মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পুরোনো বইয়ের দোকান

ব্যবহৃত বই কিনে আবার বিক্রি করা। ঢাকার পুরানা পল্টনের বাজারে পুরোনো বই বিকিয়েছে বইপ্রতি প্রায় ৳২০–৩০ দরে (মে ২০২৪)। নীলক্ষেতে দোকান ভাড়া ছিল মাসে ৳১২,০০০ থেকে ৳৫০,০০০, অগ্রিম ৳২ থেকে ৳৮ লাখ।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পুরোনো বইয়ের দোকান

পুরোনো বইয়ের দোকান

শুরুর পুঁজি
৳২,৫০,০০০ – ৳৯,৫০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
৩ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৬ – ৩৪ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

পুরোনো বই কিনে আবার বেচার কাজ। বই আসে কয়েক জায়গা থেকে — পড়া শেষ হওয়া ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে, উপন্যাস ফেরত দিয়ে যাওয়া পাঠকের কাছ থেকে, আর নির্দিষ্ট কিছু 'পার্টির' কাছ থেকে যারা বস্তা ভরে এনে দেয়। কেনা হয় ওজনে বা গাদা ধরে, বেচা হয় বই ধরে — এই দুইয়ের ফারাকই এখানে লাভ। ঢাকায় বইয়ের সবচেয়ে বড় জায়গা নীলক্ষেত; সেখানে প্রায় ৭৫০টি বইয়ের দোকানের কথা বলা হয়েছে, যদিও এক দশক আগের আরেক প্রতিবেদনে সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৪০০ — দুটোর কোনোটিই সরকারি গণনা নয়। নতুন বইয়ের পাইকারি জায়গা বাংলাবাজার। নীলক্ষেতের বাইরেও বাজার আছে: পুরানা পল্টনে তোপখানা রোডে আর মিরপুর-২ স্টেডিয়াম গেটে। পুরানা পল্টনে এক ক্রেতা চারটি বই কিনেছেন ৳৮০ টাকায়, আরেকজন ৬৭টি বই নিয়েছেন ৳২,০০০-এর কমে। দোকানের খরচ বইয়ের দামের তুলনায় অনেক বড় — নীলক্ষেতে ছোট দোকানের ভাড়া মাসে ৳১২,০০০ ও অগ্রিম ৳২ লাখ, বড় দোকানের ভাড়া ৳৫০,০০০ ও অগ্রিম ৳৮ লাখ পর্যন্ত। এই বাজারের একটা বড় অংশ ফটোকপি করা ও নকল ছাপা পাঠ্যবই, আর সেটা আইনত অপরাধ। কপিরাইট আইন, ২০২৩-এ অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি বিক্রি, বিক্রির প্রস্তাব বা বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শন করাই কপিরাইট লঙ্ঘন, আর তার সাজা অনধিক চার বছর কারাদণ্ড ও অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। নকল বানানোর প্লেট বা সফট কপি দখলে রাখলে দুই বছর বা ২ লাখ টাকা, আর দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে পাঁচ বছর বা ৫ লাখ।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১২,০০০ – ৳৫০,০০০বাজারদর
বিক্রয় মূল্য৳২০ – ৳৩০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৫ – ৳১৫ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৫০% – ৭৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৩ – ৪৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৬ – ৩৪ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১২০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১০% – ৩০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৩০ – ২০০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • কাঠ বা লোহার তাক, ওজন মাপার দাঁড়িপাল্লা (ওজনে বই কেনার জন্য), পলিথিন বা ত্রিপল, আর অনলাইনে বেচতে চাইলে একটি ফোন ও ভালো আলো। দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
  • শুরুর বইয়ের গাদা। পুরোনো বই ওজনে বা গাদা ধরে কেনা হয় আর বই ধরে বেচা হয়; পুরানা পল্টনের বাজারে বইপ্রতি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৳২০–৩০ দরে। কেজিপ্রতি কেনার দর কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি — শুরুর আগে নিজের এলাকার ভাঙারি ও 'পার্টির' কাছে দর জেনে নেওয়া দরকার।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কর্মদিবসে দেয়, প্রতি বছর নবায়ন। ডিএনসিসি এলাকায় আবেদন অনলাইনে erevenue.dncc.gov.bd-তে; ইস্যু ৩ কর্মদিবস, নবায়ন ২ কর্মদিবস, আর ফি সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬-এর ১০(৪) ধারা অনুযায়ী।লাইসেন্স
