উপহারের এক ছাগল থেকে চার বছরে ৮০টি, তবে শুরুতে ভুল খাবার আর রোগে মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে উপহার পাওয়া একটি যমুনাপাড়ি ছাগল থেকে ছাদে খামার গড়েছেন। চারণভূমি না থাকায় প্রথম ছাগলটি ভুল খাবারে মারা যায়, প্রথম দেড় বছরে রোগে আরও অনেকগুলো মারা যায়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসীতে কলকারখানা বাড়ায় কৃষিজমি ও চারণভূমি কমে গেছে। সেখানে এক তরুণ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী, ফুফুর ৮০টির বেশি ছাগলের খামারে হাতে-কলমে শিখেছিলেন। ২০১৮ সালে ফুফু তাঁকে বাচ্চাসহ একটি যমুনাপাড়ি ছাগল উপহার দেন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারণভূমি না থাকায় ঘাসের অভাবে না বুঝে নানা কিছু খাওয়ানোয় এক সপ্তাহের মধ্যে মা ছাগলটি মারা যায়, তবে তার আগে দুটি বাচ্চা দেয়। প্রথম দেড় বছরে রোগবালাই সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতিতে বেশ কিছু ছাগল মারা যায়। কোভিডে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় তিনি দক্ষ হন। পাল বড় হলে ছাগল প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঢুকে অভিযোগ আসে, সড়ক দুর্ঘটনায়ও কয়েকটি মারা যায়; তখন বাধ্য হয়ে বাড়ির ছাদে পালন শুরু করেন।
খাবারের জন্য তিনি কারখানার খালি জায়গার ঘাস বিনা পয়সায় কেটে আনেন—কারখানাগুলো পরিষ্কারের খরচ বাঁচাতে তাঁকেই খবর দেয়—আর আশপাশের বাড়ির কাটা ডালপালা সংগ্রহ করেন। চার বছরে খামারে অন্তত ৮০টি ছাগল জন্মেছে; প্রতিবেদনের সময় ছাদে ২০ থেকে ৩০টি ছাগল ছিল। এক বন্ধু অনলাইনে ছাগল বিক্রির ব্যবস্থা করেন। প্রতিবেদনে আয়ের নির্দিষ্ট অঙ্ক দেওয়া হয়নি।
যা শেখার আছে
- ১.চারণভূমি না থাকলে খাবারের নিয়মিত উৎস আগে ঠিক করুন; ভুল খাবারে প্রথম ছাগলটিই মারা গিয়েছিল।
- ২.রোগবালাই আর টিকার জ্ঞান ছাড়া শুরুর দেড় বছরে মৃত্যুর হার বেশি থাকে; অভিজ্ঞ খামারির কাছে শিখে নিন।
- ৩.শহরে ছাগল প্রতিবেশী ও সড়কের জন্য সমস্যা হতে পারে; ছাদ বা ঘেরা জায়গায় আটকে রাখার ব্যবস্থা আগে ভাবুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
