জুতা ও ব্যাগের দোকান
জুতা, স্যান্ডেল, স্কুলব্যাগ ও বেল্টের খুচরা দোকান। স্কুল জুতা ৳৫৫৯–১,৯৯৯, স্কুলব্যাগ ৳২৭৯–৯৯৬। মাপ না মেলা জুতাই এখানে সবচেয়ে বড় লোকসান।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

জুতা ও ব্যাগের দোকান
- শুরুর পুঁজি
- ৳২,০০,০০০ – ৳৯,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১৫ – ৪৫ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৭ – ১৫ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · সহজ
ব্যবসাটি সম্পর্কে
জুতা, স্যান্ডেল, স্কুলব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ আর বেল্ট একসঙ্গে বিক্রির দোকান। দেশের ছোট পাদুকা কারখানাগুলো যা বানায়, তার একটা বড় অংশ এই দোকানের তাকেই ওঠে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দারাজের তালিকায় ব্র্যান্ডের নিজের দোকান বাটার স্কুল জুতা ৳৫৫৯ থেকে ৳১,৯৯৯, বাটার ফ্লিপ-ফ্লপ ৳১২০–২৩৯, ওয়াকারুর ক্লগস ৳৫০৪–৫৯৭ আর লত্তোর স্লাইড ৳৬৯৫ টাকায় ছিল। ব্যাগের দিকে স্কুলব্যাগ ৳২৭৯–৯৯৬ আর মেয়েদের হ্যান্ডব্যাগ ৳২৯৯–১,৬০৪। বেল্ট সবচেয়ে সস্তা — কৃত্রিম চামড়ার বেল্ট ৳১৩৪ থেকে শুরু, আর আসল চামড়ার হলে ৳৯৭৯। এই ব্যবসার আসল খেলা মাপ আর নকশায়। জুতা সাইজ ধরে বিক্রি হয়, তাই এক ডিজাইনের বারো জোড়া তুলেও মাঝের সাইজগুলো আগে ফুরিয়ে যায় আর দুই প্রান্তের সাইজ পড়ে থাকে। ওই পড়ে থাকা জোড়াগুলোই লাভ খেয়ে ফেলে। ব্যাগে এই সমস্যা নেই — মাপ লাগে না, তাই ব্যাগ অনেক দোকানের ভরসা। বিক্রি বছরজুড়ে সমান নয়। জানুয়ারিতে স্কুল খুললে জুতা আর ব্যাগ দুটোরই চাহিদা এক ধাক্কায় বাড়ে, দুই ঈদের আগে আবার বাড়ে, আর বর্ষায় প্রায় থেমে যায়। কাদা-পানির মাসগুলোতে মানুষ চামড়ার জুতা কেনে না, প্লাস্টিক স্যান্ডেল কেনে — মাল তোলার সময় এই কথাটা মনে রাখতে হয়।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮০,০০০ – ৳৩,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১২০ – ৳১,৯৯৯ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৯০ – ৳১,৪০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২৫% – ৩০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১৫ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৭ – ১৫ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৩ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩% – ৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৮ – ৩৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- দেয়ালের তাক, আয়না, বসার টুল, জুতার শিং, মাপার ব্যবস্থা আর কাচের শোকেস। বর্ষায় বাক্স ভেজা মেঝে থেকে দূরে রাখার জন্য নিচের তাক উঁচু হওয়া দরকার।যন্ত্রপাতি
- প্রতিটি ডিজাইনে সাইজের সেট। মাঝের সাইজ বেশি আর দুই প্রান্তের সাইজ কম — না হলে অবিক্রীত জোড়ায় টাকা আটকে যায়। ব্যাগ ও বেল্টে সাইজের ঝামেলা নেই বলে সেগুলো ঝুঁকি কম।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কর্মদিবসে হয়।লাইসেন্স
- অন্তত দুটি পাইকারি উৎস — ছোট পাদুকা কারখানা বা পাইকারি বাজার। এক উৎসে আটকে গেলে দাম ও ডিজাইন দুটোতেই তাদের শর্ত মানতে হয়।সরবরাহকারী
