১৫–২০ লাখ টাকা ঋণে ছয় পুকুরে মাছ, বিক্রির আগমুহূর্তে বন্যায় ভেসে গেল
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের এক মৎস্যচাষি ব্যাংক, এনজিও ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছয়টি পুকুরে মাছ ছেড়েছিলেন। বিক্রির কয়েক দিন আগে ২০২৬ সালের বন্যায় অধিকাংশ মাছ ভেসে যায়, এখন ঋণ শোধের পথ নেই।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে টানা বর্ষণ ও ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মৎস্য খাতে বড় ক্ষতি হয়। উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক জরিপে প্রায় ১ হাজার ৬৩০টি পুকুর ডুবে প্রায় ২২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ভেসে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের একজন পৌরসভার পূর্ব জোয়ারা এলাকার ৪৮ বছর বয়সী এক চাষি। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি কয়েকটি ব্যাংক ও এনজিও থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ছয়টি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল কয়েক দিনের মধ্যেই মাছ বিক্রি করে ঋণ শোধ করবেন। কিন্তু ঠিক বিক্রির আগমুহূর্তে বন্যার পানিতে ছয় পুকুরের অধিকাংশ মাছ ভেসে যায়।
তিনি বলেন, ‘ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছি। ভেবেছিলাম মাছ বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে।’ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা করা হচ্ছে, সরকারি সহায়তা বরাদ্দ এলে বিতরণ করা হবে। অনেকে সরকারি-বেসরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে চাষ করেছিলেন, ফলে একই মৌসুমে ক্ষতি ও ঋণ দুটোই ঘাড়ে চেপেছে।
যা শেখার আছে
- ১.বর্ষার আগে পুকুরের পাড় উঁচু করা ও জাল দিয়ে ঘেরা না থাকলে এক রাতের ঢলে পুরো মৌসুমের পুঁজি চলে যেতে পারে।
- ২.পুরো চাষ ঋণে চালালে এবং বিক্রি বর্ষার শেষে রাখলে ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়; কিছু মাছ আগেভাগে বিক্রি করে ঋণের অংশ শোধ রাখা ভালো।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
