটির চুলা একসঙ্গে বসে, বিক্রেতাদের বেশিরভাগ নারী।
  • খুব উপযোগীপটুয়াখালী · বাউফলের কালাইয়া বাজার, কেশবপুর, কালিশুরী, নাজিরপুর ও বগায় শীত এলেই দোকান বসে; প্রতিটি পিঠা ৳৫–১০ (১৯-১১-২০২৫)। উপজেলা বাজারেও এই ব্যবসা চলে, শুধু বড় শহরে নয়।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · ঢাকা ও খুলনার মতোই বড় শহরের ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও ঘাটকেন্দ্রিক সন্ধ্যার ভিড় আছে। তবে এই জেলার পিঠার দোকান নিয়ে আলাদা কোনো হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি; কাঠামোগত মিল থেকে বলা।
  • সম্ভবগাজীপুর · পোশাক কারখানার ফটকে শীতের সন্ধ্যায় একসঙ্গে বহু শ্রমিক বের হন — পিঠার দোকানের জন্য ভিড়ের যে ধরন দরকার, সেটা এখানে আছে। এই জেলার বিক্রির হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবঝিনাইদহ · খেজুরের গুড়ের হাট এখানে — কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর বাজারে ১৮-০১-২০২৬ তারিখে ১০–১২ কেজির এক ভাঁড় গুড় ৳১,৩০০–১,৮০০ দরে বেচাকেনা হয়েছে, অর্থাৎ কেজি ৳১১০–১৮০। ভাপা পিঠার প্রধান উপকরণটি এখানে উৎসমূল্যে মেলে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: আয়ের পুরোটা তিন-চার মাসের। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বলছে মৌসুম শীতের তিন-চার মাস, মূলত জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। শীত দেরিতে এলে বা মৃদু হলে ওই কয় সপ্তাহ হাতছাড়া হয়, আর পরের সুযোগ আসে এক বছর পর। এর মাঝের আট মাসে চুলা থেকে এক টাকাও আসে না, অথচ সংসার বারো মাসেরই।
  • বেশিনষ্ট হওয়া: পিঠা পরদিন বিক্রি হয় না আর গোলা চালের গুঁড়া টক হয়ে যায়। এক সন্ধ্যায় বৃষ্টি হলে বা ভিড় না হলে যা গোলা হয়েছে তার বড় অংশ ফেলে দিতে হয় — সেদিনের উপকরণের টাকাটাই ক্ষতি। বেশি গোলা করে ঝুঁকিটা বিক্রেতারা রোজই নেন, কারণ কম হলে ভিড়ের সময় পিঠা ফুরিয়ে যায়।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধনের ফি নিয়ে দুই সূত্রে দুই কথা, আর দুটোই বিশ্বাসযোগ্য। কর্তৃপক্ষের নিজের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১০ বলছে খাদ্য ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন বিনা মূল্যে, নবায়ন ৳১০০, বিলম্ব ফি ৳১০০। আর ডেইলি স্টার ২২-০৭-২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত গেজেট সম্পর্কে লিখেছে নিবন্ধন ফি শুরু ৳১,০০০ থেকে, নবায়ন ৳৫০০। চূড়ান্ত গেজেটের এসআরও নম্বর ও ফি তফসিল অনলাইনে এখনো পাওয়া যায়নি, তাই কোনটি প্রযোজ্য তা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে জেনে নিতে হবে। এখানে খসড়ার হিসাবটিকেই বেশি ভরসা করা হয়েছে, কারণ সেটি কর্তৃপক্ষের নিজের দলিল; কিন্তু সেটি খসড়া, চূড়ান্ত নয়।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধন ছাড়া খাদ্য ব্যবসা চালানো নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৩৮ ধারার লঙ্ঘন। আইনের তফসিলের ১৯ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী প্রথমবার ৬ মাস থেকে ১ বছর কারাদণ্ড, অথবা ৳১,০০,০০০ থেকে ৳২,০০,০০০ জরিমানা, অথবা দুটোই; দ্বিতীয়বার ১ বছর কারাদণ্ড বা ৳৪,০০,০০০ জরিমানা বা দুটোই। এই জরিমানা একটি ফুটপাতের দোকানের পুরো মৌসুমের আয়ের কয়েক গুণ।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: উপকরণের দর সারা বছরে ওঠে, দোকানির দাম ওঠে না। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার এক বিক্রেতা বলেছিলেন চিনি আগের বছরের ৳৫২ থেকে ৳১৩০ কেজিতে উঠেছে, আর তাঁরা দাম না বাড়িয়ে পিঠার আকার ছোট করেছেন। ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় চিনি খুচরা ৳১০৮–১১২ কেজি। ৳৫ দামের চিতইয়ে ৳১ খরচ বাড়লে লাভের এক-তৃতীয়াংশ চলে যায়, কিন্তু ৳৫ থেকে ৳৬ করা যায় না — খুচরা পয়সা নেই।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: জায়গাটাই ব্যবসা। খুলনায় একই শীতে শতাধিক অস্থায়ী দোকান বসেছে, আর ভালো মোড়ের সংখ্যা সীমিত। উচ্ছেদ, রাস্তার কাজ বা জায়গা হাতবদল হলে মৌসুমের মাঝখানে ক্রেতা হারাতে হয়, কারণ ক্রেতা দোকান চেনে না, মোড় চেনে।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে সিলেটের একজন ভাপা পিঠা বিক্রেতা

কাপড়ের ব্যবসা ছেড়ে ভাপা পিঠার ঠেলা, দিনে থাকে ৫০০–৬০০ টাকা

বারবার মাল তোলার পুঁজি না থাকায় কাপড়ের ব্যবসা ছেড়ে ভাপা পিঠার ঠেলা। দিনে ৬–৭ কেজি চালের গুঁড়া, কেজিতে ২৫–২৬টি পিঠা, প্রতিটি ১০ টাকা; খরচ বাদে দিনে থাকে ৫০০–৬০০ টাকা।

কারণ
চলতি মূলধন

একই রকম আরও ব্যবসা

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

ঘরে রান্না করে অনলাইনে বিক্রি

ঘরের রান্নাঘরে বানানো আচার-পিঠা-খাবার ফেসবুক পেজে বিক্রি। এক কৌটা আচার ৳১৫০–৪৬৫। ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে প্যাকেটজাত খাবারের নিবন্ধন লাগবে — ৳১,০০০, তিন বছর।

পুঁজি
৳৫ হাজার – ৳৬০ হাজার
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

খই ও বাতাসা তৈরি

ধান ভেজে খই আর চিনি-গুড় জ্বাল দিয়ে বাতাসা-কদমা বানানো। চিনির পাইকারি ৳১০২–১০৩ কেজি, বাতাসা বিক্রি ৳১৯০–৩০০ কেজি। পুঁজি খুব কম, বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স লাগে না।

পুঁজি
৳১৫ হাজার – ৳১.৫ লাখ
জনবল
২ – ৬ জন
প্রথম আয়
১০ – ৪০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

জুস ও শরবতের দোকান

গরমের দিনে লেবু, আখ ও বেলের শরবত গ্লাস ৳১০–২৫, লাচ্ছি ৳৫০। ব্যবসা দাঁড়ায় তিনটি জিনিসের উপর: বরফ, বিদ্যুৎ আর একটাই গরম মৌসুম।

পুঁজি
৳১৫ হাজার – ৳৩ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

মুড়ির কারখানা

চাল ভেজে মুড়ি বানিয়ে বিক্রি। এক কেজি চালে মুড়ি হয় ৯০০ গ্রাম, মোটা চাল ৳৫০–৫৫ কেজি — তাই মেশিনের মুড়িতে কেজিতে থাকে ৪–৬ টাকা, আর হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি পাইকারি ৳৯০ কেজি।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳২ লাখ
জনবল
২ – ৮ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান