৬০ শতকে ৫৫ হাজার টাকা খরচে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার গ্রীষ্মকালীন টমেটো বিক্রি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পতিত জমি বর্গা নিয়ে এক কৃষক গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে পুরো উপজেলায় প্রায় ৪০০ বিঘায় এই চাষ হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরঘেরা নাসিরনগর উপজেলায় এ বছর প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে বারি-৮ ও মঙ্গলরাজা জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হয়েছে, যার বেশির ভাগ বাড়ির আঙিনায়। কৃষি বিভাগ গ্রীষ্মকালীন সবজির উদ্যোক্তা তৈরি করছে এবং কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের কৃষক আবুল হাসেম ৬০ শতাংশ পতিত জায়গা মহাজনের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে আগাম জাতের টমেটো চাষ করেছেন। তাঁর খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা, আর এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পেরেছেন। পূর্বভাগ ইউনিয়নের ৮৫ বছর বয়সী কৃষক রমিজ মিয়া তিন ছেলেকে নিয়ে জমি থেকে পাকা টমেটো তুলছেন। তাঁর জমি সারা বছর পতিত পড়ে থাকত; মাস তিনেক আগে কৃষি অফিসের লোকজন গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষের কথা বললে তিনি ৪০ হাজার টাকা খরচ করে চারা রোপণ করেন। এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি হয়েছে। বাগান থেকেই আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি কেজি টমেটো পাইকারি ৮০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকের কথায়, উপজেলা থেকে এ বছর অন্তত ২০ কোটি টাকার টমেটো বাজারে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিক্রির অঙ্ক এখনো মোট বিক্রি, নিট লাভ নয়; প্রতিবেদনে শ্রমিক ও কীটনাশকসহ সব খরচের পূর্ণ হিসাব নেই।
যা শেখার আছে
- ১.সারা বছর পতিত থাকা জমি বর্গা বা নিজের হলে গ্রীষ্মকালীন জাতে নতুন আয়ের সুযোগ হতে পারে।
- ২.কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে জাত ও পদ্ধতি বেছে নিলে ঝুঁকি কমে।
- ৩.এ পর্যন্ত বিক্রি আর নিট লাভ আলাদা; শ্রমিক, ওষুধ ও পরিবহনসহ পুরো খরচ ধরে লাভ হিসাব করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
