শীতলপাটি বুনন
মুর্তার বেতি দিয়ে হাতে পাটি বোনা। ঝালকাঠিতে একটি পাটি চার-পাঁচ দিনে বুনে বিক্রি ৳১,০০০–৩,৫০০, আর জিআই সনদ থাকলেও দাম বাড়েনি — কারিগর এখনো মহাজনের দাদনেই বাঁধা।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

শীতলপাটি বুনন
- শুরুর পুঁজি
- ৳১০,০০০ – ৳৮০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১২ – ৩৬৫ দিন অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
- খরচ উঠতে
- ২ – ৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ঘরে বসে · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
মুর্তা বা পাইত্রা গাছের ডগা চিরে সরু বেতি তুলে, ভিজিয়ে, শুকিয়ে, রং করে হাতে পাটি বোনা। কাজটা লম্বা। গাছ পরিপক্ব হতে প্রায় এক বছর লাগে; বাজারে এক পোন অর্থাৎ ৮০টি লম্বা ডগা কিনতে হয় ৳৭০০–৮০০ টাকায়। একটি ডগা থেকে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি বেতি ওঠে — খুব দক্ষ কারিগর ১৮ থেকে ২০টিও তুলতে পারেন। বেতিগুলো ভাতের মাড় মেশানো পানিতে সাত-আট দিন ভিজিয়ে, ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে, কিছু রং করে তবে বুনন শুরু হয়। ঝালকাঠির রাজাপুরে একটি সাধারণ পাটি বুনতে চার-পাঁচ দিন লাগে আর বিক্রি হয় ৳১,০০০ থেকে বড়জোর ৳৩,৫০০ টাকায়। অর্থাৎ কাঁচামালের দাম বাদ দেওয়ার আগেই দিনে দাঁড়ায় ৳২০০ থেকে ৳৮৭৫। নকশাদার সূক্ষ্ম পাটিতে সময় অনেক বেশি, আর দামও বেশি। এখন প্রশ্ন হলো, স্বীকৃতি দিয়ে কি দাম বাড়ে? উত্তরটা সোজা — না। শীতলপাটির বুননশিল্প ২০১৭ সালে ইউনেসকোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় উঠেছে, আর ২০২৩ সালে বিসিক 'বাংলাদেশের শীতলপাটি'র জিআই নিবন্ধনের সনদ পেয়েছে। তার পরেও ২০২৬ সালে ঝালকাঠির পাটিকর কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলছেন, এই শিল্পে কোনো সরকারি সহায়তা নেই, আর আর্থিক সংকটে কারিগরেরা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে কাজ করেন বলে কম দামেই পাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। মৌলভীবাজারের রাজনগরের ধুলিজুড়ায় একসময় শতাধিক পরিবার পাটি বুনত, এখন চার-পাঁচটি; বাকিরা দিনমজুরির কাজে চলে গেছেন। প্লাস্টিকের পাটি আর বৈদ্যুতিক পাখাই মূল কারণ। কাজেই জিআই বা ইউনেসকোর নাম ধরে দাম ঠিক করবেন না — বাজার ঠিক করে দাম, আর বাজারটা ছোট হয়ে আসছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৪,৫০০ – ৳৩০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১,০০০ – ৳৭,০০০ / একক | অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৮০০ – ৳২,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২০% – ৭১% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১২ – ৩৬৫ দিন | অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ২ – ৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩৩% – ৫০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ০.১ – ১ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- ডগা চেরার ছুরি ও দা, বেতি ভেজানোর পুকুর বা চৌবাচ্চা, রং করার জন্য জ্বাল দেওয়ার পাত্র ও চুলা, আর শুকানোর খোলা জায়গা। আলাদা কারখানা লাগে না, কাজ হয় বাড়ির উঠানেই।যন্ত্রপাতি
- মুর্তা বা পাইত্রা গাছের ডগা। বাজারে এক পোন (৮০টি) লম্বা ডগা ৳৭০০–৮০০। গাছ পরিপক্ব হতে প্রায় এক বছর লাগে, আর বরিশালের বাকেরগঞ্জসহ কয়েক জায়গায় পাইত্রা বাগান কমে আসছে।শুরুর মাল
- ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের অনুমোদিত ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধন — শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন ২০১৩ অনুযায়ী। ‘বাংলাদেশের শীতলপাটি’র জিআই নিবন্ধনের সনদ পেয়েছে বিসিক (২০২৩)। ব্যবহারকারী নিবন্ধনের ফি ও শর্ত ডিপিডিটি থেকে জেনে নিতে হবে; এই সনদে বাজারে বাড়তি দাম মেলে না।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। নিয়মিত পাইকারি সরবরাহ বা দোকান দিলে লাগে। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০।লাইসেন্স
- বেতি তোলা ও বুনন — এটাই আসল পুঁজি। একটি ডগা থেকে সাধারণত ১০–১২টি বেতি ওঠে, দক্ষ কারিগর ১৮–২০টি তোলেন। নকশা তোলা আলাদা দক্ষতা; দাবার ছক বা চামার কাঁটার মতো নকশা কম কারিগরই পারেন।দক্ষতা
- আড়তদার ও মহাজন — চৈত্রের শেষে এঁরাই বায়না দেন। এ ছাড়া বৈশাখী মেলার পাইকার, ঢাকার দোকান ও ডিজাইনার, আর বড় ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার।সরবরাহকারী
- বাড়ির উঠান ও একটি শুকনো ঘর, আর কাছে পানি। হরেন্দ্র কুমার দাশ তাঁর ঠাকুরদার আমলের ৮০ বছরের পুরোনো পুকুরেই মুর্তা ও বেতি ভেজান।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কাঁচামালের ব্যবস্থা আগে করুন। মুর্তা বা পাইত্রা গাছ পরিপক্ব হতে প্রায় এক বছর লাগে; নিজের জমিতে বাগান না থাকলে বাজার থেকে কিনতে হয়, এক পোন অর্থাৎ ৮০টি লম্বা ডগা ৳৭০০–৮০০।
- 2ডগা চিরে বেতি তোলা শিখুন। সাধারণত একটি ডগা থেকে ১০–১২টি বেতি ওঠে; হাত যত ভালো, বেতি তত বেশি ও সরু হয়, আর কাঁচামালের খরচ তত কমে।
- 3বেতি ভাতের মাড় ও পানির মিশ্রণে সাত-আট দিন ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রোদে শুকান। এই ধাপে তাড়াহুড়ো করলে বেতি ভেঙে যায়।
- 4নকশার জন্য কিছু বেতি জ্বাল দিয়ে রং করুন। রং করা আর রং ছাড়া বেতি মিলিয়েই নকশা ওঠে।
- 5মাপ ঠিক করে বুনন শুরু করুন। সাধারণ পাটি চার-পাঁচ দিনে নামে, নকশাদার সূক্ষ্ম পাটিতে ১৫–২০ দিন লাগে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ৭ ফুট বাই ৫ ফুট মাপের পাটি।
- 6চৈত্র মাসের শেষে আড়তদারের কাছ থেকে বায়না নিন। ওই সময়ই বোঝা যায় বৈশাখে কত পাটি চলবে, আর সেই অনুযায়ী কাঁচামাল কিনতে হয়।
- 7বৈশাখী মেলার জন্য আগেভাগে মাল তৈরি রাখুন। বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রি হয় বৈশাখে — ১২ বৈশাখে চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলার মেলায় ঝালকাঠির এক পাইকারই প্রায় দুই কোটি টাকার পাটি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
- 8দাদন নেওয়ার আগে ভাবুন। কারিগরেরা আর্থিক সংকটে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেন, আর তার ফলেই কম দামে মহাজনের কাছে পাটি বেচতে বাধ্য হন। একবার দাদনে ঢুকলে দাম আর আপনার হাতে থাকে না।
- 9শুধু বিছানার পাটিতে আটকে থাকবেন না। মুর্তা দিয়ে টেবিল ম্যাট, ওয়ালমেট, জায়নামাজ, ব্যাগ, ফাইল ফোল্ডার, কলমদানি, ছবি ও আয়নার ফ্রেম বানানো হয়; ঢাকার ডিজাইনার ও দোকান থেকে এসব জিনিসেরই বায়না আসে।
- 10ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, আর জেলার বিসিক কার্যালয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের খোঁজ নিন — বিসিকই এই পণ্যের জিআই নিবন্ধন করিয়েছে।
- 11জিআই বা ইউনেসকোর স্বীকৃতিকে দামের ভিত্তি ধরবেন না। ২০১৭ সালের ইউনেসকো স্বীকৃতি আর ২০২৩ সালের জিআই সনদের পরেও ২০২৬ সালে কারিগরেরা বলছেন সরকারি সহায়তা নেই এবং দাম বাড়েনি। আগে ক্রেতা ঠিক করুন, তারপর মাল বানান।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেবেশি
- জুনবেশি
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেকম
- ডিসেকম
