মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
ফিরে যান
যা শিখেছিকুড়িগ্রামের রৌমারীর বন্দবেড় বাজারের একটি সার ডিলার প্রতিষ্ঠান

গুদামে ৭৫০ বস্তা সার, সামনে ১,০০০ কৃষক: বেড়া ভেঙে সার নেওয়ায় ডিলারের ক্ষতি ১৫ হাজার টাকা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে একটি সার ডিলারের গুদামের সামনে প্রায় ১,০০০ কৃষক জড়ো হলে ঠেলাঠেলিতে বেড়া ও দরজা ভেঙে প্রায় ৫০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়। ইউনিয়নভিত্তিক সমান বরাদ্দ, কয়েক দিন পরপর বিক্রয়কেন্দ্র খোলা আর চাহিদার চেয়ে কম সার মিলে ডিলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় বাজারে সরকার-নির্ধারিত একটি সার ডিলার প্রতিষ্ঠানের গুদামে এক সোমবার সকালে প্রায় ১,০০০ কৃষক সার নিতে জড়ো হন। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে তখন গুদামে ছিল ৭৫০ বস্তা সার। ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে কিছু লোক প্রায় ৫০ বস্তা সার নিয়ে যান; পরে কয়েকজন সার ও টাকা ফেরত দেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিদিন খোলা থাকে না; কয়েক দিন পরপর খোলায় একসঙ্গে বহু কৃষক ভিড় করেন, আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সার না পাওয়ার হতাশা থেকেই ঘটনাটি ঘটে। বরাদ্দের নিয়মেও সমস্যা আছে: প্রতিটি ইউনিয়নে সমান সার বরাদ্দ হয়, অথচ বন্দবেড়ে কৃষক ৮,৫২৮ জন আর পাশের শৌলমারীতে ৬,৮৫৮ জন। ফলে বেশি কৃষকের ইউনিয়নে সার দ্রুত ফুরিয়ে যায়। বন্যা না হওয়ায় এ বছর উপজেলায় ধানের আবাদ ১,৬২৫ হেক্টর বেড়েছে, কিন্তু বরাদ্দ সে অনুযায়ী বাড়েনি; ইউরিয়ার বরাদ্দ ২,০৪০ টন, চাহিদা প্রায় ২,০৯৫ টন; টিএসপি ৫১০ টন ও ডিএপি ৯০০ টন, যেখানে চাহিদা প্রায় ১,৬৭৬ টন করে। ঘটনার পর প্রশাসন খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমেও সার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। পরীক্ষামূলকভাবে নয়টি খুচরা দোকানে ৪০ বস্তা সার দেওয়া হয়; এক খুচরা বিক্রেতা সকাল ৭টার দিকে ২০০ কেজি পেয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে সব বিক্রি করে ফেলেন। উপজেলা সদরের আরেক ডিলারের মত, শুধু ডিলারের দোকান দিয়ে এই সংকট সামলানো কঠিন। এর আগে ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীর ধলডাঙ্গা বাজারে আরেক ডিলারের গুদাম থেকে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পরে ১১৫ বস্তা ফেরত আসে; সময়মতো সার না দেওয়া ও ক্যাশমেমোর গরমিলের অভিযোগে সেই ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

যা শেখার আছে

  1. ১.সরকারি বরাদ্দের সার বিক্রি করলে নিয়মিত নির্দিষ্ট দিনে বিক্রয়কেন্দ্র খোলা রাখুন; কয়েক দিন পরপর খুললে একসঙ্গে ভিড় জমে ঝুঁকি বাড়ে।
  2. ২.বিতরণের আগে প্রশাসন ও পুলিশকে জানিয়ে রাখুন এবং ওয়ার্ডভিত্তিক বা স্লিপ দিয়ে ধাপে ধাপে বিতরণ করুন, যাতে গুদামের ওপর চাপ না পড়ে।
  3. ৩.বরাদ্দ ও হিসাবের কাগজ (ক্যাশমেমো) ঠিক রাখুন; দেরিতে সরবরাহ বা গরমিলের অভিযোগে ডিলারশিপ নিয়েই নোটিশ আসতে পারে।

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।