মালিকের ৩৪টি নৌকা, দিনে খাটে মাত্র ১০–১২টি — সেতুতে কমেছে যাত্রী
সদরঘাটে এক মালিকের ৩৪টি নৌকা দেখভাল করা মাঝি জানান, ভরা বর্ষাতেও দিনে ১০–১২টির বেশি নৌকা ভাড়ায় যায় না। বাবুবাজার ও পোস্তগোলা সেতুর পর নৌকায় পারাপার কমে গেছে।
ঢাকার সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা পারাপারের নৌকাগুলোর বেশির ভাগ মালিকের, মাঝিরা দিনচুক্তিতে চালান। সমকালের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে দুই যুগের বেশি নৌকা চালানো এক মাঝির কথা এসেছে, যিনি একই সঙ্গে মালিকের ৩৪টি নৌকা দেখভাল করেন। তাঁর ভাষায়, ঘাটে এখন মাঝির চেয়ে নৌকা বেশি; দিনে ১০-১২টি নৌকা খাটে, শুক্র-শনিবার আরও কম। অর্থাৎ ভাড়ার জন্য রাখা নৌকার দুই-তৃতীয়াংশই অলস পড়ে থাকে। কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবুবাজার ও পোস্তগোলা সেতু হওয়ায় নৌকায় মানুষের যাতায়াত কমে গেছে। যাত্রী খরায় জনপ্রতি ১০ টাকার ভাড়া অনেক মাঝি ৫ টাকাতেও নিচ্ছেন। পটুয়াখালী থেকে আসা এক মাঝি জানান, দিনে গড়ে ৬০০ টাকা আয়, এর মধ্যে নৌকার মালিক ও খাবার বাবদ ২৫০ টাকার মতো চলে যায়। মেরামতের কাজও কমেছে; ২৭ বছর নৌকা মেরামত করা এক কারিগর বলেন, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন, এখন কাজ নেই বললেই চলে। তবে ঘণ্টা চুক্তিতে পর্যটকদের বুড়িগঙ্গা ঘোরানো নৌকার আয় কিছুটা বেশি।
যা শেখার আছে
- ১.যে পারাপার-পথের পাশে সেতু হচ্ছে, সেখানে নতুন নৌকা কিনে ভাড়া দেওয়ার আগে চাহিদা কতদিন টিকবে ভাবুন।
- ২.খেয়া পারাপারের চাহিদা কমলে ঘণ্টাচুক্তিতে পর্যটক ঘোরানোর মতো অন্য কাজে নৌকা লাগানোর পথ খুঁজুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