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীঝালকাঠি · এখনো সবচেয়ে সচল ক্লাস্টার। রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও ডহরশঙ্কর গ্রামে ঘরে ঘরে পাটি বোনা হয়, চৈত্রের শেষে আড়তদারের বায়না আসে, আর বড় ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে এখানকার পাটি মধ্যপ্রাচ্যেও যায়।
- খুব উপযোগীসিলেট · শীতলপাটির ঐতিহাসিক ঘর — বালাগঞ্জ উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের পাটি মোগল রাজদরবার ও ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়ার রাজসভা পর্যন্ত গিয়েছিল। তবে বালাগঞ্জের পুরোনো পাটির বাজারটি আর বসে না।
- সম্ভববরিশাল · বাকেরগঞ্জে শীতলপাটির প্রধান কাঁচামাল পাইত্রার বাগান আছে — কাঁচামালের দিক থেকে সুবিধাজনক, যদিও বাগান কমে আসছে।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · বিক্রির সবচেয়ে বড় জায়গা। ১২ বৈশাখে জব্বারের বলী খেলার মেলাকে ঘিরেই বছরের বড় বিক্রিটা হয় — এক পাইকারই প্রায় দুই কোটি টাকার পাটি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
- সম্ভবঢাকা · বায়নার বাজার। ঢাকা থেকে আসা বায়নাই অনেক কারিগরের একমাত্র উপার্জন, আর ধানমন্ডিতে শীতলপাটি নিয়ে ফ্যাশন প্রদর্শনী পর্যন্ত হয়েছে।
- সম্ভবহবিগঞ্জ · সিলেট বিভাগের যে এলাকাগুলোতে পাটি বোনার চল ছিল তার একটি; কাঁচামাল স্থানীয়ভাবেই মেলে।
- সম্ভবমৌলভীবাজার · রাজনগরের ধুলিজুড়ায় জাতীয় মানের কারিগর এখনো আছেন — হরেন্দ্র কুমার দাশ ইউনেসকোর সম্মেলনে পাটি বুনে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু শতাধিক পরিবার থেকে নেমে এসেছে চার-পাঁচটিতে, বাকিরা দিনমজুর।
- সম্ভবপিরোজপুর · কাউখালীর শীতলপাটির কদর দেশের বাইরেও আছে, আর ঝালকাঠির ক্লাস্টারের গা ঘেঁষা বলে একই আড়ত ও পাইকার কাজে লাগে।
- সম্ভবসিরাজগঞ্জ · কামারখন্দে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির কাজ ছিল, তবে তা বিলুপ্তির পথে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
- সম্ভবসুনামগঞ্জ · হাওরাঞ্চলে মুর্তা জন্মায় আর পুরোনো পাটিকর পরিবার আছে, তবে কাজ কমে এসেছে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- কমআইনি বাধ্যবাধকতা: লাইসেন্স নিয়ে ঝামেলা কম — ট্রেড লাইসেন্সই যথেষ্ট। কিন্তু জিআই পণ্যের অনুমোদিত ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধন করতে চাইলে ডিপিডিটিতে আলাদা আবেদন লাগে, আর তার ফি ও শর্ত কোথাও প্রকাশ করা নেই। নিবন্ধন ছাড়া 'জিআই পণ্য' লিখে বিক্রি করা ঠিক নয়।
- বেশিচাহিদা: স্বীকৃতি আছে, ক্রেতা নেই। ২০১৭ সালে ইউনেসকো শীতলপাটির বুননশিল্পকে নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, ২০২৩ সালে বিসিক জিআই নিবন্ধনের সনদ পেয়েছে। তবু প্লাস্টিকের পাটি আর বৈদ্যুতিক পাখার কাছে শীতলপাটির প্রয়োজনই ফুরিয়ে গেছে; এখন শৌখিন কেউ কেউ টেবিল ম্যাট বা দেয়ালসজ্জা হিসেবে কেনেন। কারিগর হরেন্দ্র কুমার দাশের কথায়, ৬–৭ হাজার টাকার কমে তাঁদের খরচে পোষায় না, আবার ওই দামে এখন আর কেউ কিনতেও চায় না। জিআই ধরে দামের পরিকল্পনা করলে ভুল হবে।
- বেশিনির্ভরশীলতা: দাদনই কারিগরকে বেঁধে রাখে। ঝালকাঠির পাটিকর কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলছেন, এই শিল্পে কোনো সরকারি সহায়তা নেই, আর আর্থিক সংকটে কারিগরেরা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে কাজ করেন বলে কম দামে তাঁর কাছেই পাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। সহজ ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় এই চক্র থেকে বেরোনোর পথ নেই।
