আগস্টে আগাম টমেটো; ৫ কানিতে অন্তত ৪ লাখ টাকা লাভ, এক কানিতে ৪০–৫০ হাজারে ১.৬ লাখ বিক্রি
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলে চাষিরা এবার অক্টোবরের বদলে আগস্টে টমেটো লাগিয়ে বৃষ্টির পানি বের করার নালা কেটে ভালো ফলন পেয়েছেন। কেজি ৫০–৮০ টাকায় বিক্রি করে ধানের চেয়ে অনেক বেশি লাভ হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলের গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নে চাষিরা এবার ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করেছেন। অন্য বছর বৃষ্টি কম থাকায় অক্টোবরে চাষ শুরু হতো, এবার আগস্টের শুরুতেই চারা বসানো হয়, ভারী বৃষ্টির মধ্যেও। জমিতে পানি জমলে ফল ভালো হয় না, তাই খেতজুড়ে নালা কেটে পানি বের করা হয়েছে; শুষ্ক মৌসুমে একই নালা দিয়ে গাছের গোড়ায় সেচও দেওয়া যায়। প্রফিট আর্লি, দুর্জয় ও বাহুবলী জাতের চাষ হয়েছে, চার মাস পর ফল মিলছে। এক চাষি ৫ কানি (এক কানি ৪০ শতাংশ) জমিতে চাষ করে অন্তত ৪ লাখ টাকা লাভ করেছেন; আগে এ জমিতে ধান করে তেমন লাভ হতো না। আরেক চাষি ৮ কানিতে চাষ করে কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন; জমিতে লবণাক্ততা থাকায় এত ফলনের আশা করেননি। এক পরিবার এক কানিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পেয়েছে। কৃষি কার্যালয় জানায়, এবার ৯টি ইউনিয়নে ৪১৫ হেক্টরে টমেটো হয়েছে, যার ৩৫০ হেক্টর গন্ডামারা ও সরলে। কেউ কেউ তোলা শেষ করে আবার নতুন করে চাষের জন্য জমি তৈরি করছেন।
যা শেখার আছে
- ১.বর্ষায় আগাম চাষে খেতজুড়ে নিষ্কাশন নালা কাটা জরুরি; জমা পানিতে টমেটোর ফল নষ্ট হয়।
- ২.আগাম চাষে ঝুঁকি আছে, কারণ বৃষ্টিতে ক্ষতি হতে পারে; তাই চাষিরা আগেই পানি বের করার ব্যবস্থা করেছেন।
- ৩.ধানের চেয়ে টমেটোতে লাভ বেশি হলেও খরচও বেশি; এক কানিতে ৪০–৫০ হাজার টাকা ধরে হিসাব করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