  • কোন পাঠ্যবইয়ের কোন সংস্করণ এখন চলছে তা মনে রাখা, বইয়ের অবস্থা দেখে দাম ঠিক করা, নকল ছাপা ও আসল বই আলাদা করতে পারা, আর দুষ্প্রাপ্য বই চিনতে পারা। এই চেনাটাই ৳২০-এর বই আর ৳২,০০০-এর বইয়ের পার্থক্য।দক্ষতা
  • বই আসার তিনটি লাইন — পরীক্ষা শেষে বই বেচতে আসা ছাত্রছাত্রী, উপন্যাস ফেরত দেওয়া পাঠক, আর বস্তা ভরে বই এনে দেওয়া নির্দিষ্ট 'পার্টি'। নতুন বইয়ের জন্য বাংলাবাজারের পাইকারি বাজার।সরবরাহকারী
  • ছাত্রছাত্রীর হাঁটাপথে একটি দোকান। নীলক্ষেতে ছোট দোকান মাসে ৳১২,০০০ ভাড়া ও ৳২ লাখ অগ্রিম, বড় দোকান ৳৫০,০০০ ভাড়া ও ৳৮ লাখ অগ্রিম — দোকানদারদের বরাতে, তথ্য ১২ মাসের বেশি পুরোনো। বই ভারী, তাই মেঝে শক্ত ও ছাদ ফুটো নয় এমন ঘর দরকার।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1ঠিক করুন কী বই বেচবেন — পাঠ্যবই ও গাইড, নাকি উপন্যাস ও সাধারণ বই। পাঠ্যবইয়ে বিক্রি বেশি কিন্তু সংস্করণ বদলালে মজুত মরে যায়; উপন্যাস ধীরে বিকোয় কিন্তু পুরোনো হয় না।
  2. 2জায়গা বাছুন। ছাত্রছাত্রীর হাঁটাপথে না হলে পুরোনো বইয়ের দোকান চলে না — কলেজ গেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা বা কোচিংয়ের এলাকা।
  3. 3ভাড়া ও অগ্রিম আগে জেনে নিন। নীলক্ষেতে ছোট দোকানে মাসে ৳১২,০০০ ভাড়ার সঙ্গে ৳২ লাখ অগ্রিম, বড় দোকানে ৳৫০,০০০ ভাড়ার সঙ্গে ৳৮ লাখ অগ্রিম দেওয়ার কথা দোকানদাররা বলেছেন। অগ্রিমই এখানে সবচেয়ে বড় এককালীন খরচ।
  4. 4সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন — ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কর্মদিবসে।
  5. 5বই আসার পথ বানান। ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা শেষে বই বেচতে আসেন, পাঠকরা উপন্যাস ফেরত দেন, আর কিছু নির্দিষ্ট 'পার্টি' বস্তা ভরে বই এনে দেয়। এই তিনটি লাইন না থাকলে দোকান খালি হয়ে যায়।
  6. 6কেনার সময় বই খুলে দেখুন — পাতা ছেঁড়া কি না, সংস্করণ কত সালের, আর ভেতরে দাগানো কি না। গাদা ধরে কিনে ফেললে অর্ধেকটাই অবিক্রীত থেকে যায়।
  7. 7নতুন বই লাগলে বাংলাবাজারের পাইকারি বাজার থেকে আনুন। প্রকাশকরা কত শতাংশ কমিশন দেন তা এখানে যাচাই করা যায়নি — কয়েকজন প্রকাশকের কাছে দর নিয়ে তবে মাল তুলুন।
  8. 8ফটোকপি করা বা নকল ছাপা বই রাখবেন না। কপিরাইট আইন, ২০২৩-এ অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি বিক্রি করা, বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া বা দোকানে সাজিয়ে রাখাই লঙ্ঘন, আর ৮৪ ধারায় সাজা অনধিক ৪ বছর কারাদণ্ড ও অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
  9. 9পাঠ্যবই বিষয় ও শ্রেণি ধরে সাজান, আর কোন সংস্করণ চলছে তা খাতায় লিখে রাখুন। ছাত্র এসে সংস্করণের নম্বর বলেন, বইয়ের নাম নয়।
  10. 10ভর্তি ও শিক্ষাবর্ষের মৌসুম ধরে আগেই বই জমান। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি আর জুলাই-আগস্টে বিক্রি বাড়ে; ওই সময়ে গাদা খালি থাকলে সারা বছরের আয় মার খায়।
  11. 11অনলাইনে ছবি দিয়ে বই বেচার লাইন খুলুন। দুষ্প্রাপ্য বইয়ের ক্রেতা শহরের বাইরেও থাকেন, আর সেখান থেকেই ভালো দাম আসে।
  12. 12বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে বই বাঁচানোর ব্যবস্থা রাখুন — পলিথিন, উঁচু তাক, আর ফুটপাতের টেবিল হলে ঢাকনি। ভিজে যাওয়া বই আর বিক্রি হয় না।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইবেশি
  8. আগস্টবেশি
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোকম
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভিড় — পাঠ্যবই ও গাইডের নিয়মিত ক্রেতা এখানেই।
  • খুব উপযোগীঢাকা · নীলক্ষেত দেশের সবচেয়ে বড় বইয়ের বাজার — এক প্রতিবেদনে প্রায় ৭৫০টি দোকানের কথা বলা হয়েছে। নতুন বইয়ের পাইকারি বাজার বাংলাবাজার, আর পুরোনো বইয়ের আলাদা বাজার আছে পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে ও মিরপুর-২ স্টেডিয়াম গেটে।
