৬০-৭০ হাজার পুরোনো বইপত্র; এক পত্রিকা ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি, তবু আর্থিক কষ্ট
কিশোরগঞ্জের এক সংগ্রাহক কাগজ কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি দুর্লভ বই জমিয়ে ‘ওল্ড কালেকশন’ নামে পুরোনো বুকশপ চালান। ফেসবুক পেজে বিক্রি হয়, কিন্তু ধুলাবালু ও সংরক্ষণের সমস্যায় তিনি আর্থিক কষ্টে আছেন।
নওগাঁর রানীনগরের ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ১২ বছর ধরে কিশোরগঞ্জের পশ্চিম হারুয়ায় থেকে কাগজ কেনাবেচার ছোট ব্যবসা করছেন। ২০১৫ সালের শুরুতে তিনি দেখেন, হাওরাঞ্চলে ৪০-৫০ বছর আগের পুরোনো পত্রিকা-ম্যাগাজিন কেটে বিড়ি বানানো হচ্ছে। তখন তিনি ঠিক করেন, এসব ইতিহাসের সাক্ষী নষ্ট হতে দেবেন না এবং সংগ্রহ শুরু করেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশ থেকে পুরোনো বই প্রথমে একটি গুদামে আনেন, সেখান থেকে বেছে মূল্যবান জিনিস রাখেন একটি মাঝারি দোকানঘরে, যা ‘পুরোনো বুকশপ’ নামে পরিচিত। তাঁর ফেসবুক পেজ ‘ওল্ড কালেকশন’। এখন তাঁর সংগ্রহে ৬০ থেকে ৭০ হাজার পুরোনো বইপত্র আছে। যে জিনিস দুটি বা বেশি থাকে, একটি রেখে বাকি বিক্রি করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বরের ‘দৈনিক বাংলাদেশ’ পত্রিকা এক প্রবাসী লেখকের কাছে ৬০ হাজার টাকায় এবং ১৯৭০ সালের একটি গোয়েন্দা উপন্যাস এক অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসীর কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে দোকান রাস্তার পাশে হওয়ায় ধুলাবালুর সমস্যা আছে, শেলফে কাচ নেই, সংরক্ষণ ঠিকমতো হয় না। এক নিয়মিত দর্শনার্থীর মতে, তিনি আর্থিক কষ্টে আছেন।
যা শেখার আছে
- ১.একই জিনিসের দুটি থাকলে একটি বিক্রি করা যায়; ফেসবুক পেজ দেশ-বিদেশের ক্রেতা এনে দেয়।
- ২.দুর্লভ জিনিস কদাচিৎ বিক্রি হয়, তাই নিয়মিত আয়ের জন্য কাগজ কেনাবেচার মতো আলাদা আয়ের উৎস রাখা দরকার।
- ৩.ধুলা ও আর্দ্রতা থেকে পুরোনো কাগজ রক্ষায় আগে থেকে কাচের শেলফ বা ভালো জায়গার খরচ ধরুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