- বেশিঅন্যান্য: কারিগরেরা পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। মৌলভীবাজারের রাজনগরের ধুলিজুড়ায় একসময় শতাধিক পরিবার পাটি বুনত, এখন সেই সংখ্যা চার-পাঁচটি। বালাগঞ্জে মদনমোহন আখড়ার পাশে বটগাছের তলার জমজমাট পাটির বাজারটি আর বসে না। প্রমেশ চন্দ্র দাসের মতো শিল্পীরা এখন ঝোপঝাড় পরিষ্কারের দিনমজুরি করেন। কারিগর কমে গেলে নতুন করে শেখানোর লোকও থাকে না।
- মাঝারিচলতি মূলধন: আয় আসে বছরে কয়েক সপ্তাহ। ঝালকাঠির পাটিশিল্পী আঁখি রানী বলছেন, বৈশাখের শীতলপাটির আয় দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে, আর চৈত্রের শেষে আড়তদারের বায়না পেয়ে বোঝা যায় এবার কত পাটি চলবে। মেলা ঠিকমতো না জমলে গোটা বছরের হিসাব ওলটপালট হয়ে যায় — পাইকার জুবাল চন্দ্র মেলার অব্যবস্থাপনা নিয়ে সেই শঙ্কার কথাই বলেছেন।
ভিডিও ও সাক্ষাৎকার
২:৩২
৯:০৩শীতল পাটি তৈরির বেত চাষ করে লক্ষাধিক টাকা আয়।
কৃষিবার্তা Krishibarta
৫:২৭
৩:৩৭পাটিহাটী হাট থেকে টাংগাইলের শত শত বছরের ঐতিহ্য শীতল পাটির পাইকারি দাম জানুন। Shitol pati making
BD Furniture Express 2.0
১৪:১৬এই ব্যবসার গল্প
কোভিডের আগে মাসে লাখ টাকার পাটি, এখন ৩০–৪০ হাজারও নয়
চল্লিশ বছরের এক পাটিকরের মাসিক বিক্রি ১ লাখ টাকা থেকে নেমেছে ৩০–৪০ হাজার টাকার নিচে, কারিগর ৩০ জন থেকে ৫ জনে। কারিগর হিসেবে দিনে আয় ২০০–৩০০ টাকার বেশি হতো না, তাই অনেকে পেশা বদলেছেন।
- কারণ
- দক্ষতার ঘাটতি, চাহিদা কম
কোথায় কিনবেন
বাংলাক্রাফট
হস্তশিল্প প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সমিতি — নমুনা প্রদর্শনী, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ ও রপ্তানির কাগজপত্রে সহায়তা দেয়।
Fare Diya Complex (3rd Floor), 11/8/E, Free School Street, Panthapath, Dhaka-1205, ঢাকা৬টি ব্যবসায় কাজে লাগে
বাংলাক্রাফট
হস্তশিল্পের উৎপাদক, সরবরাহকারী ও রপ্তানিকারকদের সমিতি; কাঁচামাল ও ক্রেতা খুঁজতে সদস্যদের তালিকা কাজে লাগে।
Fare Diya Complex (3rd Floor), 11/8/E, Free School Street, Panthapath, Dhaka-1205, ঢাকা৬টি ব্যবসায় কাজে লাগে
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপকাগজের ঠোঙা ও প্যাকেজিং
বর্জ্য কাগজ কিনে হাতে ঠোঙা বানিয়ে দোকানে সরবরাহ। খাকি ঠোঙা কেজি ৳১৩৫–১৪০, সাদা ৳৮০; ৬০ কেজি কাগজে সাড়ে ৭ হাজার খরচে ৭০ কেজি ঠোঙা, লাভ ২,৩০০ টাকা।
- পুঁজি
- ৳১০ হাজার – ৳৬০ হাজার
- জনবল
- ১ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৩ – ১৫ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপবাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প
বাঁশ-বেত চিরে কুলা, ঝুড়ি, খাঁচা ও পর্যটকের কারুপণ্য বোনা। একটি ভালো বাঁশ ৳৪০০–৫০০, তা থেকে পাঁচ দিনে ১৫–২০টি কুলা; হাঁস-মুরগির খাঁচা কারিগর পান ৳১৮০, দোকানি বেচেন ৳২০০।
- পুঁজি
- ৳১০ হাজার – ৳১ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ৫ – ৩০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপসাইকেল ও রিকশা মেরামত
রাস্তার পাশে ছোট দোকানে সাইকেল, রিকশা ও ই-রিকশা মেরামত। যন্ত্রপাতি ও মালের দাম মিলিয়ে ৳১৫,০০০ থেকেই শুরু করা যায়, আর খদ্দের কাজ শেষে নগদ টাকা দিয়ে যান।
- পুঁজি
- ৳১৫ হাজার – ৳১.২ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপব্লক-বাটিক ও টাই-ডাই
ঘরে বসে সুতি কাপড়ে মোম ও রং দিয়ে বাটিক-টাই-ডাইয়ের শাড়ি ও থ্রি-পিস তৈরি। কুমিল্লার দোকানে বাটিক শাড়ি ৳৫০০ থেকে ৳১,৭০০; একজন কারিগর দিনে প্রায় ১০টি শাড়ি করতে পারেন।
- পুঁজি
- ৳৫ হাজার – ৳৫০ হাজার
- জনবল
- ১ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