  • খুব উপযোগীরাজশাহী · রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী কলেজ ঘিরে বড় ছাত্রসমাজ, আর উত্তরের জেলাগুলো থেকে ভর্তি পরীক্ষার্থীরাও এখানে আসেন।
  • সম্ভববরিশাল · বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএম কলেজের ছাত্রছাত্রী, আর দক্ষিণের জেলাগুলো থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র, আজিজুল হক কলেজসহ বড় কলেজগুলোর ছাত্র আর আশপাশের জেলার কোচিং শিক্ষার্থীরা।
  • সম্ভবকুমিল্লা · কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া কলেজ ও মেডিকেল কলেজ; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বলে নীলক্ষেত থেকে বই আনাও সহজ।
  • সম্ভবখুলনা · খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট ও মেডিকেল কলেজ ঘিরে চাহিদা; দক্ষিণের জেলাগুলোর ছাত্ররাও এখানে বই খোঁজেন।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও আনন্দ মোহন কলেজের বড় ছাত্রসংখ্যা, আর কৃষি ও চিকিৎসার পাঠ্যবই দামি বলে পুরোনো কপির চাহিদা বেশি।
  • সম্ভবরংপুর · বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ ঘিরে ছাত্রসমাজ; তবে ক্রয়ক্ষমতা কম বলে দামি বইয়ের বাজার ছোট।
  • সম্ভবসিলেট · শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমসি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রধান ক্রেতা; তবে বাজারটি ঢাকার তুলনায় অনেক ছোট।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: ফটোকপি করা ও নকল ছাপা পাঠ্যবই এই বাজারের বড় অংশ, আর সেটা কপিরাইট আইন, ২০২৩-এ স্পষ্ট অপরাধ। ৬৯ ধারা বলছে, অধিকার লঙ্ঘনকারী অনুলিপি বিক্রি করা, বিক্রি বা ভাড়ার প্রস্তাব দেওয়া, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করা বা বিতরণ করা — সবই লঙ্ঘন। ৮৪ ধারায় সাজা অনধিক ৪ বছর কারাদণ্ড ও অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড; মুনাফার উদ্দেশ্য না থাকলে অনধিক ৬ মাস বা ৫০ হাজার টাকা। নকল বানানোর প্লেট বা সফট কপি দখলে রাখলে ১০৫ ধারায় অনধিক ২ বছর বা ২ লাখ টাকা বা উভয়, আর দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে ১০৬ ধারায় অনধিক ৫ বছর বা ৫ লাখ টাকা। 'সবাই তো রাখে' এই যুক্তি আদালতে চলে না।
  • বেশিচলতি মূলধন: সবচেয়ে বড় টাকা যায় দোকানের অগ্রিমে — নীলক্ষেতে ৳২ থেকে ৳৮ লাখ, যা ফেরতযোগ্য হলেও ব্যবসা চলাকালীন আটকে থাকে। তার উপর মাসে ভাড়া ৳১২,০০০–৫০,০০০। বই বিক্রি হয় ৳২০–৩০ টাকায়, অর্থাৎ শুধু ভাড়া তুলতে মাসে কয়েকশ থেকে দুই হাজারের বেশি বই বেচতে হয়। মৌসুম খারাপ গেলে ভাড়াটাই খেয়ে ফেলে।
  • বেশিচাহিদা: পাঠ্যবইয়ের সংস্করণ বা সিলেবাস বদলালে মজুত রাতারাতি মূল্যহীন হয়ে যায়। যে বই গত বছর ৳৩০০ ছিল, সংস্করণ বদলের পর তা কেজি দরে বেচা ছাড়া উপায় থাকে না। নীলক্ষেতের দোকানদাররা আগেও বলেছেন, চাহিদা কমলে তাঁরা কর্মচারী ছাঁটাই করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন।
  • মাঝারিনষ্ট হওয়া: বই ভিজলে বা স্যাঁতসেঁতে থাকলে শেষ। ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকানে বর্ষার এক দিনের বৃষ্টিতেই গাদার একটা অংশ নষ্ট হয়, আর ভেজা বই কেউ কেনে না। নীলক্ষেতের বিক্রেতাদের বৃষ্টি ও ঝড়ে ভোগান্তি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনই হয়েছে।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: মজুত পুরোপুরি নির্ভর করে কে বই বেচতে আসছে তার উপর। ছাত্ররা এখন পিডিএফ ও অনলাইন নোট বেশি ব্যবহার করলে পুরোনো বইয়ের জোগানই কমে যায়, আর দোকানের তাক ভরাতে বাংলাবাজার থেকে নতুন বই কিনতে হয় — সেখানে লাভ অনেক কম।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা শিখেছিবাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে কুমিল্লার একজন পুরোনো বই বিক্রেতা

