৩০ হাজার টাকার ইনকিউবেটরে দেড় মাসে ১,০০০–১,২০০ বাচ্চা, হ্যাচারি থেকে মাসে ১৫–২০ হাজার টাকা
পিরোজপুরের নেছারাবাদের এক তরুণ চাকরি না পেয়ে ঘরে হাঁস-মুরগির খামার করেন, পরে ইউটিউব দেখে ৩০ হাজার টাকায় ইনকিউবেটর কিনে বাচ্চা ফোটানো শুরু করেন। এখন খামারের মূলধন ১০ লাখ টাকার বেশি।
পিরোজপুরের নেছারাবাদের সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের বিনয়েকপুর গ্রামের এক তরুণ পড়ালেখা শেষে ভালো চাকরি না পেয়ে হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মুরগি পালার অভ্যাস ছিল। প্রথমে কয়েকটি দেশি মুরগি দিয়ে শুরু, লাভ আসতে শুরু করলে গরু, ছাগল ও কবুতর যোগ হয়। বড় পরিবর্তন আসে ইউটিউবে ইনকিউবেটরে বাচ্চা ফোটানোর ভিডিও দেখে। বাজারে একটি মুরগির বাচ্চার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তাই তিনি নিজেই বাচ্চা উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ হাজার টাকায় একটি ইনকিউবেটর কিনে প্রথমে ২৮০টি ডিম দিয়ে পরীক্ষা চালান, সফলতা আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এখন প্রতি দেড় মাসে তাঁর ইনকিউবেটর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ বাচ্চা ফোটে। মুরগির ডিম ফুটতে ২১ দিন লাগে, হাঁসের ডিমে ৩০ দিন। তিনি ডিম কেনেন ৮ থেকে ১০ টাকায়, ফলে খরচ কম, লাভ বেশি। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাচ্চা ফুটিয়ে তাঁর মাসিক আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, আর পুরো খামার মিলিয়ে মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। খামারে দেশি গরু, ছাগল, দুই শতাধিক কবুতর, হাঁস-মুরগির শেড আর আলাদা কক্ষে ইনকিউবেটর আছে; একজন কর্মচারী পরিচর্যা করেন। কয়েক হাজার টাকায় শুরু করা উদ্যোগে মূলধন এখন ১০ লাখ টাকার বেশি। তিনি খামার বড় করতে এবং গ্রামের শিক্ষিত বেকার তরুণদের এই কাজ শেখাতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.বাজারে বাচ্চার দাম ৫০–৬০ টাকা আর ডিমের দাম ৮–১০ টাকা; নিজে ফোটালে মাঝের পার্থক্যটা আয় হয়।
- ২.প্রথমে ২৮০টি ডিম দিয়ে ছোট পরীক্ষা করে ৬০ শতাংশ সফলতা পেয়েছেন, তারপর বাড়িয়েছেন; ছোট থেকে শুরুই নিরাপদ।
- ৩.মুরগি ও হাঁসের ডিম ফোটার সময় আলাদা (২১ ও ৩০ দিন); সময় মিলিয়ে ইনকিউবেটর ভরার হিসাব রাখতে হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
