মাটির ব্যাংকের ৮ হাজার টাকায় অনলাইনে মসলা; ২২ দিনে প্রায় ১ লাখ, মাসে বিক্রি লাখখানেক
রাঙ্গুনিয়ার এক গৃহিণী করোনার সময় জমানো আট হাজার টাকায় গুঁড়া মসলা বানিয়ে ফেসবুকে বিক্রি শুরু করেন। এখন তাঁর ৫০০ জনের বেশি নিয়মিত ক্রেতা, এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের এক গৃহিণী বিয়ের পর মাটির ব্যাংকে খুচরা টাকা জমাতেন। ২০২০ সালে করোনায় ঘরবন্দী অবস্থায় সেই আট হাজার টাকা পুঁজি করে তিনি গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ, ধনে ও হলুদ কিনে শুকিয়ে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। একটি ফেসবুক পেজ খোলেন এবং মসলা কেনা, ধোয়া, শুকানো, ভাঙানো ও মোড়কজাত করার ভিডিও পেজ ও উদ্যোক্তাদের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেন। দেশের নানা জায়গা থেকে অর্ডার আসে; প্রথম দিনে ছয়জন মরিচের গুঁড়া চান, পরের ২২ দিনে আয় হয় প্রায় এক লাখ টাকা। এখন প্রতি মাসে লাখখানেক টাকার পণ্য বিক্রি হয়। নিয়মিত ক্রেতা ৫০০ জনের বেশি, প্রায় চার হাজার গ্রাহকের কাছে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। ঢাকার উত্তরা ও মিরপুর থেকে সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসে; হাটহাজারীর মিষ্টি মরিচের গুঁড়ার চাহিদা বেশি। তিনি হলুদ, ধনে, বিরিয়ানি মসলা, জিরা ও আতপ চালের গুঁড়াও বেচেন। স্থানীয়ভাবে কুরিয়ার না থাকায় চট্টগ্রাম নগরে গিয়ে পণ্য পাঠাতে হয়, এই বাড়তি খরচ ক্রেতার কাছ থেকে নিতে পারেন না। ভবিষ্যতে তিনি একটি কারখানা করতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.ক্রয়, শুকানো ও মোড়কজাত করার ভিডিও দেখালে অনলাইনে আস্থা তৈরি হয় এবং অর্ডার আসে।
- ২.কুরিয়ার সুবিধা না থাকলে পাঠানোর খরচ ও সময় বেড়ে যায়; দাম নির্ধারণে তা ধরে নিন।
- ৩.আট হাজার টাকার মতো ছোট পুঁজিতেও শুরু করা যায়, তবে বড় করতে কারখানার মতো ধাপে আরও পুঁজি লাগবে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
