১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মোটরচালিত ঢেঁকি, ঢেঁকিছাঁটা চাল বেচে মাসে ৩০–৩৫ হাজার আয়
গাইবান্ধার এক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার করোনার সময় চাকরি ছেড়ে ঘরে ফিরে বৈদ্যুতিক ঢেঁকি বানান। ঢেঁকিছাঁটা চাল অনলাইনে বিক্রি করে দুই বছরে মাসে ৩০–৩৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
গাইবান্ধা সদরের খামারবোয়ালি গ্রামের এক তরুণ ২০১৬ সালে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি নেন। ২০২০ সালে করোনার শুরুতে বাড়ি ফেরেন। রোগ প্রতিরোধক্ষমতার আলোচনা দেখে ভাবলেন, ভাত পুষ্টিকর হলে ক্ষমতা বাড়বে, তাই বানালেন বৈদ্যুতিক মোটরে চলা কলের ঢেঁকি। চার অশ্বশক্তির একটি মোটরে একসঙ্গে দুটি ঢেঁকি চলে। অবকাঠামোসহ খরচ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি ঘণ্টায় এক মণ ধান ছাঁটা যায়, দিনে আট ঘণ্টা চালানো যায়। ঢেঁকিছাঁটা আমন চাল তিনি কেজিপ্রতি ৮৮ টাকায় বিক্রি করেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালান, অনলাইনে ও মুঠোফোনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে পাঠান। অন্য কেউ এক মণ ধান আনলে ছাঁটাইয়ের জন্য নেন ১৫০ টাকা, যেখানে চালকলে লাগে ৩০ টাকা। দুই বছর ধরে এ চাল বিক্রি করে মাসে ৩০–৩৫ হাজার টাকা আয় করছেন। বাড়ির কাছে ২২ শতাংশ জমি কিনেছেন, সেখানে ভবিষ্যতের প্রকল্প হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি ইলেকট্রিক ঢেঁকি বসিয়ে দুই-আড়াই শ মানুষের কাজ দিতে চান; এ জন্য বিনিয়োগকারী বা সুদবিহীন ঋণ চান।
যা শেখার আছে
- ১.বড় চালকলের সঙ্গে পাল্লা না দিয়ে ঢেঁকিছাঁটা চালের মতো আলাদা পণ্য নিয়ে অনলাইনে ক্রেতা ধরা যায়।
- ২.ছোট যন্ত্র নিজে বানালে পুঁজি কম লাগে; এখানে মোটর ও কাঠামো মিলিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
- ৩.ঘণ্টায় এক মণের সীমা আছে, তাই আয় বাড়াতে হলে আরও ঢেঁকি ও বিনিয়োগ লাগবে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