- স্কুল, কলেজ বা বাজারের মুখে ছোট দোকান। দেয়ালজুড়ে তাক লাগবে, কারণ জুতা সাজিয়ে না রাখলে বিক্রি হয় না — আর গুদামের জন্য পেছনে বা উপরে জায়গা লাগবে বাক্সগুলো রাখতে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1স্কুল, কলেজ বা বাজারের গেটের কাছে দোকান খুঁজুন। জুতা-ব্যাগ হাঁটতে হাঁটতে কেনা জিনিস, তাই লোক চলাচলই সব।
- 2সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন।
- 3কোন পাইকারি বাজার থেকে মাল তুলবেন ঠিক করুন, আর অন্তত দুটো উৎস রাখুন — একটির দাম বাড়লে অন্যটিতে যাওয়া যায়।
- 4প্রথম মাল তোলার সময় কমদামি ও মাঝারি দামের জিনিস বেশি রাখুন। দামি জুতা দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু নতুন দোকানে সেটা মাসের পর মাস পড়ে থাকে।
- 5প্রতিটি ডিজাইন কত সাইজে তুলবেন তা আগে ঠিক করুন। মাঝের সাইজ বেশি, দুই প্রান্তের সাইজ কম — এই নিয়ম না মানলে তাক ভরে থাকবে অথচ চাহিদার মাপ থাকবে না।
- 6জুতার পাশাপাশি ব্যাগ ও বেল্ট রাখুন। ব্যাগে সাইজের ঝামেলা নেই, তাই যে টাকাটা জুতার অবিক্রীত সাইজে আটকে যায়, ব্যাগে সেটা হয় না।
- 7একটা বসার টুল, আয়না আর জুতার শিং রাখুন। জুতা না পরে দেখে কেউ কেনে না, আর দাঁড়িয়ে পরতে গিয়ে বিরক্ত হলে বেরিয়ে যায়।
- 8জানুয়ারিতে স্কুল খোলার আগে স্কুল জুতা ও স্কুলব্যাগের মজুত বাড়ান। বছরের সবচেয়ে নিশ্চিত বিক্রি ওই কয় সপ্তাহে।
- 9বর্ষার আগে চামড়ার জুতা কম তুলুন, প্লাস্টিক ও রাবারের স্যান্ডেল বেশি তুলুন। কাদার মাসে চামড়া বিক্রি হয় না, আর পড়ে থেকে ছাতা পড়ে।
- 10প্রতি দুই-তিন মাসে পড়ে থাকা সাইজ ও পুরোনো ডিজাইন কম দামে ছেড়ে দিন। যে জুতা ছয় মাস পড়ে আছে, তা এক বছরেও বিক্রি হবে না — টাকাটা বের করে আনাই লাভ।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীব্রাহ্মণবাড়িয়া · হাতে তৈরি পাদুকার পুরোনো এলাকা; স্থানীয় কারখানা থেকে ছোট পরিমাণে মাল তোলা যায়, যা নতুন দোকানের জন্য সুবিধা।
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বড় শহর, স্কুল-কলেজের ঘনত্ব বেশি আর আমদানি করা ব্যাগ-জুতাও এখানে আগে পৌঁছায়।
- খুব উপযোগীঢাকা · সবচেয়ে বড় খুচরা বাজার আর পাইকারি উৎসও কাছে; একই দিনে মাল তুলে ফেরা যায়, তাই মজুত কম রেখেও চালানো যায়।
- খুব উপযোগীকিশোরগঞ্জ · ভৈরব দেশের অন্যতম পুরোনো পাদুকা শিল্প ক্লাস্টার; কারখানার গেট থেকেই মাল তোলা যায় বলে মাঝের পাইকারের মুনাফা বেঁচে যায়।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের উপজেলার দোকানদারও এখান থেকে মাল নেয়।
- সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপরে, তাই দুই দিক থেকেই মাল আনা যায়; জেলা শহরে স্কুলের সংখ্যাও বেশি।
- সম্ভবগাজীপুর · কারখানার শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকা; কম দামের স্যান্ডেল ও ব্যাগের নিয়মিত চাহিদা আছে, তবে দামি জিনিস চলে না।
- সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি আর ঢাকার পাইকারি বাজার এক ঘণ্টার পথ।
- সম্ভবরংপুর · বিভাগীয় শহর, তবে ক্রয়ক্ষমতা কম — কম দামি প্লাস্টিক ও রাবারের স্যান্ডেলে বিক্রির ভর।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বেশি, তাই দামি ব্র্যান্ডের জুতা ও ব্যাগও চলে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: জুতা সাইজ ধরে বিক্রি হয়, আর এখানেই টাকা মরে। এক ডিজাইনে ১২ জোড়া তুললে মাঝের সাইজ কয়েক সপ্তাহে চলে যায়, আর দুই প্রান্তের দুই-তিন জোড়া মাসের পর মাস পড়ে থাকে। ওই পড়ে থাকা জোড়াগুলো দোকানের নগদ টাকা গিলে ফেলে, আর ছাড় দিয়ে ছাড়তে গেলে কেনা দামেই বেচতে হয়। এক বছরে কয়েকশ জোড়া এভাবে জমে গেলে নতুন মাল তোলার টাকা আর থাকে না।
- বেশিচাহিদা: বিক্রি বছরজুড়ে সমান নয়, আর খারাপ মাসগুলো টানা আসে। বর্ষায় মানুষ চামড়ার জুতা কেনে না, প্লাস্টিকের স্যান্ডেলে চালিয়ে দেয় — তখন গড় বিক্রির দাম নেমে যায় আর দোকানের ভাড়া সেই ভাবেই চলতে থাকে। ঈদের আগের দুই-তিন সপ্তাহ আর জানুয়ারিতে স্কুল খোলার সময় যা বিক্রি হয়, বছরের বাকিটা তার ধারেকাছেও যায় না, তাই ওই কয় সপ্তাহে মাল কম পড়লে পুরো বছরটাই খারাপ যায়।
- মাঝারিনষ্ট হওয়া: মাল পচে না, কিন্তু নষ্ট হয়। চামড়া ও রেক্সিনের জুতা-ব্যাগে বর্ষায় ছাতা পড়ে, আঠা ছেড়ে দেয় আর সোল শক্ত হয়ে ফেটে যায়। যে জুতা এক মৌসুম গুদামে পড়ে থাকল, পরের মৌসুমে সেটা নতুন হিসেবে বিক্রি করা যায় না — নকশাও পুরোনো হয়ে যায়।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: দোকানে যা আসে তা সবটাই বাইরে থেকে আসে — নিজের কিছু বানানোর সুযোগ নেই। পাইকার বা কারখানা ডিজাইন বদলালে, দাম বাড়ালে বা সরবরাহ দেরি করলে দোকানের কিছুই করার থাকে না। একটিমাত্র সরবরাহকারীর উপরে দাঁড়ালে ঈদের ঠিক আগে মাল না পাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
স্ত্রীর জমানো ৯০ হাজার টাকায় শুরু, বছরে লেনদেন ৮ কোটি
২০২১ সালে স্ত্রীর জমানো ৯০,০০০ টাকা দিয়ে ফেসবুক ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে জুতার ব্র্যান্ড শুরু; এখন ঢাকায় দুটি শোরুম, প্রায় ৯০ জন কর্মী আর বছরে লেনদেন প্রায় ৮,০০,০০,০০০ টাকা।
- পুঁজি
- ৳৯০ হাজার
- কারণ
- চাহিদা কম, ভালো মান
একই রকম আরও ব্যবসা
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাকসমেটিকস দোকান
ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ ও সাজসজ্জার পণ্য বিক্রির দোকান। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকায় অন্তত ১৮টি প্রসাধনী — সনদ ছাড়া বা কাগজবিহীন আমদানি করা মাল তুললে দায় দোকানদারের।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাচশমার দোকান
ফ্রেম আর লেন্স এনে দোকানে বসে চশমা বানিয়ে দেওয়া। একজোড়া সাধারণ চশমা ৳৬৪৯ থেকে ৳৫,৪০০ (অনলাইন দর, ২১-০৯-২০২৬)। বিএসটিআইয়ের কোনো সনদ লাগে না, ট্রেড লাইসেন্সই একমাত্র কাগজ।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাপোষা প্রাণীর খাবার ও সামগ্রীর দোকান
বিড়াল-কুকুরের আমদানি করা খাবার, লিটার ও সরঞ্জামের দোকান। শুকনো খাবার কেজিপ্রতি ৳৪৮৭ থেকে ৳১,৯০০ (২১-০৯-২০২৬)। খাবারে আমদানি শুল্ক ২৫%, আর চাহিদা এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসামাছের আড়ত
চাষির মাছ নিলামে তুলে কমিশনে বিক্রি। কমিশন প্রায় ৩ শতাংশ, আর চাষিকে ধরে রাখতে বিনা সুদে দাদন দিতে হয় — লাভটা আসলে ভলিউমে।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১২ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
