২০ বছর ধরে শীতলপাটি বুনছেন মা-মেয়ে: পাটি ২০০–১,২০০ টাকা, হাতপাখা ১০০–৩০০ টাকা
সুনামগঞ্জের ছাতকের এক নারী প্রায় ২০ বছর ধরে বাঁশ-বেতের শীতলপাটি, হাতপাখা ও ঝুড়ি বানিয়ে গ্রামের হাটে বিক্রি করে মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। এখন ইন্টারনেটে বিক্রি বাড়ানোর কথা ভাবছেন।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার লক্ষ্মীবাউর গ্রামের এক নারী প্রায় ২০ বছর ধরে বাড়িতে বাঁশ-বেত দিয়ে শীতলপাটি, হাতপাখা ও বসার মোড়া বানিয়ে বিক্রি করছেন। মেয়ে ছোট থাকতে বাবা মারা গেলে মা পাটি বানানো শুরু করেন, পরে অন্য পণ্যও যোগ হয়। এখন মা ও মেয়ের সংসার এই আয়েই চলে। তিনি গ্রামের লোকের বাড়ি বা হাট থেকে মুর্তা বা বেত কেনেন, তা তৈরি করে রং করেন, তারপর মা-মেয়ে মিলে পাটি বোনেন। তিন রকম পাটি হয়: বিছানার, নামাজের ও বসার জন্য। একটি বড় পাটি বুনতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগে, দাম ২০০ থেকে ১,২০০ টাকা; নকশা করা পাটির দাম একটু বেশি। দিনে তিন-চারটি হাতপাখা বানানো যায়, দাম ১০০–৩০০ টাকা। বাঁশের ঝুড়ি ও মাছ ধরার চাঁইও বানান। বিক্রি হয় গ্রামের হাটে; বিয়ের আগে অনেকে ফোনে পাটি-পাখার অর্ডার দিয়ে রাখেন। গ্রামীণফোনের উঠান বৈঠকে ইন্টারনেটে নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প শুনে তাঁরা ঠিক করেছেন, মেয়ের স্মার্টফোন দিয়ে মোবাইলে পণ্য দেখিয়ে ক্রেতা বাড়াবেন। প্রতিবেদনে মাসিক আয় বা খরচের হিসাব দেওয়া নেই।
যা শেখার আছে
- ১.বিয়ের মৌসুমে পাটি-পাখার অর্ডার আগে থেকে আসে; অর্ডার ধরে কাজ করলে উৎপাদন ও বিক্রি মিলিয়ে রাখা যায়।
- ২.বড় পাটি বুনতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগে, তাই সময়ের মজুরি হিসাব করে দাম ঠিক করুন; নকশার পাটির দাম বেশি পাওয়া যায়।
- ৩.হাটের বাইরে মোবাইল-ইন্টারনেটে পণ্য দেখালে নতুন ক্রেতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যে পথে এই মা-মেয়ে এগোতে চান।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
