স্ত্রীর জমানো ৯০ হাজার টাকায় অনলাইন জুতার ব্যবসা, এখন ৯০ কর্মী ও বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকার লেনদেন
দুই চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রী ৯০ হাজার টাকা নিয়ে অনলাইনে জুতা বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে অন্যের দোকানের জুতার ছবি তুলে বিক্রি, পরে নিজস্ব ব্র্যান্ড ও দুটি শাখা।
২০২১ সালে স্ত্রীর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে এক দম্পতি ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রীর জমানো ৯০ হাজার টাকা পুঁজি করে দুজন চাকরি ছেড়ে অনলাইনে জুতা বিক্রি শুরু করেন। স্বামী শুরুতে চাকরি না ছেড়ে রাতে এলিফ্যান্ট রোডে যেতেন; প্রায় ৩০টি দোকানে প্রস্তাব দেন, তিনি জুতার ছবি তুলে ফেসবুকে বেচবেন, অর্ডার এলে টাকা দিয়ে জুতা কিনে পাঠাবেন। ২৮টি দোকান ফিরিয়ে দেয়, দুটি রাজি হয়। দিনে দুই-তিন জোড়া থেকে বিক্রি বেড়ে ১৫ জোড়া হলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের চিন্তা আসে। এরপর এক জুতা কারখানার মালিকের কাছে তাঁর পছন্দের কর্ড কাপড়ে ১০ জোড়া বানান; ছবি দেওয়ার এক ঘণ্টায় সব বিক্রি হয়ে যায়, কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই। চার মাসের মাথায়, ২০২২ সালের মার্চে, নিজের অফিস ও ওয়্যারহাউস নেন। একদিন কারখানার মালিক জানান, বাজারে টাকা আটকে থাকায় কারখানা বন্ধ করতে হবে; তখন তাঁকে নিজেদের কাজ করতে বলেন। এখন প্রায় ৯০ কর্মী কাজ করেন, ধানমন্ডি ও বনানীতে দুটি শাখা আছে, বছরের লেনদেন প্রায় আট কোটি টাকা। আরও দুটি শাখার ইচ্ছা আছে।
যা শেখার আছে
- ১.মজুত না করে অন্যের দোকানের জুতার ছবি দিয়ে বিক্রি শুরু করলে কম পুঁজিতে চাহিদা যাচাই করা যায়।
- ২.অন্যের ব্র্যান্ডের জুতার ওপর নির্ভর থাকলে নিজের নাম গড়া যায় না; নিজস্ব নকশায় ছোট ব্যাচ বানিয়ে পরীক্ষা করাই ছিল মোড় ঘোরানো ধাপ।
- ৩.ছোট কারখানা সরবরাহকারী হিসেবে টাকা আটকে ঝুঁকিতে পড়তে পারে; নিয়মিত অর্ডারের বিনিময়ে তাঁকে টিকিয়ে রাখা কাজে দিয়েছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
