১২ ঘণ্টার দোকানে ৩ হাজারের বেশি পিঠা; ১০ টাকা পিস, পাঁচ কর্মী
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক চায়ের দোকানদার দশ বছরের পুরোনো দোকানে তিন বছর আগে নুনগড়া পিঠা যোগ করে গ্রাহক বাড়ান। এখন প্রতিদিন নুনগড়া ও সন্দেশ পিঠা মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি বিক্রি হয়।
সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের পাশে একটি রাস্তার ধারের দোকান চালান ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি চায়ের দোকান দিয়ে শুরু করেন, পরে সন্দেশ, পেঁয়াজু, শিঙাড়া ও চা বিক্রি করতেন। প্রায় তিন বছর আগে নুনগড়া পিঠা (অনেকে বলেন নুনের পিঠা) যোগ করার পর থেকে গ্রাহক বেড়েছে। চালের গুঁড়ার সঙ্গে হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ ও আদা দিয়ে এই পিঠা বানানো হয়; সঙ্গে আছে গুড় ও মৌরি মেশানো মিষ্টি সন্দেশ পিঠা। দোকানের একজন কর্মীর বক্তব্যে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০টি নুনগড়া পিঠা বিক্রি হয়, সন্দেশ পিঠাও প্রায় একই পরিমাণে, আর শিঙাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০টি। পিঠা ও শিঙাড়া প্রতি পিস ১০ টাকা। নুনগড়ার চাহিদা এত বেশি যে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়, কখনো অপেক্ষাও করতে হয় ক্রেতাদের। দোকানে পাঁচজন কর্মী কাজ করেন, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত; তাঁদের মধ্যে তিনজন পিঠা বানান, তবে পালা করে, একসঙ্গে নয়। মালিক বলেন, চালের গুঁড়া ও পানি ঠিক মাপে না হলে পিঠা হয় না, তাই অভিজ্ঞতা লাগে। দোকানদারি ১২ ঘণ্টার হলেও গুঁড়াসহ উপকরণ আগে থেকে তৈরি করতে হয় বলে পুরো দিনই কাজ করতে হয়। ভালো উপার্জন হচ্ছে বলে জানালেও তিনি বলেন, লোকে আয়ই দেখে, পেছনের পরিশ্রম দেখে না; তবু নিজের ব্যবসায় খুশি।
যা শেখার আছে
- ১.চালু চায়ের দোকানে এলাকার জনপ্রিয় একটি পিঠা যোগ করলেই গ্রাহক বাড়তে পারে।
- ২.কম দামে (১০ টাকা) বেশি পরিমাণ বিক্রি করলে আয় আসে, তাই কর্মীদের পালা ভাগ করে উৎপাদন চালু রাখতে হয়।
- ৩.দোকান খোলার আগের প্রস্তুতি, যেমন চালের গুঁড়া তৈরি, পুরো দিনের শ্রম টেনে নেয়; সময় ও খরচে তা ধরে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
