৫০০ কোয়েল দিয়ে শুরু, এখন ১৬ হাজার মা কোয়েল ও হ্যাচারি; মাসে আয় ৩–৫ লাখ টাকা
সখীপুরের এক প্রবাসফেরত উদ্যোক্তা ২০১২ সালে ৫০০টি কোয়েলের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। করোনায় লোকসানের পর ২০২৩ সালে হ্যাচারি চালু করে এখন মাসে প্রায় দুই লাখ বাচ্চা বেচে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় করেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের সখীপুরের এক যুবক সৌদি আরবে একটি পানির কারখানায় চাকরি করার সময় টিভিতে বগুড়ার একটি কোয়েল খামারের প্রতিবেদন দেখে ঠিক করেন, দেশে ফিরে এমন খামার করবেন। ২০১১ সালে ছয় বছর পর দেশে ফিরে বগুড়ার সেই খামার ঘুরে অভিজ্ঞ খামারির পরামর্শ নেন। ২০১২ সালের শুরুতে বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে বগুড়া থেকে আনা ৫০০ কোয়েলের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। তিন বছরের মধ্যে কোয়েলের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়ায়। ২০২০ পর্যন্ত কোয়েল ও ডিম বেচে ভালোই চলছিল, কিন্তু করোনায় বড় লোকসান হয়; অনেকে খামার ছাড়লেও তিনি হাল ছাড়েননি। ২০২৩ সালে চালু করেন কোয়েলের হ্যাচারি। এখন খামারে প্রায় ১৬ হাজার প্রজননক্ষম মা কোয়েল দৈনিক ১০–১২ হাজার হ্যাচিং ডিম দেয়, ১৭ দিন পর বাচ্চা ফোটে। মাসে প্রায় দুই লাখ বাচ্চা দেশের নানা জেলার খামারিদের কাছে বিক্রি হয়; প্রতিটি ৭–৮ টাকায়, লাভ ২–৩ টাকা। মাসে আয় ৩–৫ লাখ টাকা। পাঁচজন শ্রমিক কাজ করেন, বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটর চালু হয়, আর খাবারের জন্য নিজস্ব মেশিন আছে। তাঁকে দেখে সখীপুরে অন্তত পাঁচ-ছয়জন নতুন কোয়েল খামার করেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.হ্যাচারিতে যাওয়ার আগে অভিজ্ঞ খামারির খামার দেখে পরামর্শ নেওয়া কাজে লাগে।
- ২.মহামারির মতো ধাক্কার পর শুধু ডিম-পাখির বদলে বাচ্চা বিক্রির নতুন পথ খুঁজে ঘুরে দাঁড়ানো গেছে।
- ৩.বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটর এবং নিজস্ব খাদ্য-যন্ত্র থাকলে হ্যাচারি ও খরচ সামলানো সহজ হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