একদিনের ৬০–৭০ হাজার টাকার বিক্রি এখন সারা মাসেও হয় না

৪৫ বছরের পুরোনো পুরোনো-বইয়ের দোকানে একদিনে যা বিক্রি হতো, এখন সারা মাসেও তা হয় না। মোগলটুলী-ধর্মপুরে দোকান ১০টি থেকে নেমে ৪টি।

কারণ
চাহিদা কম

একই রকম আরও ব্যবসা

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

ইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকান

তার, সুইচ, সকেট, হোল্ডার, বাতি ও ফ্যানের খুচরা দোকান। বিএসটিআইয়ের ৩১৫টি বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় ৫০টিই বৈদ্যুতিক — সনদহীন তার বেচলে জরিমানা আর দোকান সিলগালা হয়।

পুঁজি
৳২.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

চাল পাইকারি ব্যবসা

মোকাম থেকে বস্তা ধরে চাল এনে খুচরা দোকানে বিক্রি। ঢাকায় পাইকারি মোটা চাল ৳৪৩–৪৫, খুচরা ৳৫০–৫৫ — কিন্তু পাইকারের হাতে থাকে কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা।

পুঁজি
৳২.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
২ – ৮ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

কসমেটিকস দোকান

ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ ও সাজসজ্জার পণ্য বিক্রির দোকান। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকায় অন্তত ১৮টি প্রসাধনী — সনদ ছাড়া বা কাগজবিহীন আমদানি করা মাল তুললে দায় দোকানদারের।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

চশমার দোকান

ফ্রেম আর লেন্স এনে দোকানে বসে চশমা বানিয়ে দেওয়া। একজোড়া সাধারণ চশমা ৳৬৪৯ থেকে ৳৫,৪০০ (অনলাইন দর, ২১-০৯-২০২৬)। বিএসটিআইয়ের কোনো সনদ লাগে না, ট্রেড লাইসেন্সই একমাত্র কাগজ।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান