ইতালিতে রপ্তানির টালি: ৪১ কারখানার জায়গায় এখন ২০টি সচল, প্রতি টালির লাভ শূন্য
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০৩ সালে রপ্তানির টালি তৈরি শুরু হয়ে বহু কারখানা গড়ে ওঠে, কিন্তু রপ্তানি, শ্রমিক ও মাটির সংকটে এখন অর্ধেকেরও কম সচল। জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, মালিকেরা তাতেই আশা দেখছেন।
সাতক্ষীরার কলারোয়ার মুরারীকাটি পালপাড়ায় মাটির টালি তৈরি একসময় বড় শিল্প ছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ সালের দিকে এক ইতালীয় ব্যবসায়ীর আগ্রহে টালির কাজে গতি আসে; ২০০৩ সালের শুরুতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় এবং ওই বছরই প্রথম ইতালিতে রপ্তানি হয়। পরে জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যেও টালি যায়। একসময় কলারোয়ায় ৪১টি কারখানা ছিল, শুধু তুজলপুরেই ১৪টি; এখন সচল ২০টি, তুজলপুরে তিনটি। বন্ধ হওয়ার কারণ রপ্তানি কমা, শ্রমিক ও মাটির সংকট, উৎপাদন খরচ বাড়া। ২০২২ সালের আগে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি টালিতে ২ থেকে ৪ টাকা লাভ থাকত, এখন তা হচ্ছে না। এক কারখানার মালিক বলেন, রপ্তানি কমার সঙ্গে জাহাজভাড়া বেড়ে সংকট তৈরি হয়েছে। আরেক মালিকের কারখানা থেকে একবার ফ্রান্সে ১৩ কনটেইনার টালি গিয়েছিল, ক্রেতা আরও ২০০ কনটেইনার চাইলেও ব্যবসায়িক সমস্যায় তা এগোয়নি। কাঁচা টালি তৈরির পর বিভিন্ন ধাপে প্রায় ২৫ শতাংশ অপচয় হয়। নারী শ্রমিক প্রতিটি টালির জন্য ৬ টাকা ৭৫ পয়সা পান, দিনে ১০০টি বানালে ৬৭৫ টাকা। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জিআই নিবন্ধনের আবেদন হয়েছে; মালিকেরা আশা করছেন নিবন্ধন পেলে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।
যা শেখার আছে
- ১.একটি বিদেশি ক্রেতা বা বাজারের ওপর নির্ভরতা বিপজ্জনক; রপ্তানি কমলে পুরো এলাকার কারখানা বন্ধ হতে পারে।
- ২.মাটি, শ্রমিক ও জাহাজভাড়ার খরচ বাড়লে প্রতি টালির লাভ শূন্যে নামে; খরচের প্রতিটি অংশ আলাদা করে ধরে দাম ঠিক করুন।
- ৩.বর্ষায় কাজ বন্ধ থাকে ও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় হয়, এটি মার্জিনে ধরে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
