১০ হাজার টাকায় ঘরে বসে হাতের সেলাই, এখন মাসে ৩–৪ লাখ টাকার বিক্রি
রংপুর নগরের এক গৃহিণী ইউটিউব দেখে সুই-সুতার কাজ শিখে স্বামীর জন্য পাঞ্জাবি বানিয়ে ফেসবুক পেজে ব্যবসা শুরু করেন। এক প্রবাসী ক্রেতার প্রতারণায় লোকসান খেয়েও আবার শুরু করে এখন ৫০ জনের বেশি নারীকে কাজ দিচ্ছেন।
রংপুর নগরের সাতমাথা বীর ভদ্র রেলগেট এলাকার এই তরুণী দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০১৭ সালে বিয়ে করেন। ঘরে বসে কিছু করার ইচ্ছা থেকে স্বামী তাঁকে কিস্তিতে একটি মুঠোফোন কিনে দেন। ইউটিউব দেখে সুই-সুতার কাজ শিখে প্রথমে স্বামীর জন্য হাতের সেলাইয়ের নকশা করা পাঞ্জাবি বানান। ২০২১ সালে 'হাতের ছোঁয়া' নামে ফেসবুক পেজ খোলেন এবং প্রায় ১০ হাজার টাকা পুঁজিতে কাপড়, সুই-সুতাসহ ছোট সরঞ্জাম কেনেন। পথে বড় ধাক্কা আসে: ইতালিপ্রবাসী এক ক্রেতার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকার অর্ডার পেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লোকসান হয়। ২০২৩ সালে নকশা আঁকা ও সেলাইয়ের সূক্ষ্ম কাজ আরও রপ্ত করে তিনি আবার ব্যবসা শুরু করেন। এখন তাঁর পেজ থেকে পাঞ্জাবি, কামিজ, ফতুয়া, টু-পিস ও নকশিকাঁথা বিক্রি হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয় এবং তাঁর নিজের মাসিক আয় থাকে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। ৫০ জনের বেশি নারী তাঁর সঙ্গে কাজ করেন; একজন নারী মাসে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। তিনি ভবিষ্যতে কাজ আরও বাড়াতে চান, যাতে আরও নারী কাজ পান।
যা শেখার আছে
- ১.বড় অঙ্কের অর্ডার, বিশেষ করে দূরের বা বিদেশি ক্রেতার, অগ্রিম টাকা ছাড়া নেবেন না।
- ২.ঘরে বসে সেলাইয়ে পুঁজি কম লাগে; ইউটিউবে দক্ষতা বাড়িয়ে ও ফেসবুক পেজে বিক্রি করে ধাপে ধাপে বড় হওয়া যায়।
- ৩.অর্ডার বাড়লে এলাকার নারীদের পিস-রেটে কাজ দিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
