প্লাস্টিকের ভিড়ে ফিকে মাটির খেলনা; ৩০ বছরের এক কুমার এখন বানাচ্ছেন কুয়ার রিং
খুলনার দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছার পালপাড়ায় পহেলা বৈশাখের আগে মাটির পণ্যের ব্যস্ততা থাকলেও বিক্রি আগের মতো নেই। প্লাস্টিকের পণ্য ও উপযুক্ত মাটির অভাবে অনেকে পেশা ছেড়েছেন, আর ৩০ বছরের এক কারিগর এখন স্যানিটারি রিং ও কুয়ার রিং বানাচ্ছেন।
খুলনার দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছার পালপাড়ায় পহেলা বৈশাখের আগে কারিগররা মাটির ব্যাংক, পুতুল ও খেলনা বানাতে ব্যস্ত, কিন্তু আগের মতো বিক্রি নেই। প্লাস্টিকের খেলনার ভিড়ে মাটির পণ্যের চাহিদা কমেছে। এক সময় দিঘলিয়ার সেনহাটি পালপাড়ার প্রায় প্রতিটি পরিবার এই পেশায় ছিল; আয়-ব্যয়ের অসংগতিতে অনেকে এখন দিনমজুর বা অন্য কাজে। বোয়ালিয়া পালপাড়ার এক মৃৎশিল্পী ৩০ বছর ধরে বাপ-দাদার ব্যবসা ধরে রেখেছেন। তাঁর পরিবারের আর কেউ এ পেশায় আসতে চায় না, মাটির জিনিসের চাহিদাও কমছে; তাই তিনি এখন স্যানিটারি ল্যাট্রিনের চাক বা কুয়ার রিং তৈরি করছেন। তবু মেলা ও পূজা-পার্বণে চাহিদা আছে: গদাইপুর মাঠে চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের মেলায় মাটির তৈজস ও খেলনার বেচাকেনা ভালো হয়। ডুমুরিয়ায় ৫ থেকে ৬টি জায়গায় মাটির তৈজস তৈরি হয়, কিন্তু উপযুক্ত মাটির অভাবে দৃষ্টিনন্দন পণ্য বানানো যাচ্ছে না, শুধু গতানুগতিক হাঁড়ি-কলসি হচ্ছে। সেখানকার এক দোকানি নববর্ষের জন্য কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সুন্দর মাটির পণ্য কিনে এনে বিক্রি করেন। উপজেলা প্রশাসন বলছে, যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা আছে। কারিগররা সরকারি সহায়তা এবং মেলা-প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাটির পণ্যের প্রচার চান।
যা শেখার আছে
- ১.শুধু খেলনা-তৈজসের ওপর নির্ভর করলে প্লাস্টিকের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন; রিং বা নির্মাণসামগ্রীর মতো ভিন্ন মাটির পণ্য একটি পথ হতে পারে।
- ২.মেলা ও পূজা-পার্বণে বিক্রি ভালো; উৎসবের ক্যালেন্ডার ধরে উৎপাদন সাজান।
- ৩.উপযুক্ত মাটি না পেলে পণ্যের মান বাড়ে না; কাঁচামালের উৎস আগে নিশ্চিত করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
